আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
108 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি বেশী বিপদের মধ্যে আছি। উত্তরটা যত দ্রুত পারা যায় দিলে বড্ড ইহসান হতো। রমজান মাস তো তাই ইবাদত যেন করতে পারি।


আমি গত অক্টোবরে Trialon নামক একটা ইঞ্জেকশন দেই ডাক্তারের পরামর্শে। ডাক্তার বলসে ৩ সপ্তাহ পরপর মোট ৩ টা দিতে। মানে অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর, ৩ মাসে ৩ টা। নভেম্বরেরটা দেয়ার পর ডাক্তার আমাকে ডিসেম্বরে দিতে নিষেধ করে কারণ নাকি ডিসেম্বরে দিলে আমার পিরিয়ডের সমস্যা হবে। ডাক্তারের নিষেধ সত্বেও আমি ডিসেম্বরে দেই ৩ মাস পূরণ করার জন্য।
তো এই কারণে ডিসেম্বরে আমার পিরিয়ড হয় ৩৬ দিন পর এবং ১৭ দিনের বেশী রক্ত গেছে+লাল স্রাব গেছে।


আমার পিরিয়ডের অভ্যাস হচ্ছে সাধারণত প্রতি মাসে ২৪-২৯ দিন পর পর হয় এবং আলহামদুলিল্লাহ ৭ দিন করে থাকে।
জানুয়ারিতে পিরিয়ড হয় প্রায় ৩১ দিন পর এবং প্রায় ২৫ দিন রক্ত+লাল স্রাব যায়। মাঝে একটু বন্ধ থেকে আবার রক্ত যেতো।


এভাবে সমস্যা হচ্ছে যে কারণে নামায বাদ দিয়ে দেই।


এখন রমজান মাস। ফেব্রুয়ারী। আজ ৩০ তম দিন। এখনো পিরিয়ড হয় নাই। যেকোনো মূহুর্তে হয়ে যেতে পারে। একবার শুরু হলে কবে শেষ হবে জানি না। তাই জানতে চাই
১) এবার পিরিয়ড হলে আমি কতদিন পর ফরয গোসল করব? মানে কতদিন পর্যন্ত পিরিয়ড গণ্য করব?


২) ফরয গোসলের পরেও রক্ত বা লাল স্রাব গেলেও নামায পড়ব?
৩) প্যান্টে রক্তের দাগ লেগে গেলে ধুইলেও রক্তের দাগ না গেলে ওই প্যান্ট দিয়ে নামায পড়লে হবে? (প্যান্ট বেশি নাই আমার)


৪) বিছানার চাদরে বা তোশকে পিরিয়ডের রক্ত লেগে শুকিয়ে গেলে অনেক ঘষাঘষি করলেও না উঠলে কী করব? আর ওই রক্তের দাগওয়ালা বেডশিটে শুইলে শরীর এবং কাপড় নাপাক হয়ে যাবে? নাকি শোয়া যাবে? যে কাপড় পরিহিতা অবস্থায় রক্তের দাগওয়ালা বেডে শুবো ওই কাপড়ে নামায, কুরআন পড়লে হবে?


৫) রমজানের রোজার নিয়ত মাগরিবের পর করব? কিভাবে করব? কালকের রোজার নিয়ত আজ কতক্ষণের মধ্যে করা উচিত? মানে মাগরিবের পর করলে আগামীকাল রোজা রাখব এভাবে নিয়ত করব নাকি আজ রোজা রাখব এভাবে নিয়ত করব?


৬) ইফতারের আগে কী দুয়া পড়ে রোজা ভাংগতে হয়?


৭) পরিবারের কিছু মারাত্মক সমস্যার জন্য আমি মানসিকভাবে পাগলপ্রায় হয়ে আছি। এই প্রথমবার রমজান মাসেও একটা নামাযও পড়তে পারছি না। নামায না পড়লে আমার রোজা কি কবুল হবে? (পড়তে চেয়েও পারছি না কিন্তু পড়তে চাই)


