আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
119 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (11 points)
আসসালামু আলাইকুম।

প্রথমেই আফওয়ান উস্তাদ। আমি এর আগে উত্তর পেয়েছিলাম তবে আমি পরিপূর্ণভাবে আমার প্রশ্নটি উত্থাপন করতে পারিনি। এজন্য পুনরায় বিস্তারিত ভাবে জানতে চাওয়া।

উস্তাদ বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে মিশরে আসার সরাসরি যে ভিসা ছিল সেটা বন্ধ।  এম্বাসিতে যোগাযোগ করার পরও তারা ভিসা দিতে চায় না।
এজন্য বাংলাদেশ থেকে যারা মিশরে আসে ওয়ার্কার এবং স্টুডেন্টরা তারা প্রথমে বৈধভাবে উমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে যায় উমরাহ করার উদ্দেশ্যে। উমরাহ শেষ করার পর সৌদি থেকে মিশরে প্রবেশ করে। অন এ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে। এভাবে সৌদি থেকে মিশর আসার পুরো প্রক্রিয়ায় দুই দেশের বৈধ নিয়ম কানুন মানা হয়। এবং কোন সমস্যা হয় না।  কারণ বাংলাদেশিদের জন্য এই উপায়ে সৌদি আরব এবং মিশরের পক্ষ থেকে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন। তারা মিশরে আসতে দেয় না। যাত্রীরা উমরাহ করে সৌদি আরব থেকে মিশরে আসতে চাইলেও তারা পারমিশন দেয় না। এক্ষেত্রে এয়ারপোর্টে কন্টাক্ট করা হয় আগে থেকে। জনপ্রতি টাকা দিয়ে  বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পার হতে হয়। এই যে উস্তাদ এখানে জন প্রতি টাকা দিতে হচ্ছে এতে যে টাকা দিচ্ছে সে কি ঘুষদাতা হিসেবে বিবেচিত হবে? কারণ এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে আসার আর কোন উপায় নেই।
এভাবে মিশরে যাত্রী নিয়ে আসা জায়েজ হচ্ছে কি না? বা এই উপায়ে উপার্জিত অর্থ হালাল কিনা?
পুনরায় উল্লেখ্য, এভাবে যাত্রী আনার ক্ষেত্রে সৌদি আরব এবং মিশরের কোন সমস্যা বাধা নেই। ‌

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/31470/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ  
ঘুষ কবিরা গুনাহ সমূহের একটি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত,

 ﻋﻦ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﻌَﻦَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﻲ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮْﺗَﺸِﻲ .
অনুবাদঃ ঘুষ প্রদাণকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের উপর রাসূলুল্লাহ সাঃ লা'নত দিয়েছেন। মুসনাদে আহমদ-৬৭৯১ সুনানে আবু-দাউদ-৩৫৮০ 

তবে একটি মাসয়ালা হলোঃ-  ঘুষ দেওয়া ব্যতীত যদি নিজ প্রাপ্য হক আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে এমতাবস্থায় ঘুষ দেয়া জায়েয।অন্যথায় ঘুষ দেয়া হারাম।তবে ঘুষ গ্রহণ করা সর্বাবস্থায়-ই নাজায়েয ও হারাম। প্রয়োজনে ঘুষ দেয়া জায়েয।

এ বিষয়ের উপর উলামায়ে কেরাম নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করে থাকেন। হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি থেকে বর্ণিত,

 ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ( ﺇِﻥَّ ﺃَﺣَﺪَﻫُﻢْ ﻟَﻴَﺴْﺄَﻟُﻨِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔَ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴﻬَﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻓَﻴَﺨْﺮُﺝُ ﺑِﻬَﺎ ﻣُﺘَﺄَﺑِّﻄُﻬَﺎ ، ﻭَﻣَﺎ ﻫِﻲَ ﻟَﻬُﻢْ ﺇِﻻ ﻧَﺎﺭٌ ، ﻗَﺎﻝَ ﻋُﻤَﺮُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻓَﻠِﻢَ ﺗُﻌْﻄِﻴﻬِﻢْ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﺇِﻻ ﺃَﻥْ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧِﻲ ، ﻭَﻳَﺄْﺑَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻲ ﺍﻟْﺒُﺨْﻞَ ) 

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে যাকাতের মাল থেকে কিছু দেওয়ার জন্য সুওয়াল করে।অতঃপর আমি তাকে কিছু দিয়ে দেই।তথা তার সুওয়াল আমার কাছ থেকে কিছু নিয়ে নেয়।তবে এই গ্রহণকৃত জিনিষ তাদের জন্য আগুনের মত।তখন উমর রাযি বললেন, হে রাসূলুল্লাহ! তাহলে আপনি কেন দেন?তারা আমারকে লেপ্টে ধরেছে।অথচ আল্লাহ আমাকে কৃপণতা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছন।মসনাদে আহমদ-১০৭৩৯ 

বিস্তারিত জানুনঃ 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
কোনো যোগ্য ব্যাক্তি যদি  নিজ প্রাপ্য হক আদায়ের লক্ষ্যে ঘুষ দেয়,অবস্থা যদি এমন হয় যে ঘুষ না দিলে তার এই চাকুরী হবেনা,তাহলে  এমন অবস্থায় ঘুষ দেওয়া যাবে।
তার বেতন হালাল হবে।
তবে যারা এই ঘুষ গ্রহন করবে,তাদের ক্ষেত্রে তাহা গ্রহন হারাম হবে।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
প্রশ্নের বিবরণ মতে জনপ্রতি টাকা দিয়ে যে  বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পার হতে হয়,এক্ষেত্রে  যদি উমরাহ করে সৌদি আরব থেকে মিশরে আসে,সেক্ষেত্রে টাকা দেয়াতে গুনাহ হবেনা।

এই উপায়ে যারা অর্থ উপার্জন করবে,তাদের এই অর্থ উপার্জন আইনত নিষিদ্ধ হলে বা অনুমতি না থাকলে উপার্জিত অর্থ হালাল হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...