আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
192 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)

#Urgent please
আসসালামু আলাইকুম ওস্তাদ।আমি খুব পেরেশানিতে আছি।প্রশ্ন বড় হবে,অনুগ্রহ করে প্রশ্নের উত্তরগুলো সুন্দরভাবে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
প্রতি মাসের কিছুদিন/৪-৬ দিন [দিনের বা রাতের ৪-৫ ঘন্টা বা ৭-৯ ঘন্টা] আমার এমনভাবে অল্প অল্প সাদাস্রাব যায় যে আমি অজু করে ফরজ সালাতটুকুও আদায় করতে পারিনা।বারবার লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু করে ৩-৪ বার সালাত আদায় করতে যেয়ে ওয়াক্তই শেষ হয়ে যায়।এটা হওয়ার সময় টেরও পাওয়া যায় না,কিন্তু লজ্জাস্থানে হাত দিয়ে বুঝা যায়,পরিমাণে খুবই অল্প থাকে,কিন্তু তা জরায়ুর ছিদ্রের বাইরে চলে আসে,তবে শরীরের অন্য কোনো স্থান/কাপড়ে লাগে না।আমি ভালো করে পবিত্র হয়ে লজ্জাস্থান মুছে তারপর সালাতে দাঁড়াই,এটা আমার ওয়াসওয়াসা না,আসলেই খুব সামান্য স্রাব ছিদ্রের বাইরে চলে আসে।
মাজুরের মাসআলা আমি জানি,বেশ কিছুদিন ধরেই আমি অনেক ফতোয়া পড়েছি আপনাদের এই বিষয়ে।কিন্তু আমার এই অবস্থায় কী করনীয় আমি বুঝতে পারছিনা। ২টা অবস্থা বর্ণনা করছি।

অবস্থা (১):সালাত ছাড়া এমনিতে ১৫-২০ মিনিট শুয়ে বসে থাকলে এই সমস্যা হয় না।সালাতে উঠা-বসা করতে যেয়ে সমস্যা হয়।
১.১.আমি দাঁড়িয়ে হাল্কা ঝুকে রুকু,আর একটু বেশি ঝুকে ইশারায় সালাত আদায় করে দেখেছি অজু ভাঙেনি।
১.২.দাঁড়িয়ে কিরাত পড়ে রুকু আদায় করে চেয়ারে বসে সিজদা দিয়েছি,অজু ভাঙেনি।
১.৩.দাড়িয়ে সালাত আদায় শুরুর পর মাটিতে বসে সিজদা দেওয়ার পর বাকি ৩ রাকাত বসেই সালাত আদায় করেছি,অজু ভেঙে গেছে।
 হয়তো সিজদা দিতে গিয়ে এবং সিজদা শেষে দাঁড়ানোর সময় পেটে চাপ লেগে এই সমস্যা হয়।
১.৪.এভাবে দাড়িয়ে ইশারায় রুকু সিজদা দিলে দৃষ্টি কোন স্থানে রাখা লাগবে?

অবস্থা(২):লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু করে ছোট সূরা দিয়ে ফরজ সালাতটুকু আদায় করতে আমার ১৫-২০ মিনিট লেগে যায়।
নামায বাদে এই পুরো সময়টুকু চুপচাপ বসে থাকলেও সামান্য সাদাস্রাব যায়। যেহেতু মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময়ও পবিত্র থাকা যায় না, এই অবস্থায় কি আমি মাজুর হব?
যদি যোহরের ওয়াক্তে এমন মাজুর হই,এরপর আসর,মাগরিবে কমপক্ষে শুধু একবার হলেও এর আলামত দেখি।কিন্তু এশার সময় সুস্থ হয়ে যাই,তাহলে কি আগের নামায গুলা আবার কাজা আদায় করতে হবে? কিংবা আমি মাসের যেই কয়দিন সুস্থ থাকি তখন এই নামায গুলা কাজা করতে হবে?

সারা মাস তো আমার এমন অসুখ থাকে না।কিছুদিন এই সমস্যা হয়।নামাযের মাঝেও টের পাওয়া যায় না,সালাত শেষে হাত দিয়ে চেক করে দেখা যায়। এই অবস্থায় কীভাবে সালাত আদায় করব?সালাতের মাঝে তো প্রতি রাকাতে এভাবে হাত দিয়ে চেক করা সম্ভব না।
(৩)সাদাস্রাব শুধু ছিদ্রের বাইরে এসে আশেপাশে লেগে থাকে,কিন্তু লজ্জাস্থানের সীমানার বাইরে যায় না।স্রাব শুধু টিস্যু দিয়ে মুছে পবিত্র হওয়া যাবে?
ঢিলা কুলুখ তো শুধু টিস্যু দিয়ে নেওয়া জায়েজ।তাহলে সাদাস্রাব থেকে এভাবে পবিত্র হওয়া যাবে না পানি ছাড়া?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো,

شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-

শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

কোনো ব্যাক্তি মা'যুর প্রমানিত হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী ওয়াক্ত গুলোতে পুরো সময় উক্ত ওযর পাওয়া জরুরি নয়,বরং পরবর্তী প্রতি ওয়াক্তে এক বারও যদি উক্ত ওযর পাওয়া যায়,তাহলে সে মা'যুরই থাকবে।   
,
সুতরাং যদি কোনো একটি নামাযের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তথা  সম্পূর্ণ ওয়াক্ত আপনার এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে,উক্ত সমস্যা বন্ধ না হয়,বরং চলতেই থাকে,এই উযরের কারণে অল্প সময়ে ছোট সুরা দিয়ে হলেও ফরয নামায পড়া আপনার জন্য কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়,তাহলে আপনি মা'যুর। 
আপনি প্রতি ওয়াক্তের জন্য অযু করবেন,এই অযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের মধ্যে যত ইচ্ছা নামাজ আদায় করতে পারবেন।
(যদি অন্য কোনো অযু ভঙ্গকারী কিছু না পাওয়া যায়।)
,
পরবর্তী ওয়াক্তে আবার অযু করবেন
,
আর যদি আপনার ওযরটি এমন না হয়,তাহলে আপনি শরয়ী ভাবে মা'যুর প্রমাণিত হবেন না।

বিস্তারিত জানুনঃ  
,
মা'যুরের বিধান ইস্তেহাজা গ্রস্থ নারীর ন্যায়।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فَذَكَرَ خَبَرَهَا وَقَالَ " ثُمَّ اغْتَسِلِي ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ وَصَلِّي "

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তারপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সলাতের জন্য অযু করে সলাত আদায় করবে।
(আবু দাউদ ২৯৮.ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ ঋতুবতী নারীর হায়িযের ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে, হাঃ ৬২৪), আহমাদ (৬/৪২, ২৬২)

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم أَنْ تَنْتَظِرَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ

‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশের ইস্তিহাযা হলো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হায়িযের দিনসমূহে (সলাত ইত্যাদির জন্য) অপেক্ষা করার পর গোসল করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর অযু করে এক ওয়াক্ত সলাত আদায়ের পর রক্ত দেখা গেলে পরের ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অযু করে সলাত আদায় করতে বললেন।
(আবু দাউদ ৩০৫)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি মা'যুর নন। এক্ষেত্রে নামাজ চলাকালীন সময় স্রাব বের হলে আপনি সে সময় ওযু করে এসে বাকি নামাজ আদায় করবেন। এমতাবস্থায় পুরো নামাজ আপনাকে পুনরায় আদায় করতে হবে না।

(০২)
নামাজের শুরু ওয়াক্ত থেকে নিয়ে ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত যদি আপনার স্রাব বের হতেই থাকে,এই ওযরের কারণে অল্প সময়ে ছোট সুরা দিয়ে হলেও ফরয নামায পড়া আপনার জন্য কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়,সেক্ষেত্রে  আপনি মা'যুর। 

প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি মা'যুর নন।

(০৩)
এক্ষেত্রে স্রাব শুধু টিস্যু দিয়ে মুছে পবিত্র হওয়া যাবে।

তবে লজ্জাস্থানের সীমানার বাইরে গেলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (13 points)
টের পাওয়া না গেলে কীভাবে বুঝবে সালাতের মাঝে অজু ভেঙে গেছে?
সালাতের মাঝেই কি হাত দিয়ে চেক করবে?এতে সালাত ভেঙে যাবে না?
যদি অজু করে এসে সালাতে আবার সিজদা দিতে গিয়ে আর উঠাবসা করতে গিয়ে অজু ভেঙে যায়?এভাবে ৪রাকাত ফরজ নামায পড়তে যেয়ে কয়বার অজু করবে ওস্তাদ? 
by (770,460 points)
টের পাওয়া না গেলে আপনি প্রবল ধারনার উপর আমল করবেন।

আপনার যদি প্রবল ধারণা হয় অজু ভেঙ্গে যায়নি, সেক্ষেত্রে এভাবেই নামাজ শেষ করবেন।

তবে নামাজ শেষ করার পর যদি দেখেন যে সাদা স্রাব বের হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত নামাজ পুনরায় আদায় করবেন।

ওয়াক্তের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত আপনি যদি কোন ক্রমেই নামাজ পড়তে না পারেন,স্রাব যদি বের হতেই থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি মাজুরের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...