আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
107 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (12 points)
বরাবর
সম্মানিত মুফতি সাহেব
(হাফিযাহুল্লাহ)
বিষয়: ব্যবসায় বিনিয়োগের নির্দিষ্ট লাভ গ্রহণের শরয়ি বিধান সম্পর্কে জানার আবেদন।
মহোদয়,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছি। উক্ত বিনিয়োগের শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আমাকে তাদের মোট বিক্রয়ের উপর ১৪% হারে প্রফিট প্রদান করবে।
এই ব্যবস্থায় আরও একটি বিষয় হলো, প্রতি মাসে দোকান ভাড়া বাবদ ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা এবং দোকানের বাৎসরিক ভ্যাট আমাকে বহন করতে হবে। তবে এই দোকান ভাড়া ও ভ্যাটের টাকা আমাকে আলাদাভাবে দিতে হবে না; বরং প্রতিষ্ঠান যে ১৪% প্রফিট দেবে, সেই প্রফিটের টাকা থেকেই মাসিক দোকান ভাড়া ও ভ্যাট কেটে নেওয়া হবে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিক্রয়ের পরিমাণ কম বা বেশি যাই হোক না কেন, প্রফিটের হার নির্দিষ্টভাবে ১৪%। অর্থাৎ, বিক্রি যদি ১০ টাকা হয় তবুও তার উপর ১৪% প্রফিট, আবার বিক্রি যদি ৬০ লক্ষ টাকা হয় তাহলেও উক্ত বিক্রয়ের উপর ১৪% প্রফিট প্রদান করা হবে।
প্রতিমাসে বিক্রয়ের পরিমাণ কম হলে ১৪% প্রফিট থেকে দোকান ভাড়া (৪০,০০০ টাকা) পরিশোধ করতে গেলে আমার পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এ কারণে আমি প্রতি মাসে প্রফিট গ্রহণ না করে বছরে দুই বা তিনবার লভ্যাংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশেষ করে ঈদের মতো উপলক্ষে বিক্রি অনেক বেশি হলে, সেই সময়ের বিক্রয়ের উপর ১৪% প্রফিট গ্রহণ করে, সেখান থেকে মাসিক দোকান ভাড়া ও ভ্যাট বাদ দিয়ে অবশিষ্ট লাভ আমি গ্রহণ করবো।
এই হিসেবে যদি বছরে মোট বিক্রি ৬০ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে তার ১৪% হিসেবে মোট প্রফিট দাঁড়ায় প্রায় ৮,৪০,০০০ টাকা। সেখান থেকে বার্ষিক দোকান ভাড়া বাবদ মোট ৪,৮০,০০০ টাকা (প্রতি মাসে ৪০,০০০ টাকা হিসেবে) এবং ভ্যাট পরিশোধ করে অবশিষ্ট টাকা আমাকে প্রদান করা হবে।
এমতাবস্থায়, বিনীতভাবে জানার আবেদন এই যে, উপরোক্ত পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উপর নির্দিষ্ট হারে (১৪%) প্রফিট গ্রহণ করা এবং সেই প্রফিট থেকে দোকান ভাড়া ও ভ্যাট সমন্বয় করে লভ্যাংশ নেওয়া শরিয়তসম্মতভাবে আমার জন্য হালাল হবে কি না—দয়া করে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ফতোয়া প্রদান করে বাধিত করবেন।
আপনার মূল্যবান সময় ও দিকনির্দেশনার জন্য অগ্রিম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
একজনের টাকা এবং অপরজনের শ্রম, এরকম ব্যবসাকে শরীয়তে মুদারাবাহ ব্যবসা বলা হয়। মুদারবাহ ব্যবসা বৈধ। তবে শর্ত হল, পার্সেন্টিস হিসেবে চুক্তি হতে হবে। 

পার্সেন্টিছ হিসেবে উভয় চুক্তিকারী নিজ নিজ হিসসায় যতটুকুর জন্য সম্মত হবে, তারা ততটুকুই মুনাফা পাবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা বস্তুকে নির্দিষ্ট  করা জায়েয হবে না। 
قال صاحب الهداية: (وَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُونَ الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدُهُمَا دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً) مِنْ الرِّبْحِ لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يَقْطَعُ الشَّرِكَةَ بَيْنَهُمَا وَلَا بُدَّ مِنْهَا كَمَا فِي عَقْدِ الشَّرِكَةِ.(الهداية-3/226)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যদি মুদারাবার শর্ত মতে সে আপনাদেরকে মুনাফা দেয়, তথা আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় যদি শরীয়তের বিধান মত পার্সেন্টেজ আকারে চুক্তি হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদেরকে সে যে মুনাফা দেবে, সেই মুনাফা আপনাদের জন্য জায়েয হবে।  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/12438

কিন্তু নির্দিষ্ট এমাউন্টের মুনাফা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নির্দিষ্ট এমাউন্টের মুনাফা জায়েয হবে না।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে যেহেতু মুনাফা পার্সেন্টিজ আকারে লিপিবদ্ধ রয়েছে। বিক্রয় থেকেই মুনাফা। বিক্রয়ের পার্সেন্টিজ মানেই মুনাফার পার্সেন্টিজ।সুতরাং প্রশ্নের বিবরণমতে উক্ত লেনদেন বৈধ হবে। ভাড়া বাবৎ মাসিক ৪০ হাজার টাকা কেনইবা  শুধুমাত্র আপনাকেই দিতে হচ্ছে?  এটা তো আপনার উপর অন্যায় হবে। যাইহোক, যেহেতু আপনার সম্মতি রয়েছে, বিধায় এতে কোনো সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...