আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
313 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি আপনাদের এখানে প্রশ্ন না করেও মানুষ এর প্রশ্ন দেখে, অনেক উত্তর পেয়েছি। আই ফতোয়া একটা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে সম্মানিত মুফতি দের ফতোয়া থেকে অনেক কিছুর উপর আমি আমল করেছি। আমি কয়েকটা অনলাইন সাইটে কসম নিয়ে প্রশ্ন করেছি। কেউ আমাকে ব্যাপার টা ঠিক ভাবে উত্তর দিচ্ছে না।

১) লিখে কসম করলে কখন কসম হবে? আই ফতোয়া তে আমি একজনের প্রশ্নে উত্তর দেখেছি যে, যদি নিয়ত থাকে তাহলে নাকি লিখে কসম করলে কসম হয়ে যাবে। নিয়ত না থাকলে কি হবে না কসম লিখলেও?

২) যখন দীনের বুঝ ছিল না, তখন আমি লিখে হাসতে হাসতে মজার ছলে কসম করে অনেক কিছু লিখেছি ম্যাসেজ এ। আমি কসম নিয়ে এসব ফতোয়া জানতাম ই না। এখন আমি আমার নিয়ত নিয়ে নিশ্চিত না। আমার মনে নাই কেমনে কি বলেছিলাম। কারন ফতোয়া জানতাম না।
""" এখন এই লিখা কসম গুলোর কি হবে? আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিলেই হবে? নাকি কাফফারা দিতে হবে"""""?
৩) যেহেতু শুধু কসম বললে কসম হয়ে যায়, কারন শুধু কসম বলা মানে নাকি আল্লাহর কসম বুঝায়, তাহলে কি আমার কসম, তোমার কসম এসব লিখে কসম করলে কসম হয়ে যাবে?
আমাকে যদি একটু সুন্দর করে বুঝায় দিতেন আমি সেই অনুযায়ী আমল করতাম। একটু দয়া করুন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

সুরা মায়েদার ৮৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন 
 لَا یُؤَاخِذُکُمُ اللّٰہُ بِاللَّغۡوِ فِیۡۤ اَیۡمَانِکُمۡ وَ لٰکِنۡ یُّؤَاخِذُکُمۡ بِمَا عَقَّدۡتُّمُ الۡاَیۡمَانَ ۚ فَکَفَّارَتُہٗۤ اِطۡعَامُ عَشَرَۃِ مَسٰکِیۡنَ مِنۡ اَوۡسَطِ مَا تُطۡعِمُوۡنَ اَہۡلِیۡکُمۡ اَوۡ کِسۡوَتُہُمۡ اَوۡ تَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ ؕ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِکَ کَفَّارَۃُ اَیۡمَانِکُمۡ اِذَا حَلَفۡتُمۡ ؕ وَ احۡفَظُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۸۹﴾

আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অর্থহীন কসমের ব্যাপারে, কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে কর সে কসমের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করেন। সুতরাং এর কাফফারা হল দশ জন মিসকীনকে খাবার দান করা, মধ্যম ধরনের খাবার, যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খাইয়ে থাক, অথবা তাদের বস্ত্র দান, কিংবা একজন দাস-দাসী মুক্ত করা। অতঃপর যে সামর্থ্য রাখে না তবে তিন দিন সিয়াম পালন করা। এটা তোমাদের কসমের কাফ্ফারা, যদি তোমরা কসম কর, আর তোমরা তোমাদের কসম হেফাযত কর। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। 
,
★সুতরাং শপথ তিন প্রকার। এক. যদি অতীত ঘটনা সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা শপথ করা হয়, তাকে 'ইয়ামিনে গুমুস' বা পাপে নিমজ্জিত শপথ বলা হয়। উদাহরণত, কেউ কোনো কাজ করে জেনেশুনে শপথ করে বলল যে সে কাজটি করেনি। এ মিথ্যা শপথ কবিরা গুনাহ। তবে এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব হবে না।

দুই. নিজ ধারণায় সত্য মনে করে কোনো অতীত ঘটনা সম্পর্কে শপথ করা। অথচ বাস্তবে তা অসত্য। যেমন- কোনো অসমর্থিত সূত্রে জানা গেল, অমুক ব্যক্তি এসে গেছে। এর ওপর নির্ভর করে কেউ আল্লাহর নামে শপথ করে বলল, 'অমুক ব্যক্তি এসে গেছে।' এরপর দেখা গেল, এটি বাস্তবের বিপরীত। এ ধরনের শপথকে 'ইয়ামিনে লগ্ভ' বলা হয়। 

এ ছাড়া অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে শপথবাক্য উচ্চারিত হলে একেও 'ইয়ামিনে লগ্ভ' বা অহেতুক শপথ বলা হয়। এ-জাতীয় শপথে কোনো গুনাহ নেই। কাফফারাও দিতে হয় না।

তিন. আল্লাহর নাম নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করা বা না করার শপথ করা। এ রকম শপথকে 'ইয়ামিনে মুনআকিদ' বা কার্যকর শপথ বলা হয়। এ শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। এমনকি কোনো কোনো অবস্থায় গুনাহও হয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই, 
(১-২)
আল্লাহ তায়ালার নামে ভবিষ্যতে কোনো কথা বলা বা না বলা বা কোন কাজ করা বা না করার কসম খেয়ে করে থাকলে এটা লিখিত কসম করলেও কসম হয়ে যাবে।

قال فی البحر الرائق:ولو قال لا أبشرہ فکتب إلیہ حنث.(البحر الرائق شرح کنز الدقائق 4/ 362،الناشر: دار الکتاب الإسلامی)

(০৩)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এ ধরনের কসম ভঙ্গের দরুন কাফফারা আবশ্যক হবেনা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (2 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম হুজুর।  অনেক ধন্যবাদ। তাহলে বিস্তারিত বলি। দয়া করে একটু উত্তর দিবেন। 
এক সময় একটা হারাম রিলেশন ছিল। বলতে লজ্জা লাগতেছে। আমি এখন অন্য জায়গায় বিবাহিত। কিন্তু পুরাতন ম্যাসেজ এ কসম করে কিছু লিখেছিলাম কিনা খুজতে যেয়ে পাই এমন-

সে- জাহান্নামে যাই
আমি- আমি তোমার সাথে জান্নাতেই যাইতে চাই
আমি- তুমি এখন চলে গেলে দেখবা আমি হাত কেটে বসে রইছি।( আশে পাশের ম্যাসেজ পড়ে বুঝলাম কোথাও যাওয়া নিয়ে কথা হইতেছিল)
আমি- কসম 
আমি- আমিও করলাম 

হুজুর আমার ম্যাসেজ গুলা ঠিক এমন ই ছিল। 
হুজুর এখন আমি জান্নাতে যাওয়া নিয়ে কসম লিখেছিলাম নাকি হাত কাটা নিয়ে বুঝতে পারছি না।  জান্নাতেই যাইতে চাই এটা তো ভবিষ্যত বাক্য  না।  মনে হয় হাত কাটা নিয়েই।  যেহেতু এই ম্যাসেজ  এর পরে শুধু  কসম লিখেছিলাম। আমি তখন কোনো হাত কাটিনি। আমি কি করবো হুজুর?  আমার কি কাফফারা দিতে হবে? 

আমাকে বলে দিন হুজুর। আমি এই অনুযায়ী আমল করবো ইন শা আল্লাহ। 




by (770,460 points)
এক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবেনা।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...