আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
284 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আমি বেশ কয়েকদিন যাবত একটা ভিডিও দেখতে পাচ্ছি ফেসবুকে।যেখানে বলা হচ্ছে,ভাই বোন যখন কথা বলে তখন সময়কে থামিয়ে দিতে বলা হয়েছে।কারন পৃথিবীতেই তাদের শেষ কথা হবে।কিয়ামতের দিন ভাই আর বোনের দেখা হবে না।মায়ের সাথে ছেলের দেখা হতে পারে।স্বামীর সাথে স্ত্রীর।কিন্তু ভাই বোনের সম্পর্ক দুনিয়া পর্যন্ত ই সীমাবদ্ধ। আমি জানতে চাই কথা টা কত টুকু সত্য?কিয়ামতে কি ভাই বোনের সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামে ভাই-বোনের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা শুধুমাত্র দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয় — বরং সঠিকভাবে রক্ষা করা হলে এই সম্পর্ক আখিরাতেও সুফল বয়ে আনতে পারে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

یَوۡمَ یَفِرُّ الۡمَرۡءُ مِنۡ اَخِیۡہِ ﴿ۙ۳۴﴾ 

সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে।

وَ اُمِّہٖ وَ اَبِیۡہِ ﴿ۙ۳۵﴾

এবং তার মাতা, তার পিতার কাছ থেকে।

وَ صَاحِبَتِہٖ وَ بَنِیۡہِ ﴿ؕ۳۶﴾ 

তার পত্নী ও তার সন্তান থেকে।

এখানে হাশরের ময়দানে সকলের সমাবেশের দিন বোঝানো হয়েছে, সেদিন প্রত্যেক মানুষ আপন চিন্তায় বিভোর হবে। সেদিন মানুষ তার অতি-নিকটাত্মীয়কে দেখলেও মুখ লুকাবে এবং পালিয়ে বেড়াবে। [ইবন কাসীর] প্ৰায় এই একই ধরনের বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে সূরা মা'আরিজের ১০ থেকে ১৪ পর্যন্ত আয়াতে।

لِکُلِّ امۡرِئٍ مِّنۡہُمۡ یَوۡمَئِذٍ شَاۡنٌ یُّغۡنِیۡہِ ﴿ؕ۳۷﴾ 

সেদিন তাদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে।
(সুরা আবাসা ৩৫-৩৭)

★এই আয়াত গুলি প্রমাণ করে যে কিয়ামতের দিন কেউ কাউকে চিনবে না এমন নয়, বরং চিনবে কিন্তু সবাই নিজের ব্যাপারে এত ব্যস্ত থাকবে যে আত্মীয়তাও ভুলে যাবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ اتَّبَعَتۡہُمۡ ذُرِّیَّتُہُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَ مَاۤ اَلَتۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَمَلِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ کُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا کَسَبَ رَہِیۡنٌ ﴿۲۱﴾

আর যারা ঈমান আনে, আর তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমরা তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে  এবং তাদের কর্মফল আমরা একটুও কমাবো না; প্ৰত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
(সুরা তুর ২১)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, যদি পরিবারের সদস্যরা সবাই ঈমানদার হয় এবং নেক আমল করে, তবে আল্লাহ তাদের জান্নাতে একত্র করবেন। এক্ষেত্রে ভাই-বোনও এর অন্তর্ভুক্ত।
(কিছু তথ্য সংগৃহীত।)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
ভাই-বোনের সম্পর্ক ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সম্পর্ক শুধু দুনিয়ায় নয়, বরং যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয় এবং দুই পক্ষই ঈমানদার হয়, তবে জান্নাতেও তারা একত্র হতে পারে।

তবে কিয়ামতের দিন সবাই নিজের ব্যাপারে ব্যস্ত থাকবে — সেই দিন আত্মীয়তার সম্পর্কের জোরে কেউ বাঁচবে না, বরং আমলই মুখ্য।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...