আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
89 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (11 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু উস্তাদ।

আমি কয়েকটি বিষয় নিয়ে পেরেশানিতে আছি অনুগ্রহ করে কিছু নসিহা এবং সহজ পথ জানাবেন ইংশা-আল্লাহ।
১) আমার বাবা রমাজানে রোজা রাখেন না, সালাত নিয়মিত পড়েন না কিছু ওয়াক্ত মাঝে মধ্যে পড়ে। অনলাইনে ফরেক্স মার্কেটে বাইনারি ট্রেডিং করেন যেটা হারাম এবং সব টাকা লস করেন। তাকে বোঝালে কোন কিছু বুঝতে চান না। দ্বীনের বিষয়ে বোঝালেও শুনতে চান না তার যতটুকু ভুল মিশ্রিত জানা জ্ঞান আছে এটাকেই সঠিক মনে করেন যেমন ফরজের গুরুত্ব তেমন নেই তার ধারণায় ইমানটাই আসল.....তাকে বোঝাতে গেলে রেগে যায় ক্রিটিসাইজ করেন ভুল ব্যাখ্যা দেন। আমি কয়েকবার তার সাথে আলোচনা করতে চেয়েছি সে সিনক্রিয়েট করে কথা বাড়াতে চাইতো না কারণ তার আলটিমেটলি কিছুই তেমন জানা নেই। তাকে দেখলে আমার কষ্ট হয় তার আচারণ কাজগুলো আমি মেনে নিতে পারছি না। তাই তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। এটা কী আমার জন্য ভুল হয়েছে? আমি আর কী করতে পারি?

২) আমার মামা এবং ফুফা ব্যাংকার। আমি তাদের বাসায় গেলে তাদের উপার্যনের কিছু খাইনা কোন হাদিয়া নেই না।আমার ফুফিকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলায় তিনি জোড়াজুড়ি করলেও আমি এভয়ড করলে মেনে নেন এবং তার জন্য তাদের বাসায় যাওয়া সম্পর্ক রক্ষা করা সহজ হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার মামার বাসা আমাদের ডিসট্রিক্ট থেকে ভিন্ন। তাদের বাসায় আমি এজন্য বেড়াতে যাই না হারাম উপার্যন থেকে খাবার খাওয়া হবে। কারণ এর আগেও আমি এ বিষয়টি কয়েকবার পরীক্ষা করেছি আমি এ ক্ষেত্রে শিথিলতা করলে আমার ইমান আমলে ঘাটতি হয়, ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় যা আমার জন্য পরবর্তী অনেক বেশি কষ্টকর মনে হয়েছে। তাদেরকে আমি সরাসরি বলতে পারিনি আম্মুকে দিয়ে বলিয়েছি আম্মু হয়তো সঠিক বোঝাতে পারেনি৷ আমি তাদের সাথে ফোনে কথা বলি খোঁজ খবর নেই, কিন্তু যাওয়ার কথা বললে এড়িয়ে যাই এটাতে হয়তো তারা একটু কষ্ট পেয়েছেন। এছাড়া আমি যে তাদের বাসায় থেকে যতটুকু রিজিক ব্যাবহার করবো ততটুকু সদকা করবো এমন পরিস্থিতি নেই কারণ আমার কোন উপার্যন বা নিজেস্ব টাকা নেই তাই না যাওয়া ছাড়া কোন পথ দেখছি না। এ ক্ষেত্রে আমি আত্মীয়তারসম্পর্ক কিভাবে রক্ষা করতে পারি?

৩) আমি হেদায়েত পেয়েছি ২০২০ সালের শেষের দিকে।তার আগে পরিপূর্ণ দ্বীনের বুঝ ছিল না। জেনে বুঝে না জেনে বুঝে অনেক গুনাহ গাফিলতি করে ফেলেছি এবং তার মধ্যে অন্যতম অনেক সময় রোজা রেখে ভেঙে ফেলেছি(নির্দিষ্ট কতগুলো মনে নেই)  কিন্তু এখন বুঝ আসার পরে বুঝেছি ইচ্ছাকৃত ফরজ রোজা ভাঙলে কাফফারা দিতে হয়। আমার একসাথে ৬০ টা রোজা কখনোই রাখা সম্ভব নয় এবং সদকায় ফিতির দেওয়ার মতোও মূল্য নেই। এক্ষেত্রে কী করতে পারি? তবে নিয়ত রেখেছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তৌফিক দান করলে আদায় করবো কিন্তু কত গুলো রোজার জন্য করতে হবে সংখ্যার হিসাব নেই তাহলে কিভাবে সংখ্যার হিসাব করতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم  الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://www.ifatwa.info/7675/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 

আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

দারুল উলুম  দেওবন্দ এর 178050 নং ফতোয়াতে এসেছে যে কোনো মুসলমানের সাথে হিংসা ইত্যাদির কারনে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ নেই। 
তবে সে যদি দীনের লাইন থেকে দূরে সরে যায়,মদ খায়,জুয়া খেলে,যেনা করে,সুদ খায়।
বুঝানোর পরেও বুঝেনা,ইসলাম মানেনা।
,
তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ আছে। 
তবে  স্থায়ীভাবে নয়,সাময়িক ভাবে। 
(ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়্যাহ ৮/২৭০)
,
''( قوله باب ما يجوز من الهجران لمن عصى )
 أراد بهذه الترجمة بيان الهجران الجائز لأن عموم النهي مخصوص بمن لم يكن لهجره سبب مشروع فتبين هنا السبب المسوغ للهجر وهو لمن صدرت منه معصية فيسوغ لمن اطلع عليها منه هجره عليها ليكف عنها''۔(فتح الباری،10/497،ط:دارالمعرفۃ بیروت) 
সারমর্মঃ শরীয়ত সম্মত কারন পাওয়া গেলে সম্পর্ক ছিন্ন করা জায়েজ আছে। 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার ভুল হয়নি, এক্ষেত্রে আপনার গুনাহ হবে না।

তবে আপনার বাবা যদি কোনদিন দ্বীনের পথে ফিরে আসে, হারাম উপার্জন পরিত্যাগ করে, তখন ঠিকই আপনাকে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হবে।

(০২)
আপনি যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, সেক্ষেত্রে আপনি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, এমতাবস্থায় প্রশ্নে উল্লেখিত আত্মীয়দের হারাম সম্পদ গ্রহণ করা বা খাওয়ার অনুমতি আপনার জন্য রয়েছে।

(০৩)
একাধারে ৬০ টি রোজা রাখার শক্তি আপনার থাকলে আপনাকে একাধারে ৬০ টি রোজা রাখতেই হবে।

আর এ পরিমাণ শক্তি আপনার না থাকলে সেক্ষেত্রে আপনি ৬০ টি সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। এখন সামর্থ্য না থাকলে পরবর্তীতে যখন সামর্থ্য হবে তখন আদায় করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...