আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (72 points)
একজন বৃদ্ধা নারী যিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ডায়াবেটিস, কিডনিতে সমস্যা,পায়ে সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত;বেশ কয়েকবছর ধরে। অনেক ওষুধ খেতে হয়। প্রত্যেকবছর তিনি রোজা রাখেন। এবছরও রেখেছিলেন। কিন্তু অসুস্থতা বেড়ে যায়,অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন এবং এখন অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে তিনি আর রোজা রাখতে সক্ষম নন। ভবিষ্যতে কখনো সক্ষম হবেন এমনটার সম্ভাবনা খুবই কম। এমতাবস্থায় তার পরিবার তার পক্ষ থেকে ফিদিয়া দিতে চাচ্ছেন।

১.ফিদিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে একজন মিসকিন কে দুইবেলা পেট ভরে না খাইয়ে কি সমপরিমাণ অর্থ সাদাকাহ করা যাবে?

২.এক্ষেত্রে কত টাকা দিতে হবে প্রত্যেকদিন?

৩.একবারে ত্রিশদিনের জন্য টাকা দিয়ে দেয়া যাবে কি?

৪.নিজের আত্মীয় এর মধ্যে কেউ দরিদ্র থাকলে তাকে দেয়া যাবে কি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ    

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [[٢:١٨٤]

গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা বাকারা-১৮৩-১৮৪]

★যদি এমন অসুস্থতা হয় যা সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো সম্ভাবনা না থাকে বা কম থাকে অথবা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম হন, তাহলে প্রতি রোজার জন্য এক ফিতরা পরিমাণ ফিদইয়া দিতে হবে।

যদি এমন অসুস্থ্য হন যে, রোযা রাখতেই পারেন না, এমতাবস্থাই তার মৃত্যু চলে আসে, তাহলে তার রোযার ফিদিয়া ও আদায় করতে হবে না।
যদি কষ্টকর হয়, কিন্তু আদায়ে সক্ষম হন, তাহলে ফিদিয়া আদায় করতে হবে।
প্রতিটি রোযার ফিদিয়া হল, গরীব মিসকিনকে প্রতিটি রোযার বদলে সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা বা গম, চাল, যব ইত্যাদি প্রদান করা।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে প্রতিটি অনাদায়ী রোযার ফিদইয়াহ আদায় করতে হবে। 

প্রতি রোযার ফিদইয়াহ হলো একটি সদকায়ে ফিতর সমপরিমান টাকা গরিব মিসকিনকে দান করা।   

ফিদইয়াহ আদায় করার পর তিনি যদি কখনো আবারও সুস্থ হন, রোজা আদায়ে সক্ষম হন, তাহলে তাকে আবার রোজার কাজা আদায় করতে হবে। এমতাবস্থায় পূর্বের আদায়কৃত ফিদইয়াহ যথেষ্ট হবে না।

(০২)
সর্বনিম্ন ১১০ টাকা।

(০৩)
এক্ষেত্রে মাস শেষ হলে একবারে ৩০ দিনের ফিদইয়াহ আদায় করা যাবে।

(০৪)
উক্ত অসুস্থ ব্যক্তির বাবা-মা দাদা-দাদি নানা-নানী পরদাদা পরদাদী, পরনানা পরনানী, সন্তান, সন্তানের সন্তান ইত্যাদিদের কে দেওয়া যাবে না।

অন্যান্য আত্মীয়দের কেহ যদি যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত হয়,সেক্ষেত্রে তাদেরকে সেই ফিদইয়াহ এর টাকা দেওয়া যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...