আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ উস্তায। 

১) আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫মাস। যেহেতু শ্বশুরবাড়ি গ্রামসাইডে,  খোলামেলা পরিবেশ, বিয়ের আগে আমি শর্ত দিয়েছিলাম - আমাকে পরিপূর্ণ পর্দার পরিবেশ করে দিতে হবে।(যার মধ্যে- উঠোনে বেড়া + ঘরের সাথে লাগোয়া বাথরুম + রান্নাঘরেই পানির কল লাগানো হোক;যাতে বাসন ধোয়ার জন্য বাইরে যেতে না হয়) চেয়েছিলাম - ননমাহরামের ছায়াও যাতে না মারাতে হয় এমনভাবে পর্দায় থাকব। তারা আমার দাবি মেনে নিতেই আমি বিয়েতে রাজি হই। কিন্তু বিয়ের পর দেখি - বাথরুমটা আমার বাবার জুরাজুরিতে করলেও বাকি কিছুই করেনি। এমনকি ঘরের দরজা-জানালায় পর্দা লাগানোর জন্য আমার মা-ই পর্দা কিনে দিছেন-সেগুলোও এখন পর্যন্ত লাগায়নি।  উঠোন পেরিয়ে অন্যঘরে গিয়ে রান্নার কাজ+ শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য কাজ করতে হয়, বাসন ধুতে অনেকদূর যেতে হয় যেটা রাস্তার সাইডে ; গেইট থাকলেও খোলাই থাকে -কতবার আমি কাজ করাকালীন পুরুষ ঢুকে গেছে। যখন আমার হাত-পা,চোখ খোলা। উঠোনেও সেইম সমস্যা হয়। উনারা কিছুই ভাবেন না, (তাদের মতে হিজাব পড়ছোই তো,  হিজাব পড়েই কত মহিলা বাজার সদাই, ক্ষেতেও কাজ করে, সব করে -তুমি এমন কেন?) আমি তো পরিপূর্ণ পর্দা করতে চেয়েছিলাম!তাদের এই উদাসীনতার কারণে এই পর্যন্ত বহুবার আমার পর্দার ক্ষতি হয়েছে। আল্লাহ আমাকে মাফ করুন। এই কষ্ট কেবল আমার রবই জানেন। আমার স্বামীকে কতকবার বলেও লাভ হয়নি। আমি পর্দার এই ক্ষতি মানতে পারছি না। 

 ২) আরেকটা বিষয়, বিয়ের আগে আমাকে বলা হয়েছে ছেলে পরহেজগার। ভালো চরিত্র। কিন্তু বিয়ের পর দেখলাম তার শুধু দাড়িটাই আছে, বাকি পরহেজগারি কোথায়? ঠেলেও নামাজে পাঠানো যায় না! আমার পর্দার দায়িত্ববোধ নেই, নিজের পর্দাও মানে না। পর-নারীদের সাথে একসাথে বসে থাকে, হাতাহাতিও হয়। আখলাকও ভালো না। মায়ের সাথে কী জঘন্য আচরণ! ভেবেছিলাম হয়ত জানেনা, কিন্তু সে তো সবই জানে - আল্লাহর কী বিধান, কী হুকুম। তবুও তুচ্ছ অজুহাত দেখিয়ে অমান্য করে। বলে কীনা ' দ্বীনের জন্য কি দুনিয়া ছেড়ে দিব?' অথচ সে যে, দুনিয়ার পিছনে ছুটছে দ্বীনকে ছেড়ে, আল্লাহর খুশি-অখুশির পরোয়া নেই। আমার ক্ষেত্রেও উদাসীন, না আমার মন বুঝে ; না আমার আবেগ অনুভূতি, দুঃখ-কষ্ট, কিছুই তাকে ছোঁয়না। তার কিছু আমার সাথে শেয়ার করেনা। আমি দ্বীনি জ্ঞানার্জন করতে চেয়েছি, তাতেও বাধা আসে। মানুষের সামনে আমার দোষ বলে, অপমান করে। তার কত অবহেলা সহ্য করেও মিশতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন আর পারছিনা । কোনো পরিবর্তন নেই, মনে বিতৃষ্ণা চলে আসছে। তার সাথে কিছুতেই আর থাকার ইচ্ছে নেই আমার। যার কাছে মানসিক শান্তি নেই, মনের মিল নেই, ঈমানের নিরাপত্তা নেই। দিন দিন এই বেদ্বীন পরিবেশে আমার ঈমানও যেন দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। এসব আমার পরিবারকে বললেও বুঝেনা। তাদের যে দ্বীনিবুঝ নেই। তাদের কাছে কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, দাড়ি আছে, কামাই আছে এই তো। বাকিসবের পরোয়া নাই। লোকে কী বলবে? কথা শুনাবে - সেজন্য তালাকও নিতে দিচ্ছে না। অথচ, তারা আমার ঈমানের ক্ষতি, আমার মানসিক কষ্ট বিবেচনা করলো না! আমার সুখ কীসে সেটা প্রাধান্য দিলো না। আমার এখন কী করণীয় উস্তায? আমাকে সুপরামর্শ দেয়ার অনুরোধ।  

আর আমি তার থেকে তালাক নিতে চাইলে  আমাকে কী করতে হবে জানাবেন, মিন ফাদ্বলিক। (বিঃদ্রঃ বিয়ের সময় আমার পুরো মোহরানা পরিশোধ করেনি। মাত্র ৫হাজার দিয়েছিল বিয়ের রাতে, সম্ভবত মোট ৪লাখ ছিল) 

 

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
হযরত উকবাহ ইবনে আমের রাযি থেকে বর্ণিত,
عن عقبة بن عامر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إياكم والدخول على النساء» فقال رجل من الأنصار: يا رسول الله، أفرأيت الحمو؟ قال: «الحمو الموت»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তোমরা গায়রে মহিলাদের ঘরে প্রবেশ থেকে বেঁচে থাকো।একজন আনসারি সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাঃ! দেবরের সম্পর্কে আপনি কি মনে করেন/কি হুকুম?রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,দেবর হল,মৃত্যু। (সহীহ বোখারী-৫২৩২)
(সহীহ বোখারীর বিশিষ্ট টিকাকার মুস্তাফা আল-বাগা বলেন, এখানে হামউন শব্দ দ্বারা স্বামীর সকল নিকটাত্মীয় পুরুষ উদ্দেশ্য। যেহেতু এদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ ও কথাবার্তাকে মানুষ তত গুরুত্ব সহকারে নেয় না, তাই এখানে ফিতনার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান।)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2674

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কখনো গায়রে মাহরামের সামনে মুখ খুলা রাখা যাবে না। গায়রে মাহরামের সাথে কথা বলা বা বসে খাবার গ্রহণ করা কোনোটাই জায়েয হবে না। নিরুপায় হলে পর্দাসম্মতভাবে নেকাব পরিহিত অবস্থায় গায়রে মাহরামের সামনে যাওয়া যাবে।

(২)
স্বামীর হেদায়েতের জন্য দু'আ করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...