প্লিজ দ্রুত উত্তর দিবেন কারণ যেকোনো সময় পিরিয়ড শুরু হয়ে যেতে পারে। উত্তর এর অভাবে বড় সমস্যায় পড়বো রোজা রাখা ও নামায পড়া নিয়ে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ أَنَّهَا أَمَرَتْ أَسْمَاءَ - أَوْ أَسْمَاءُ حَدَّثَتْنِي أَنَّهَا أَمَرَتْهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ - أَنْ تَسْأَلَ، رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَقْعُدَ الأَيَّامَ الَّتِي كَانَتْ تَقْعُدُ ثُمَّ تَغْتَسِلُ - صحيح 

উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আসমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অথবা আসমা-ই আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন যে, (পূর্বের হিসেব মতো) হায়িযের দিনগুলোতে অপেক্ষা করবে, তারপর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে গোসল করবে।
(আবু দাউদ ২৮১ নাসায়ী ২০১)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً وَإِنْ جَاوَزَ الْعَشَرَةَ فَفِي الْمُبْتَدَأَةِ حَيْضُهَا عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَفِي الْمُعْتَادَةِ مَعْرُوفَتُهَا فِي الْحَيْضِ حَيْضٌ وَالطُّهْرُ طُهْرٌ. هَكَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ.
«الفتاوى الهندية» (1/ 37)
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক।
যদি রক্তস্রাব দশদিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে প্রথমবার এ পরিস্থিতির সম্মুখিন মহিলার জন্য দশদিন হায়েয। আর কোনো এক সংখ্যায় আদত ওয়ালী মহিলার জন্য তার পূর্বের আদতই হায়েয় এবং বাদবাকী সময় তুহুর। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭,কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮,কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/7474

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনার পিরিয়ড যদি ১০ দিন অতিক্রম করে,সেক্ষেত্রে আপনি পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে হায়েজ ধরবেন। 

অন্যথায় যে কয়দিন ব্লিডিং হবে,সবকটি দিন হায়েজ হিসেবে ধরবেন। 

(০২)
ব্লিডিং যদি ১০ দিন অতিক্রম হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনার পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস যেহেতু সাত দিন হায়েজ আসা, সুতরাং ৭ দিনের পর ফরয গোসলের পরেও রক্ত বা লাল স্রাব গেলেও নামায পড়বেন।

(০৩)
আপনি যদি সেই প্যান্ট তিনবার ধৌত করেন, প্রত্যেকবার ভালোভাবে নিংড়য়ে নিনেন এক্ষেত্রে রক্তের চিহ্ন যদি চলে যায়, তবে দাগ সামান্য বাকি থাকে, এতেও সে প্যান্টে আপনার নামাজ হবে।

৪) ওই রক্তের দাগওয়ালা বেডশিটে শুইলে শরীর এবং কাপড় নাপাক হয়ে যাবেনা।

তবে আপনার শরীর বা কাপড় ভেজা হলে সেক্ষেত্রে শরীর বা কাপড়ে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে শরীর/কাপড় নাপাক হয়ে যাবে।

এমতাবস্থায় সেই কাপড়ে নামায পড়লে হবেনা।

(০৫)
রোযা রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দুআ শরীয়তে নাই। মনে মনে নিয়ত করলেই চলবে। মনে এ নিয়ত রাখলেই হবে যে আমি আগামি কাল রোযা রাখব। রোযা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়াই রোযার নিয়ত হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। 

(০৬)
এমনটি আবশ্যক নয়।
তবে দোয়া পড়া ভালো।

(০৭)
নামায না পড়লেও আপনার রোজা কবুল হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (7 points)
১) বিনয়ের সাথে জানতে চাই যে, একজন স্বনামধন্য, সবার পরিচিত আলেমকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ১ নাম্বারের উত্তর। উনি বলেছেন, "আপনি দশদিন পর নামাজ পড়বেন। যেহ্বতু আপনার ডেইট এলোমেলো হয়ে গেছে তাই সর্বোচ্চ সময়সীমা পার হবার পর নামাজ রোযা করবেন। " এখানে উত্তর পেলাম ৭ দিন। এখন কী করব আমি? :(
by (770,460 points)
আপনার পিরিয়ড যদি ১০ দিন অতিক্রম করে,সেক্ষেত্রে আপনি পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে হায়েজ ধরবেন। 

অন্যথায় যে কয়দিন ব্লিডিং হবে,সবকটি দিন হায়েজ হিসেবে ধরবেন। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 234 views
0 votes
1 answer 458 views
...