আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
100 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (71 points)
edited by
সম্প্রতি একজন সেলিব্রিটির স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। অভিযোগ তিনি নাটকের এক সহ অভিনেত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন। সেই সেলিব্রিটি পরে স্ত্রীকে নিয়ে পোস্ট করেন। তার দোষ বর্ণনা করে।

আমি সেই সেলিব্রিটির সেই স্ট্যাটাস এ দাবি করেন তিনি মব জাস্টিস ও ইন্টারনাল শত্রুতার কারণে এ স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হচ্ছেন।  যাতে তার কিছু হয়ে গেলে এটা প্রমাণ হিসেবে থেকে যায়। তার জায়গায় যদি চিন্তা করি,তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেস্টা করছেন। এবং তার দিক থেকে সত্যিকার পরিস্থিতিই বাধ্য হয়ে তুলে ধরছেন। তিনি তার স্ত্রীকে ছোট করতে নয় বরঙ ন্যায়বিচার এর স্বার্থে তিনি তুলে ধরছেন।

আমি তার পোস্টের লিংক দিয়ে দিচ্ছি: https://www.facebook.com/share/p/182DUicVe4/

এ ইস্যুতে অনেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন,  যার ভিত্তি কেবল তার স্ত্রীর সাথে চ্যাটের স্ক্রিনশট। যেখানে স্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এসব স্ক্রিনশট দেখে প্রশ্ন থেকে যায়, এগুলো কেবল একপাক্ষিক। তাছাড়া চ্যাটের পুরো স্ক্রিনশট আর কন্টেক্সট ও পরিস্কার নয়। তাছাড়া ফার্স্ট পার্টি এভিডেন্স ও নেই। অনেকে ভিডিও করেও অনেক কথা বলছেন যার প্রেক্ষিতে শক্ত প্রমাণ নেই। যেমন,  কেউ দাবি করছেন তারা পরকীয়া করতে দেখেছেন। কিন্তু ডেট মেনশন করেন নি। অথবা ছবি বা ভিডিও এভিডেন্স নেই। তাই সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আমি তার পরিবারের একজন সদস্য।

আমার প্রশ্ন হল:

১। সোশাল মিডিয়ায় যে পোস্ট/স্ক্রিনশট ঘোরাফেরা করছে তার ভিত্তিতে কি কাউকে দোষী বানানো জায়েজ কিনা? কিংবা সে আত্মহত্য্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন তা দাবি করা যায় কিনা। যেহেতু, ডিজিটাল এভিডেন্সের ফরেনসিক এভিডেন্স প্রকাশিত নয়। যা আইনের কাজ।

২। কেউ দাবি করলেই তা সত্য হয়ে যায় কিনা? হয়ত সে সত্য বলেছে কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।
৩। তিনি যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্ত্রীকে নিয়ে তা তিনি পরিস্থিতির চাপেই করেছেন, কারণ নিরাপত্তার আশংকা আর বুলিং। এতে কি তার অপরাধ হয়েছে কিনা? আর এ অপরাধের জন্য তিনি দায়ী কিনা? (পোস্টের লিংক দেখুন)

৪। আত্মহত্যাকারী সিমপ্যাথির জায়গা পান কিনা? যিনি আত্মহত্যা কর্ছেন তিনি নিজের বাচ্চার কথাও ভাবেন নি। মরে গেছেন বলেই অপরপক্ষ দায়ী কিনা।

৫। সাক্ষীর ব্যক্তিগত জীবন ক্লিন থাকা জরুরি কিনা?  যিনি আত্মহত্যা করেছেন তার পরিবারের সদস্য হিসেবে জানি, তিনি যাদের সাথে বন্ধুত্ব করেছেন তারা ব্যক্তিগত জীবনে বেপরোয়া ছিলেন। তাদের সংস্পর্শে এসে তাদের সংসারর ঝামেলার কারণ প্রকট।  অনেক মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে তাদের সততা আর দায়বদ্ধতা নিয়ে তাদের দোষারোপ করা যায় কিনা নিজেদের ডিফেন্ড করতে?

আমি যতটুকু জানি, ইসলামে যাচাই বাছাই কর‍তে বলা হয়েছে, আর কথা শোনামাত্রই তা প্রচার করাকে মিথ্যা বলা হয়েছে।

এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কি সব মিলিয়ে। সোশাল মিডিয়া ট্রায়ালে কি একপাক্ষিক ভাবে একজন কে দোষী করা যায়?..যারা এভাবে সোশাল মিডিয়ায় বুলিং করছেন তাদের বিচার কি ইসলামে হবে?

আশা করি, পরিস্থিতির আলোকে বুঝিয়ে বলবেন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
আবূ হারূন আল-আবদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَنَا " إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّهُمْ سَيَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا "

 তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর কাছে এলেই তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিয়ত অনুযায়ী স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলতেনঃ লোকেরা অবশ্যই তোমাদের অনুগামী। অচিরেই পৃথিবীর দিকদিগন্ত থেকে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আসবে। তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে,তখন তোমরা তাদেরকে ভালো ও উত্তম উপদেশ দিবে।(সুনানু তিরমিযি-২৪৯,তিরমিযী ২৬৫০-৫১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৪৭।)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
অতীব জরুরী ও সাধারণ মাস'আলা মাসাঈল আয়ত্বে না থাকার কারণে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলাম পালন করতে, যে সমস্ত দ্বীনি ভাই-বোন থমকে দাড়ান,এবং যাদের দ্বীনি ইলম অর্জনের কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নেই, মূলত তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস .....

মুহতারাম/মুহতারামাহ!
দ্বীনের পরিধি অনেক ব্যাপক, সকল বিষয়ে আলোচনা করা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া স্বল্প পরিসরের এই ভার্চুয়ালি মাধ্যম দ্বারা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। চেষ্টা করলেও প্রশ্নকারীর পিপাসা মিটানো সম্ভব হবে না। প্রত্যেক বিষয়ে আমরা শুধুমাত্র সামান্য আলোকপাত করে থাকি।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য স্থান, কাল, পাত্র অনেক কিছুই জানার প্রয়োজন হয়। যেটা অনলাইনে জানা সম্ভব হয় না। 

তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উলামায় কেরামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে বলেই আমাদের ধারণা।

তাছাড়া ইলম অর্জনের জন্য সফর করা অত্যান্ত  জরুরী। এবং কষ্ট করে ইলম অর্জন করাই আমাদের  আকাবির আসলাফদের রীতি ও নীতি। এদিকেই কুরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত দিচ্ছে,
 ۚفَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ
তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্ব-জাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।(সূরা তাওবাহ-১২২)

সুতরাং আপনাকে বলবো, আপনি বিস্তারিত জানতে স্ব-শরীরে কোনো দারুল ইফতায় যোগাযোগ করবেন।
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।আল্লাহ তা'আলা আপনার ইলম অর্জনের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিক, আমীন।

প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে নিম্নের হাদীসকে লক্ষ্য রাখবেন।
হাসান ইবনে আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে।
ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺤَﺴَﻦِ ﺑﻦ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﻔِﻈْﺖُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : « ﺩَﻉْ ﻣَﺎ ﻳَﺮِﻳﺒُﻚَ ﺇِﻟﻰ ﻣَﺎ ﻻ ﻳﺮِﻳﺒُﻚ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ ﺻﺤﻴﺢٌ 
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন,সন্দেহ যুক্ত জিনিষকে পরিহার করে সন্দেহমুক্ত জিনিষকে গ্রহণ করো।(সুনানু তিরমিযি-২৪৪২)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...