আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
84 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১/২০২৩ এর শেষের দিক থেকে আমার অনিয়মিত পিরিয়ড। ৪/৫/৬ মাস পরপর হয়। হলেও ফ্লো একেবারেই কম থাকে। প্রস্রাবের সময় কিছু ব্লাড বের হয়। প্যাড পরার দরকারই হয়না বলতে গেলে। অনেক সময় ৩/৪/৫ দিন থাকে।  অনেক সময় ২ দিন থাকে । তো আমি নামাজ পড়ি না, পরে দেখা যায় ৩ দিনের কম ছিল বা প্রস্রাবের সাথে ৩/৪ বার একটু ব্লাড গিয়েছে ২ দিন ধরে এরপর আর কোনো লক্ষণ নেই। এসব ক্ষেত্রে পিরিয়ড এর শুরু শেষ কিভাবে বুঝবো? নামাজ রোজার হিসাবই বা কিভাবে রাখবো?
২/ রোজায় আমার সাদাস্রাব হয় অনেক।  কখনো বলতে পারি, কখনো বলতেই পারিনা।  এক্ষেত্রে আমি প্যাড পরে এরপর টিস্যু পরে নামাজ পরে ফেলি,দেখাগেলো নামাজে হয়তো ডিসচার্জ হয়েছে। যেহেতু অল্প পরিমাণ আবার টের পাইনা, তাই নামাজ পড়ে ফেলি, শুধু শুধু বসে থেকে লাস্ট টাইমে শর্টকাটে নামাজ পরতে হবে এটা ভেবে। এক্ষেত্রে কি আমার নামাজ গুলো সঠিক হবে? কিভাবে বুঝবো কখন পড়তে হবে বা কখন ওয়েট করবো? এটার বিধান কি?

৩/ আমাদের হলে হুজুর এসে তারবীহ পড়ান। তো এক্ষেত্রে আমি প্যাড পরে টিস্যু পরে একটানা নামাজ পড়ে ফেলি। অনেক সময় টের পাই হয়তো ডিসচার্জ হচ্ছে( এটা মনে হয়, অনেক সময় চেক করে দেখি আসলে কিছুই না)  কিন্তু আমি রাকাত মিস হয়ে যাবে এজন্য একটানা নামাজ পড়ে ফেলি।  আমার নামাজ গুলো কি সঠিক হবে বা হয়েছে? এইসব ক্ষেত্রে কি বিধান বা করনীয় কি? সাদা স্রাব ড্রেসে লাগলে ওইটা চেঞ্জ করে নামাজ পরবো?

৪/ গত ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে হলুদ কালারের ডিসচার্জ অল্প দেখেছি, আমি ভেবেছি সাদা স্রাব ওই হিসাবে নামাজ রোজা করেছি। কারণ মনে হয়েছে পানি শূন্যতার দরুণ কালার চেন্জ হতে পারে। ২৭ তারিখ তারাবীহ পড়ার পর যে টিস্যু পরেছিলাম সেখানে বেশ ভালো পরিমান লাল ফ্লুইড ছিলো। এরপর বেশ কয়েকবার প্রস্রাবের সময় ফোঁটা ফোঁটা ব্লাড গিয়েছে। অনেকবার নরমাল প্রস্রাব ছিলো। তো আমি নামাজ রোজা করেছি এটা ভেবে যে ৩ দিন এর কম হলে শুধু শুধু মিস যাবে। ২৮ তারিখ ইফতারের আগে কালচে সবুজ কিছু ফ্লুইড গিয়েছে। ইফতারের পরও কয়েক ফোঁটা বের হয়েছে। এরপর পুরা রাত কিছুই বের হয়নি। আমি এশার নামাজ পড়ে ফেলেছি,তারাবীহ পড়িনি, আজকে  ১ তারিখ রোজাও রেখেছি। এখন দুপুরে আবার কালচে সবুজ ফ্লুইড প্যাডে লেগে আছে। আগের মতো প্রস্রাবের সাথে ফোটা ফোটা লাল তরল বের হয়েছে।আমি আসলে কি করব? কখন পিরিয়ডের প্রথমদিন ধরবো বা আমি কি রোজা নামাজ ছাড়বো নাকি করব?  একটু স্পষ্ট করে জবাব দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। এটা যদি পিরিয়ড হয় আমার কি গুনাহ হবে?

৫/ অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়মিত করার কি কোনো আমল আছে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
যদি তিন দিনের কম ব্লিডিং হয়, তিন দিনের পর দশ দিনের মধ্যেও আর ব্লাড না আসে, সেক্ষেত্রে সেটিকে আপনি হায়েজ ধরবেন না। সেটিক আপনি ইস্তেহাজা ধরে নামাজ রোযা  চালিয়ে যাবেন।

আর যদি তিন দিন দিন রাত ব্লিডিং হয়, সেক্ষেত্রে সেটিকে ইস্তেহাজা ধরবেন।

 হায়েজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্রতার দিন থাকে, এই দিনগুলিতে ব্লাড আসলেও সেটিকে আপনি  ইস্তেহাজা হিসেবে ধরবেন।

(০২)
যদি আপনি মা'যুর হন তাহলে ওয়েট করার প্রয়োজন নেই।

অজু করে ঐ অবস্থাতেই নামাজ আদায় করবেন।

আর যদি আপনি মা'যুর না হন, সেক্ষেত্রে ওয়াক্তের শুরুতে সাদা স্রাব আসলে আপনাকে ওয়েট করতে হবে।

নামাজে দাঁড়ানোর পর সাদা স্রাব বের হলে পুনরায় ওযু করে এসে সেই রুকন হতে আবার নামাজ আদায় করবেন।

নামাজের ভিতরে কখন সাদা স্রাব বের হচ্ছে, এটি প্রবল ধারণার ভিত্তিতে নির্ণয় করে চেক করবেন।

আরো জানুনঃ- 

(০৩)
এভাবে নামাজ আদায় করা ঠিক হচ্ছে না।

নামাজে দাঁড়ানোর পর সাদা স্রাব বের হলে পুনরায় ওযু করে এসে সেই রুকন হতে আবার নামাজ আদায় করবেন।

সাদা স্রাব ড্রেসে লাগলে ওইটা চেঞ্জ করে বা ড্রেসের উক্ত স্থান পাক করে অযু করে এসে  নামাজ পরবেন।

(০৪)
প্রশ্নের বিবরন মতে ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আপনি যে হলুদ কালারের ডিসচার্জ দেখেছেন,সে সময় থেকে আপনি হায়েজ ধরবেন। 

(০৫)
জানামতে নির্দিষ্ট আকারে কোন আমল কুরআন হাদিসে নেই।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ গাইনী ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ থাকবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 414 views
...