আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
203 views
in পবিত্রতা (Purity) by (8 points)
উস্তাদ। السلام عليكم و رحمة الله و بركاته

১. স্বাভাবিকভাবে কোন নারী তার হায়েজ শুরু হবার আগে ও পরে কিছু লক্ষণ অনুভব করেন। কিন্তু, কোন সময় যদি সেরকম কোন লক্ষণ অনুভব না হয়, যেমনঃ শুরুর আগের লক্ষণ অনুভব হয়নি, হায়েজ শুরু হলে স্বাভাবিক পেট ব্যাথা না থাকা, ব্লিডিং খুবই অল্প থাকা, প্রবাহ না থাকা। সে ক্ষেত্রে ৩ দিনের বেশি দিন গেলেও কি তা হায়েজ গণ্য হবে?

অর্থাৎ, যখন ব্যক্তি বুঝতেই পারছে যে এটা স্বাভাবিক হায়েজ না। এবং তা ১০ দিনেরও বেশি অতিক্রম করে গেছে। একই রকম আলামত নিয়ে। এবং রোগী বুঝতে পারছে শুরু থেকেই এটা হয়তো অসুস্থতা, হায়েজ না।

২. যদি তা হায়েজ গণ্য হয়, তবে ৭ দিনের অভ্যাস থাকা নারী কি কেবল ৭ দিনকেই হায়েজ গণ্য করবে? নাকি ১০ দিন?

৩. এক্ষেত্রে যদি নারীর ৭/১০ দিন অতিক্রম করেও সুস্থ হয়নি এবং এভাবে ৭/১০ দিনের পরেও ১৫ দিন অতিক্রম হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে ১৬ তম দিন থেকে কি হায়েজ গণ্য হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পূর্বের মাসের হায়েজ বন্ধ হওয়ার ১৫ দিন পর যদি এই ব্লাড এসে থাকে, সেক্ষেত্রে এটি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত। 

(০২)
এক্ষেত্রে ব্লিডিং ১০ দিন অতিক্রম করলে সেক্ষেত্রে সাত দিনকে হায়েজ ধরবে।

আর যদি ব্লিডিং ১০ দিন অতিক্রম না করে, সেক্ষেত্রে যে কয়দিন ব্লিডিং হবে, সে কয়দিন হায়েজ হিসাবে ধরবে।

(০৩)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পূর্বের মাসের হায়েজ বন্ধ হওয়ার ১৫ দিন পর যদি এই ব্লাড এসে সর্বনিম্ন ৩ দিন ৩ রাত থাকে, সেক্ষেত্রে এটি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত হবে। 

অন্যথায় নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
edited
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। 

উস্তাদ, এই রোগীর কয়েক মাস পর গত মাসে ২ দিন ব্লিডিং দেখা যায়। সে ইস্তিহাযা ধরে নেয়। এর ১৩ দিন পর ব্লিডিং শুরু হয় আবার এবং ২১ দিন টানা চলে। আবার ৬ দিন বন্ধের পর আবার দেখা যায়।

আপনাদের এই আর্টিকেলের ১৫ নং মাসালা অনুযায়ী কি তার ঐ দুই দিন হায়েজ ছিল? 

আর পরবর্তী দিন গুলো কি ইস্তিহাযা ছিল? জানালে খুব উপকার হতো মিন ফাদ্বলিক। 


by
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। 
উস্তাদ, এই রোগীর কয়েক মাস পর গত মাসে ২ দিন ব্লিডিং দেখা যায়। সে ইস্তিহাযা ধরে নেয়। এর ১৩ দিন পর ব্লিডিং শুরু হয় আবার এবং ২১ দিন চলে। 

আপনাদের এই আর্টিকেলের ১৫ নং মাসালা অনুযায়ী কি তার ঐ দুই দিন হায়েজ ছিল? 

আর পরবর্তী দিন গুলো কি ইস্তিহাযা ছিল? জানালে খুব উপকার হতো মিন ফাদ্বলিক।
by (770,460 points)
ঐ ২ দিন ইস্তেহাজা ছিলো।

১৩ দিন পর ব্লিডিং শুরু হয়ে ২১ দিন চলে,সেটি হায়েজ।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 378 views
0 votes
1 answer 283 views
...