আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
352 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (10 points)
আস সালামুআলাইকুম, আমার মা কিছু টাকা দিয়ে ১টা সরকারী ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র খুলছে আমার নামে।যেখান থেকে প্রতিমাসে ইন্টারেস্ট তুলে আনেন,চেক বইয়ে আমার সাইন লাগে।পরে জানতে পেরেছি সুদের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যারা জড়িত আছে সবাই গুনাহগার।মা কে বুঝানোর আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি যে এটা হারাম কিন্তু আমার কথা শুনে না।উল্টো আমাকে আরো কটু কথায় শোনায়।আবার আমি যদি চেক বইয়ে সাইন না করি আমাকে অনেক কথা শোনাবে,গালি দিবে অনেক।আমাকে একটু উপায় বলে দিন আমি কিভাবে হিকমাহ এর সাথে হারাম থেকে সরে আসবো?আমার মাকে কিভাবে বুঝাবো?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহাম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/3967নং ফাতাওয়ায় বলেছি যে,
ব্যাংকের প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে যে টাকা জমা রাখা হয় এককালীন, ৩ বছর/৫ বছর/ ১০বছরের জন্য। সে টাকা জমা রাখার পরে প্রতি মাসে ব্যাংক কর্তৃক টাকা জমাকারীকে একটা এমাউন্ট দেয়া হয়। এটা স্পষ্টত সুদ।কেননা সুদ বলা হয়,ঋণ নেয়ার পর ঋনদাতাকে কিছু দেয়ার চুক্তি করা।

আল্লাহ তা'আলা বলেন-
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﻻَ ﻳَﻘُﻮﻣُﻮﻥَ ﺇِﻻَّ ﻛَﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺘَﺨَﺒَّﻄُﻪُ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺲِّ ﺫَﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟْﺒَﻴْﻊُ ﻣِﺜْﻞُ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﻭَﺃَﺣَﻞَّ ﺍﻟﻠّﻪُ ﺍﻟْﺒَﻴْﻊَ ﻭَﺣَﺮَّﻡَ ﺍﻟﺮِّﺑَﺎ ﻓَﻤَﻦ ﺟَﺎﺀﻩُ ﻣَﻮْﻋِﻈَﺔٌ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻪِ ﻓَﺎﻧﺘَﻬَﻰَ ﻓَﻠَﻪُ ﻣَﺎ ﺳَﻠَﻒَ ﻭَﺃَﻣْﺮُﻩُ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَ ﻓَﺄُﻭْﻟَـﺌِﻚَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ
যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়।
তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত!
অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।
অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল।
আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।
সূরা বাকারা-২৭৫;

রিবা বা সূদ কাকে বলে?
বর্ণিত রয়েছে  এ ব্যপারে উলামায়ে কেরামগণ একমত যে, প্রত্যেক ঐ ঋণ যা মুনাফাকে টেনে নিয়ে আসবে তাই রিবা বা সুদ হিসেবে পরিগণিত হবে।

যেমন
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣَﻔْﺺٌ، ﻋَﻦْ ﺃَﺷْﻌَﺚَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﻜَﻢِ، ﻋَﻦْ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ، ﻗَﺎﻝَ : « ﻛُﻞُّ ﻗَﺮْﺽٍ ﺟَﺮَّ ﻣَﻨْﻔَﻌَﺔً، ﻓَﻬُﻮَ ﺭِﺑًﺎ » ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ
তরজমাঃ-
প্রত্যেক ঐ ঋণ যা মুনাফাকে টেনে নিয়ে আসবে তাই রিবা বা সুদ।
মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ-২০৬৯০

মুনাফার শর্তে ঋণ দিলে তা রিবার অন্তর্ভুক্ত।তবে শর্ত ব্যতীত যদি ঋণদার ঋণ পরিশোধের সময় কিছুটা বেশী দিয়ে দিলে তা রিবার অন্তর্ভুক্ত হবে না।বরং তা বৈধ-ই হবে।

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
সঞ্চয়পত্র সুদের অন্তর্ভুক্ত। এবং সুদ আদান প্রদাণ বা সুদের কাজে কোনো প্রকার সহায়তা সম্পূর্ণই হারাম।
আপনি হেকমত ও প্রজ্ঞার সাথে দ্বীনের দরদকে প্রদর্শন পূর্বক সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আপনার মাকে বু্ঝাবেন।এবং সঞ্চয়পত্রকে ভেঙ্গে দিয়ে অতীতের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
যদি তার বিপরীত টা হয়? অর্থাৎ, আমার মা-বাবা প্রতি মাসে যে সুদ আসে সেখানে আম্মু সাইন করতে জানেন না ঠিকমতো,কোথায় কি লিখতে হয়...এখন আমাকে তারা বলে যে দেখিয়ে দিতে,আমি য যদি দেখিয়ে তাহলে কি গুনাহ হবে আমার?
এক্ষেত্রে আমার কি করণীয়? আমার বাবা অসুস্থ তাই তিনি জমি বিক্রি করে এভাবে সঞ্চয়পত্র করে প্রতি মাসে এই সুদ দিয়ে সংসার চালায়,উনাকে বললে উনি বলে যে তাহলে এখন কি করবো আমি?
দয়া করে প্লিজ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন। 

by (814,710 points)
আপনার উচিত মাতাপিতাকে বুঝানো। যেহেতু বাবা বয়োবৃদ্ধ, সুদ ছাড়া যদি উপায় না থাকে, তাহলে আপনার জন্য মাকে সাইনের জায়গা দেখিয়ে দেওয়া নাজায়েয হবে না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...