আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
101 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (45 points)
আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ,

উস্তায রিয়া নিয়ে আমার বেশ কয়েকটা অবস্থা জানাতে চাই, আশা করি একটু মনোযোগ সহকারে পড়ে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইং শা আল্লহ ।

জাওয আমার দ্বীনদারিতা দেখে বিয়ে করেছিলেন, বিয়ের আগে আমলের হালত অনেক ভালো ছিলো কিন্তু বিয়ের পরপরই আমার ইমান আমল অনেক বেশি দুর্বল হয়ে যায়, তো জাওয মনে মনে মনঃক্ষুণ্ন হন আমার আমলের কমতি দেখে । এখন আলহামদুলিল্লাহ রব দয়া করে ইমান আমলে উন্নত করে দিয়েছেন অনেক ।

তো প্রশ্ন হলো:

১) জাওয যখন জিজ্ঞেস করে ❝কি করছি?❞ তখন আমি ধরুন কুরআন পড়ছি । তো উনাকে যদি বলি ❝কুরআন পড়ছি❞ । এটা কি রিয়া হবে? উনি দূরে থাকেন তাই আমার দৈনন্দিন আমল সম্পর্কে জানেননা ।
(এক্ষেত্রে আমি কয়েকবার কুরআন পড়ছি বলেছিলাম, যেন উনার অন্তর প্রশান্ত হয় নেককার জাওযাহ পেয়েছেন বলে । এটা হয়তো রিয়া হয়ে গিয়েছে......?

জাওযের কাছে কৃত আমল শেয়ার করা কি রিয়ার পর্যায়ে পড়বে?

২) উনি সেদিন বাসায় এসেছিলেন, অভিমানের কারণে আমি বলেছিলাম ❝আপনি না আসলেই ভালো হতো, আমার এত সুন্দর আর প্রিয় আমলটা করতে পারলাম নাহ❞ উনি "আমলটা তাহাজ্জুদ কিনা" জিজ্ঞেস করায় আমি "হুম" বলেছিলাম । এটাও রিয়া হবে?

৩) আমার বিয়ের পরবর্তী ইমান আমলের অবস্থা দেখে আমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও চিন্তিত ছিলো, আমি তাকেও বলেছিলাম ❝মণি, রব আমাকে আবারো সেই বিয়ের আগের জীবনের মতো করে সাজিয়ে দিয়েছেন, ইমানের স্বাদ অনুভব করাচ্ছেন❞ তারপর তাকে তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত নিয়ে বেশ নাসীহাহ করলাম যেন প্রভাবিত হয় । এতে সে অনুমান করতেই পারে যে আমি এসব আমলে লেগে আছি৷। এটাও রিয়া হবে?

৪) উস্তায আমায় বলুন দয়া করে কি অবস্থায় রিয়া হবে/হবেনা । আমি ভীষণ দোটানায় পড়ে গিয়েছি, এত ইলম অর্জন আছে কিন্তু কিছুই যেন রিয়ার বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারছিনা । কাউকে নাসীহা করতে গিয়ে কিছু বললেও মনেহয় রিয়া করতেছি, উপরে যা বললাম তা আমার অজান্তে মুখ দিয়ে ছিটকে বের হয়ে যাচ্ছিলো - যেন আমার নিয়ন্ত্রণ নেই.....

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) জাওয যখন জিজ্ঞেস করে ❝কি করছি?❞ তখন আমি ধরুন কুরআন পড়ছি । তো উনাকে যদি বলি ❝কুরআন পড়ছি❞ ।

 এটা রিয়া হবে না।  জাওযের কাছে কৃত আমল শেয়ার করা রিয়ার পর্যায়ে পড়বে না।

(২) উনি সেদিন বাসায় এসেছিলেন, অভিমানের কারণে আমি বলেছিলাম ❝আপনি না আসলেই ভালো হতো, আমার এত সুন্দর আর প্রিয় আমলটা করতে পারলাম নাহ❞ উনি "আমলটা তাহাজ্জুদ কিনা" জিজ্ঞেস করায় আমি "হুম" বলেছিলাম । এটাও রিয়া হবে না।

(৩) আমার বিয়ের পরবর্তী ইমান আমলের অবস্থা দেখে আমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও চিন্তিত ছিলো, আমি তাকেও বলেছিলাম ❝মণি, রব আমাকে আবারো সেই বিয়ের আগের জীবনের মতো করে সাজিয়ে দিয়েছেন, ইমানের স্বাদ অনুভব করাচ্ছেন❞ তারপর তাকে তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াত নিয়ে বেশ নাসীহাহ করলাম যেন প্রভাবিত হয় । এতে সে অনুমান করতেই পারে যে আমি এসব আমলে লেগে আছি৷। এটাও রিয়া হবে না।

(৪) নিজেকে আমলদার হিসেবে প্রমাণিত করা উদ্দেশ্য না রেখে বরং জওযকে উদ্বোদ্ধ করার নিয়তে নেক আমলের প্রকাশ করবেন। তাহলে রিয়া হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...