আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
77 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (8 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

১) আমার চাচা দেশের বাইরে থাকে।উনি ঐ দেশে শুনেছি একটা বাড়ি দেখাশোনা করেন, কেয়ারটেকার।চাচা দেশে আসার সময় যা যা আনেন আমাদের জন্য ঐগুলো ব্যবহার করা কি জায়েজ হবে?

যার বাড়ি দেখাশোনা করেন তার আয় হালাল কিনা তা তো জানা নেই।আবার চাচা যা এনেছেন তা হালাল টাকায় নাকি অন্য কোনো জায়গা থেকে পাওয়া হারাম টাকায় কিনেছেন তাও জানি না। এক্ষেত্রে কি করা যায়?ওনার দেওয়া একটা জায়নামাজ আছে আমার কাছে। কিন্তু ব্যবহার করতে ভয় লাগে।

২)উনি এবার আসার সময় আমার জন্য একটা মোবাইল এনেছেন। মোবাইলটা ঐ দেশে থেকে এনেছেন সেকেন্ড হ্যান্ড। এইসব সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনগুলো তো বেশিরভাগ ফোন‌ই চুরির মাল হয়। চাচা যে এই সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কিনে এনেছেন এটা ব্যবহার করা জায়েজ হবে আমার জন্য?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার চাচা দেশে আসার সময় যা যা আপনাদের জন্য আনেন, আপনাদের জন্য ঐগুলো ব্যবহার করা জায়েজ হবে।

(০২)
https://ifatwa.info/45951/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
জেনে শুনে চুরিকৃত সম্পদ ক্রয় করা জায়েজ নেই।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ    

وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ (سورة المائدة-2

অনুবাদ-তোমরা গোনাহ ও সীমালংঘনের ক্ষেত্রে কারো সহায়তা করো না।( সুরা মায়িদা-২)

রাসুল স. ইরশাদ করেছেন,

وفى سنن البيهقى الكبرى- عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه قال : من اشترى سرقة وهو يعلم أنها سرقة فقد اشرك في عارها واثمها ( سنن البيهقى الكبرى-كتاب البيوع، باب كراهية مبايعة من أكثر ماله من الربا أو ثمن المحرم، رقم-৫/৩৩৫

অনুবাদ-আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, নবীজি সা: বলেছেন যে, যে ব্যক্তি কোন চুরির বস্তু চুরির মাল জেনেও ক্রয় করে তবে সেও সেই অপরাধে এবং গোনাহে শরীক হবে।(সুনানে বায়হাকী-৫/৩৩৫)

★উপরোক্ত আয়াত এবং হাদিস থেকে এটা জানা গেল চুরি হওয়া মালামাল জেনে শুনে ক্রয় করা বৈধ নয়। কেননা এতে করে চোরকে উৎসাহ প্রদান সহযোগিতা করা হয়।

যে ব্যক্তি জেনে-শুনে তা ক্রয় করল সেও কবীরা গুনাহে শরিক হলো। উপরন্তু এ ক্রয়-বিক্রয় যেহেতু ভুয়া তাই না ক্রেতা এ পণ্যের মালিক হবে না বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে। এদের উভয়ের উপর ফরয,পণ্য মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া।
(আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/১১০)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
জেনে শুনে কোনো ক্রেতা তার চুরিকৃত পন্য ক্রয় করলে তাহা জায়েজ হবেনা।

তবে কেহ যদি অজান্তে চুরিকৃত পন্য ক্রয় করে ফেলে,সেক্ষেত্রে তার গুনাহ হবেনা।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি তো শতভাগ নিশ্চিত নন যে সেই মোবাইল চুরিকৃত।

সুতরাং আপনি উক্ত মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...