মুহতারাম মুফতি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম ।
ঈমান ও কুফর বিষয়ে আমার একটি প্রশ্ন আছে ।
আমার স্ত্রী আমার টাকা পয়সার খুব হিসাব রাখে, ভালো উদ্দেশ্যেই রাখে । তার কথা হল, আমি যেন যেখানে সেখানে অযথা টাকা খরচ না করি ৷
আমার দিক থেকে তাকে খাওয়া দাওয়া, কাপড় চোপরের কষ্ট আমি দেই না বা সেসবের কষ্ট দেওয়ার নিয়তও রাখি না ।
পরিস্থিতি এমন নয় যে, আমার বিনা অনুমতিতে তাকে তার প্রয়োজনীয় টাকা চুপ করে নিতে হবে ।
অবশ্য, তার এই খবরদারি আমার কাছে সবসময় ভালো লাগে না ।
এদিকে আমি কোথায় কয় টাকা খরচ করছি সেসবের হিসাব ঠিকমত দিতে না পারলে রাগারাগি করে, কখনো ঝগড়াও করে ৷
আমি আমার প্রতিদিনের যাতায়াতের খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে আমার সুবিধামত জায়গায় রাখি, আবার সেই জায়গাটাও বাসার ভেতরেরই কোন জায়গাই হয়ে থাকে । অনেক সময়ে গোপনে কোন সাদাকাহ বা যেকোন জায়েয কোন শখ পূরণের ইচ্ছে হলে সেখান থেকে খরচ করি ।
তো, একদিন আমার স্ত্রী এমন ভাব করছিল যে, সে ড্রয়ার খুঁজে অবশ্যই কিছু টাকা পেয়ে যাবে আর সেটা নিয়ে নিবে । যদিও রসিকতার ছলেই কথাগুলো বলছিল । আমিও ঘটনাক্রমে ঐ ড্রয়ারেই টাকা রেখেছিলাম । কিন্তু, আমি আমার নিজের টাকা থেকেই কষ্ট করে জমানো টাকা হাতছাড়া করতে ইচ্ছুক ছিলাম না ৷ টাকা জমাতে আমার জায়গা থেকে আমার কষ্ট হত । নয়ত আরো আরাম করে যাতায়াত করার সুযোগ আমার থাকে ৷ এসব গোপন টাকার সন্ধান পেলে সে এগুলো কোথায় কোথায় খরচ করি সেটাও তাকে জানাতে হত ।
আমি এটা করতে চাই না । আমারও গোপন কোন আমল থাকুক, আমারো নিজের শখ পূরণের উপায় থাকুক- সেটাই আমার ইচ্ছে ৷
আমি তখন আমার স্ত্রীকে বললাম যে, হারাম কাজ করিও না অথবা বলেছিলাম যে, এভাবে হারাম টাকা খাইও না ।
কথাটা ভেবেচিন্তে বলিনি । অনেকটা মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে । সম্ভবত, আমার মাথায় এরকম চিন্তা কাজ করছিল যে, তার তো না জানিয়ে টাকা নেওয়ার মত পরিস্থিতি হয়নি । আর, আমি কষ্ট করে জমিয়েছি, সেখানে হাত দেওয়ার কোন অনুমতিই আমি তাকে দিব না, কোন মতেই না, সেখানে আমার কোনই সন্তুষ্টি কাজ করবে না । তার কথা অনুযায়ী সে যদি ড্রয়ার ঘেটে টাকাটা নিয়ে নিত তাহলে সেটা আমার কাছে অনেকটা ছিনতাই করার মত লাগছিল ।
সংসারের প্রকাশ্য বাজেট থেকে না বলে টাকা নিলেও আমি কিছু মনে করি না, কিন্তু, এরকম গোপনে জমানো টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রতি আমার অনুমতি নেই । সম্ভবত তাকে কঠিন কথা বলে ওরকম কাজ করা থেকে বিরত রাখাও উদ্দেশ্য ছিল ।
আপনাদের ওয়েবসাইটে একটা ফতওয়া পড়ার পরে, যেখানে হালালকে হারাম বা মাকরূহ বলার এবং হারামকে হালাল বা মাকরূহ বলার বিষয়ে ফতওয়া দেওয়া হয়েছে । কিন্তু, পরবর্তীতে লিংকটি খুঁজে পেলাম না । নয়ত এখানে দিতাম ।
আমি এখন চিন্তায় পড়ে গিয়েছি ।
ওভাবে, হারাম কাজ করিও না অথবা ওভাবে হারাম টাকা খাইও না - বলার দ্বারা কী কুফরি হয়েছে?
আমাকে ঈমান পুনরায় আনতে হবে? আমাদেরকে কী পুনরায় বিয়ে করতে হবে?