আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
114 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম। সম্মানিত উস্তায, https://ifatwa.info/129490/ পূর্বের এই প্রশ্ন উত্তরের কমেন্টে আমি কিছু প্রশ্ন করেছিলাম ২দিন আগে। রিপ্লাই পাইনি জন্য রিপোস্ট করলাম আফওয়ান। একটু জরুরত ছিলো উত্তর গুলো জানা। অনুগ্রহ করে প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিলে অনেক উপকৃত হতাম..

১। আমার স্বামীর কি নতুন করে ৪লাখ টাকা মোহরানা দিতে হবে আমাকে নাকি ৪লাখ টাকার স্বর্ণই দিতে হবে ? যেহেতু বিয়ের আগে স্বর্ণ দেওয়ার কথা হয়েছিলো! সেক্ষেত্রে আমি চাইলে কি টাকার পরিমান কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে অথবা স্বর্ণ ছাড়া অন্য কিছু চাইতে পারবো ?

নাকি আমার স্বামীকে আমার শ্বাশুড়ির দেওয়া স্বর্ণের ঋণই পরিশোধ করতে হবে?

২। আমি যদি আমার শ্বাশুড়ির স্বর্ণ নিতে না চাই, আমার স্বামীর কাছে নতুন করে মোহরানা চাই! সেক্ষেত্রে আমার কি সেই অধিকার আছে ?

৩। নতুন করে মোহরানা আদায় অথবা ঋণ পরিশোধের আগ পর্যন্ত উক্ত স্বর্ণের যাকাত কি আমার উপর আসবে নাকি যাকাত আমার শ্বাশুড়ির উপর আসবে ?

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

মোহরানার টাকার হকদার স্ত্রী।
এর একচ্ছত্র মালিকানা স্ত্রীর।
মোহরানার টাকা যদি স্বামী আদায় না করে,সেক্ষেত্রে উক্ত মোহরানার টাকা স্বামীর জিম্মায় ঋণ হিসেবে বাকি থেকে যাবে।

স্ত্রী যদি উক্ত দেনমোহর মাফ না করে, আর স্বামীও তা পরিশোধ না করে, তাহলে কিয়ামতের ময়দানে স্বামীর অপরাধী সাব্যস্ত হবে। তাই দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে দেয়া জরুরী।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ   
  
وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ [٥:٥] 

তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর। [সূরা মায়িদা-৫] 

وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ  [٦٠:١٠] 

তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। [সূরা মুমতাহিনা-১০]

যদি আপনার স্ত্রী তার সন্তুষ্টি চিত্তে মাফ করে দেয়,বা কমিয়ে দেয়,তাহলে তা জায়েজ হবে।
তার থেকে জোড় করে কমিয়া নেওয়া যাবেনা।
,    
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  

واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

واتوا النساء صدقاتهن نحلة فان طبن لكم عن شيئ منه نفسا فكلوا هنيئا مرئيا

এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে  দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর।-সূরা নিসা : ৪
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
(০১)
আপনাকে আপনার স্বামী ৪ লাখ টাকার যে গহনা দিয়েছিল,এক্ষেত্রে আপনাকে যেহেতু  আদেশ করা হয়েছে যে এটি আপনার দেবরের বিয়ের সময় দিয়ে দেওয়ার জন্য এবং এর একচ্ছত্র মালিকানা আপনাকে দেওয়া হয়নি, তাই এক্ষেত্রে মোহরানা আদায় হয়নি বলেই বিবেচিত হবে।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর ৪ লাখ টাকার স্বর্ণ দিতে হবে। 

এক্ষেত্রে আপনি চাইলে টাকার পরিমান কমিয়ে দিতে পারবেন।
এই সুযোগ আপনার আছে।

আপনি চাইলে সেই টাকায় স্বর্ণ ছাড়া অন্য কিছু চাইতে পারবেন।

আপনার স্বামীকে আপনার শ্বাশুড়ির দেওয়া স্বর্ণের ঋণই পরিশোধ করতে হবে,এমনটি আবশ্যক নয়।

(০২)
যেহেতু সে স্বর্ণের মালিকানা আপনাকে দেওয়া হয়নি,তাই প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি যদি আপনার শ্বাশুড়ির স্বর্ণ নিতে না চান, আপনার স্বামীর কাছে নতুন করে মোহরানা চান,সেক্ষেত্রে আপনার সেই অধিকার আছে। 

(০৩)
যেহেতু সে স্বর্ণের মালিকানা আপনাকে দেওয়া হয়নি,তাই নতুন করে মোহরানা আদায় অথবা ঋণ পরিশোধের আগ পর্যন্ত উক্ত স্বর্ণের যাকাত আপনার শ্বাশুড়ির উপর আসবে।

যদি সে স্বর্ণের পূর্ণ মালিকানা আপনাকে দিয়ে দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে আপনি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে এর যাকাত আপনাকে দিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...