আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
94 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (12 points)
আসসালামু আলাইকুম,, আমার হাসবেন্ড একজন হাফেজ,, মাদ্রাসা লাইনে পড়াশোনা করা,, আমি জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করছি,, দ্বীনের বুঝ অল্প যেটুকু আছে সেটুকুই মেনে চলার চেষ্টা করি,,,বিয়ের আগে যেমন সবকিছু দেখাচ্ছিলো,,বিয়ের পর সম্পূর্ন ভিন্ন, আমার হাসবেন্ড ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না,,বাকি যেটুকু কয়ওয়াক্ত পড়ে তাও সেটা হাজিরা দেওয়ার মতো ৫ মিনিট ও লাগে না,,বাইরে যেদিন থাকে সেই দিন নামাজ কালামের কথা ভূলে যায়,,আবার মাঝে মাঝে কয় ওয়াক্ত জামাতে পড়ে,,,,

কথা বলতে গেলেই অশ্লীল অভদ্র ভাষায় সবাইকে গালিগালাজ করে,,ঘরে ঢুকেই আমার সাথে অনেক বাজে ব্যবহার করে,,সারাদিন রুমে শুয়ে থেকে ফোন চালায়,,অতিরিক্ত ফোনের নেশা,, আমি যখন তার কাছে যাই,, তখনও সারাদিন ফোন চালাই,,আমার সাথে তেমন কথাও বলেনা,,,

মা বাবা, পরিবারের কাউকে কোনো সম্মান দেয়না,,আমার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে,,আমার পরিবার তার সাথে মিশতে চেয়েছে, কিন্তু সে সম্পর্ক রাখবে না,,,তার ইনকাম মাসে ৪৪ হাজার, তারও বেশি,, তবু আমি আমার কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস তার কাছে ৪/৫ মাস ধরে চাইতে হয় তারপর দেয়, কখনো দেয়না,,,আমি কোনো বিলাসিতা  করিনা,,,আমার মা বাবার একটা মাত্র মেয়ে আমি তারা আমার বাড়ি আসতে পারে না,,বিয়ে হয়েছে একবছর, কখনো আমার বাড়ি তারা আসতে পারিনি,,আমার হাসবেন্ড এর পরিবার আত্মীয়তা রক্ষা করে না,,,গ্রামে জায়গা জমি নিয়ে মামলা,,আর মারামারি কাটাকাটি চলে তাদের সাথে,,সেই বাড়িতে কোনো পর্দার পরিবেশ নেই,,,

এমন পরিস্থিতিতে আমার এইখানে থাকতে অনেক কষ্ট হচ্ছে,,সবথেকে বড় কারন হাসবেন্ড নামাজ পড়েনা,,আমি ডেকে দিলে বা নামাজ পড়তে বললে রাগ দেখায়,,তার মধ্যে অনেক অসততাও রয়েছে,, তার সাথে থাকতে গিয়ে আমি দ্বীনের পথ থেকে সরে যাচ্ছি,, ,,আমাকে বিয়ের জন্য যে বায়োডাটা দিয়েছিলো সেখানে অনেক মিথ্যা বলা হয়েছিল,, যেটা বিয়ের পর জানতে পারি,,তাও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এই ব্যাপারে।এখন দিনের পর দিন সে বেনামাজি হয়ে যাচ্ছে, অসততা,, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ,,মাত্রাতিরিক্ত ফোনের নেশা,,আমার প্রতি কোনো দায়িত্বশীলতা না থাকা,,সবকিছু আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে,,

 এমন পরিস্থিতিতে আমার করণীয় কি??

নিজের দ্বীনের পথে টিকে থাকার জন্য আমি কি এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারবো?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِيْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ ؛ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْـجَنَّةِ.

‘‘যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে’’। (আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)

ইসলামী স্কলারগন বলেছেন, যেসব কারণে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে তা হলোঃ-

★যদি কোনো বাস্তবসম্মত কারণে উভয়ের পক্ষে একসঙ্গে বসবাস করাটা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাহলে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে।

★যদি স্বামীর মাঝে দৈহিক এমন ত্রুটি থাকে, যার কারণে দাম্পত্যজীবনের স্বাভাবিকতা খুবই দুরূহ হয়ে যায়। যেমন—পাগল হওয়া, যৌন অক্ষম হওয়া, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়া। 
বলা বাহুল্য, স্বামীর মাঝে উক্ত ত্রুটিগুলো থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখা সম্ভব নয়।

★স্বামী স্ত্রীর আবশ্যকীয় জরুরত তথা ভরণ-পোষণ দিতে অক্ষম হলে। কেননা, এটা স্ত্রীর মৌলিক অধিকার। 

★শরিয়ত নির্দেশিত কারণ ছাড়া স্বামী স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়া বা জুলুম করা।

এটা শারীরিকভাবেও হতে এবং মানসিকভাবে হতে পারে। যেমন—স্ত্রীকে মারধর করা, গালাগাল করা, স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা সাক্ষাতে বাধা প্রদান করা, বেপর্দা কিংবা হারাম কাজে স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাধ্য করা। 

★স্বামীর মধ্যে দ্বিনদারির প্রতি অবহেলা চরম পর্যায়ের হলে। যেমন—নামাজ না পড়া, মদ পান করা, পরকীয়া কিংবা চারিত্রিক অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হওয়া। 

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যেহেতু আপনি পর্দা করতে পারছেননা, সুতরাং বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করুন।

সেই বাড়িতে পর্দার পরিবেশ করতে না পারলে 
আপনার স্বামীকে নিয়ে আলাদা বাসায় থাকার চাপ দিন।
 
এ সংক্রান্ত আরো জানুনঃ- 
আপনার স্বামী যেহেতু পূর্ণভাবে দ্বীনের উপর চলছে না, তাই তাকে চিল্লায় পাঠিয়ে দিতে পারেন অথবা প্রতি মাসে তিন দিনের জামাতে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

তার সাথে থাকার দরুন পারিবারিকভাবে যেসব সমস্যা হচ্ছে য় উল্লেখিত এসব সমস্যার সমাধানের জন্য উভয় পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে বিষয়টি আলোচনা নিয়ে আসতে পারেন এবং আপনার স্বামীকে বুঝাতে পারেন। আশা করি ইনশাআল্লাহ আপনার সামনে সংশোধন হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...