আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in পবিত্রতা (Purity) by (12 points)
মুহতারাম মুফতি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম ।
আমার নাভীর ভেতরে মাঝে মাঝে ফেটে ফেটে যায়, লালচে-গোলাপি রঙের মত দেখায় । অনেক সময়ে সাদাটে একটা প্রলেপের মত তৈরি হয় যেটা পানি দিয়ে ধুলে এক রকম ঘোলাটে পিচ্ছিল কিছু ধুয়ে চলে যায়  ।  তবে যতটুকু মনে পড়ে কোন ধরনের পুঁজ বা গন্ধযুক্ত পানি নাভী দিয়ে পড়তে দেখিনি ৷  ফরয গুসলের সময়ে নাভীর ভেতরের অংশে পানি পৌঁছাতে গেলে প্রায়ই ফাটা অংশগুলো কিছুটা জ্বালাপোড়া করে, বেশি চাপ লাগলে হালকা রক্ত আসতেও পারে তবে কখনো গড়ানো রক্ত নাভীর বাইরে আসতে দেখিনি । অথবা,  পানির আধিক্যের কারণে হয়ত রক্তের উপস্থিতি টের পাইনি  ।
ওভাবেই, গুসল চালিয়ে যাই । আমি দুটি  বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি - (১)  পানি না পৌঁছাতে পারলে গুসল হবে না আবার (২) রক্ত বেরিয়ে পানির সাথে মিশে গেলে গুসলের উপরে তার প্রভাব আমার জানা নেই ।  উল্লেখ্য, আমি শাওয়ারে গুসল করি ।
উপরে বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে  --
১) নাভীর অংশটুকুতে গুসল সম্পন্ন হয় কী না?

২) আমার এতদিনের ওরকম পরিস্থিতির  গুসলগুলো সহিহ হয়েছে কী না?

৩) একদিন গুসলের সময়ে নাভীর জায়গায় রক্ত চোখে পড়েনি, মনেও তেমন সংশয় জাগেনি, তবে নাভীর ভেতরে জ্বলছিল কিন্তু গুসলের পরে সাদা টিস্যু দিয়ে নাভী শুকানোর সময়ে ১ম দফায় কিছু দেখিনি মনে হয়েছিল (রুমে মৃদু আলো ছিল) কিন্তু ২য় বার টিস্যু দিয়ে শুকানোর সময়ে সামান্য রক্তের দাগ দেখতে পাই ।  এটা গুসলের সময়কার রক্ত না কী টিস্যুর আঘাতে পরে হয়েছে নিশ্চিত নই । এক্ষেত্রে,  গুসল কী সঠিক হয়েছে?

৪) যদি উপরের পরিস্থিতির কারণে গুসল আদায় না হয়, তবে কীভাবে কোন পদ্ধতিতে উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে গুসল করলে গুসল আদায় হবে?

৫) আমার দাড়ি ঘন হওয়ায় যতই পানি দেই না কেন আর যতই হাত দিয়ে দাড়ির ভেতরে  ঘষতে থাকি না কেন - মনে হয় যেন দাড়ির গোড়া ভিজছে না, একটা সময়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন ধরে নেই যে পানি পৌঁছে গিয়েছে ।  আমি ক্লান্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে চাই না ।  সহজ কোন উপায় কী আছে যেটুকু আদায় করলে দাড়ির গোড়ায় পানি পৌঁছে গিয়েছে বলে ধরা হবে?

৬)  নখের যে অংশটুকু আমরা কেটে ফেলি সেটাকে আমাদের এলাকার দিকে নখের খোসা বলে । অনেক সময় আমার পায়ের নখগুলোর খোসা ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত কাটা হয় না (অতদিন দেরি না করলে নখের খোসা নেইলকাটার দিয়ে কাটা কষ্টকর হয়ে যায় আমার জন্য) । আমার পায়ের কিছু কিছু নখের খোসা দাবানো আবার কয়েকটির খোসা আলগা । এখন যেহেতু, নাপাক কাপড় ধোয়ার সময়ে টয়লেটের মেঝেতে ঐ পানির উপর দাঁড়িয়ে / বসে কাপড় ধুতে হয় আর ফেলে দেওয়া নাপাক পানি পায়ের নখগুলোর সংস্পর্শে আসে ।

ক)  এ অবস্থায় গুসলের সময় পানি ঢালতে ঢালতে নখগুলো কচলিয়ে ধুলেই কী নাপাক চলে যাবে এবং নখের খোসার নিচের অংশে পানি পৌঁছে যাবে বলে ধরা হবে ?
খ)  না কী হাতের নখের খোসা পায়ের নখের খোসার ভেতরে ঢুকিয়ে আলগা করে করে পানি প্রবেশ করাতে হবে?

গ)  নখের খোসা দাবানো বা আলগা হবার কারণে পানি পৌঁছানোর পদ্ধতির / হুকুমের ক্ষেত্রে কোন তারতম্য হবে কী না?

1 Answer

0 votes
by (663,150 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে রাসুল সাঃ এর গোসলের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।     

حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم اغْتَسَلَ مِنَ الْجَنَابَةِ، فَغَسَلَ فَرْجَهُ بِيَدِهِ، ثُمَّ دَلَكَ بِهَا الْحَائِطَ ثُمَّ غَسَلَهَا، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ غَسَلَ رِجْلَيْهِ.

মাইমূনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্রতার গোসল করলেন। তিনি নিজের লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর হাত দেয়ালে ঘষলেন এবং তা ধুলেন। তারপর সালাতের উযূর ন্যায় উযূ করলেন। গোসল শেষ করে তিনি তাঁর দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৬০২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৮)
,
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً لِلْغُسْلِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى شِمَالِهِ فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ أَفَاضَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَحَوَّلَ مِنْ مَكَانِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ

ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ (রাযি.) বলেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি তাঁর হাত দু’বার বা তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে তাঁর বাম হাতে পানি নিয়ে তাঁর লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেললেন। তারপর মাটিতে হাত ঘষলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তাঁর চেহারা ও দু’হাত ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁর সারা দেহে পানি ঢাললেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দু’পা ধুয়ে নিলেন। (বুখারী ২৫৭,২৪৯ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫৫)

আরো জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে নাভীর অংশে আপনার গোসল সম্পন্ন হয়।  

(০২)
হ্যাঁ, সহীহ হয়েছে।

(৩-৪)
আপনার গোসল সহীহ হয়েছে।

এক্ষেত্রে উক্ত রক্ত যদি গড়িয়ে পড়ার মত হয়, তাহলে আপনি অযু করে নিবেন।

(০৫)
অযু গোসলের ক্ষেত্রে আপনি দাড়ি খিলাল করবেন,এটিই যথেষ্ট। 
অতিরিক্ত কষ্ট করতে হবেনা।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৬)
ক)  এ অবস্থায় গোসলের সময় পানি ঢালতে ঢালতে নখগুলো কচলিয়ে ধুলেই নাপাক চলে যাবে এবং নখের খোসার নিচের অংশে পানি পৌঁছে যাবে বলে ধরা হবে।

খ)  হাতের নখের খোসা পায়ের নখের খোসার ভেতরে ঢুকিয়ে আলগা করে করে পানি প্রবেশ করাতে হবেনা।

গ)  নখের খোসা দাবানো বা আলগা হবার কারণে পানি পৌঁছানোর পদ্ধতির / হুকুমের ক্ষেত্রে কোন তারতম্য হবেনা।

তবে সেখানে পানি পৌছেছে বলে আপনার নিশ্চিত হতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...