আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
81 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।

আমাদের কলেজে হিন্দু শিক্ষার্থীদের পুজা উদযাপন কমিটি রয়েছে। সেখানে তারা কালিপুজা(দিপাবলি অনুষ্ঠান), সরস্বতী পূজা, হলি সহ আরো তাদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কলেজ ক্যাম্পাসে।অনেক সুন্দর করে লাইটিং করে সাজায় কলেজ ক্যাম্পাস।
১.এই সাজানো দেখে কতক মুসলিম অতি উৎসাহিত হয়ে অনুষ্ঠানে যায় উপভোগ করতে। এটা কতটুকু জায়েজ কাজ। ইসলাম এই সমন্ধে কি বলে।তাদের এই কাজ থেকে কুভাবে বিরত রাখা যায়?

২.কোনো মুসলিম যদি বলে যে তারাও আমাদের অনুষ্ঠানে আসে আমাদেরো তাদের অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত এমন কথা বলার মাধ্যমে সে কি বড় সর গুনাহে লিপ্ত হলো না?

৩. পুজা রিলেটেড অনুষ্ঠান বা হিন্দুদের যে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া  যেখানে গান বাজনা নাচানাচি হয় এগুলো নিয়ে ইসলামের সীমারেখা নির্দিষ্ট করে বললে মুনাসিব হয়।
৪.এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিনতিগুলো বললে মুনাসিব হয়।

৫.হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভোগ দেয় যেমন খিচুরি এটা খাওয়া উচিত হবে? যেহেতু জানিনা এটা প্রসাদ কিনা। তারা সঠিক করে বলেও না।
৬.কিছুদিন আগে দুর্গাপূজার সময় এক নিউজে দেখেছিলাম অনেক অনেক মুসলিম সেই অনুষ্ঠানে পুজা দেখতে এবং অনুষ্ঠান উপভোগ করতে গিয়েছিলো  এবিশয়ে যদি শরীয়ত এর সিমারেখা বলতেন আর এই কাজ এর জন্য তাদের গুনাহ কেমন হয়েছে?
৭.দুর্গাপুজার পরে জলের হিন্দু শিক্ষার্থীরা নারু নিয়ে এসেছিলো যানা নেই এটা প্রসাদ কিনা, তারা বলে যে এটা প্রসাদ নয় (তারা যদি মিথ্যা বলে) এটা কি গ্রহন করা যাবে?

হলে ছোট খাটো দাওয়াতি কাজ করার তাউফিক আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ । বোনেদের কিভাবে সর্তক করতে পারি। কিভাবে এই ফিতনা থেকে বাচাতে পারি দ্রুত জবার দিলে মুনাসিব হয় উস্তাদ।

আজকে  এখানে সন্ধ্যায় কালিপুজা উপলক্ষে দিপাবলি অনুষ্ঠান  শুনেছি সেখানে আমাদের মুসলিম কিছু বলেরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এদের কিভাবে আটকাবো দ্রুত জানান উস্তাদ।

1 Answer

0 votes
by (763,620 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(১.৩.৪,৬)
https://ifatwa.info/50401/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ
মহান আল্লাহ্ বলেন, “নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম।” (সূরা আল ইমরানঃ১৯)

"হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন।" [সূরা হজঃ ৭৩]

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন।" [সূরা আন নিসাঃ১১৬]

শিরক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন - 

আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা সবচেয়ে বড় জুলুম। (সূরা লোকমানঃ 13) 

উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, "তোমরা মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে।" 

(ইবনুল ক্বাইয়্যিম(রাহিঃ) তাঁর 'আহকামুল জিম্মাহ ১/৭২৩-৭২৪ এ সহিহ সনদে বায়হাক্বী থেকে এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।)

বিধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কাফেরদের শুভেচ্ছা জানানো আলেমদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হারাম। ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) তাঁর লিখিত “আহকামু আহলিয যিম্মাহ” গ্রন্থে এ বিধানটি উল্লেখ করেছেন। 

তিনি বলেন: “কোন কুফরী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাহতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে।”

কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,
إِن تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنكُمْ ۖ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ
‘তোমরা যদি কুফুরী কর তবে (জেনে রেখ), আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফুরী আচরণ পছন্দ করেন না।’ [সূরা যুমার, আয়াত: ৭]

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার কিতাবে লিখেন,
‘যে ব্যক্তি কারো গুনাহের কাজ, বিদআত বা কুফরি কাজের কারণে অভিনন্দন জানায়, সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সামনে নিজেকে পেশ করে।’ [আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/৪৪১]

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
হিন্দুদের পূজায় যাওয়া,তাতে শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নয়,হারাম।

মূর্তি পূজা করলে ঈমান চলে যায়।

https://ifatwa.info/37050/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ

পূজা দেখে উপভোগ করার অর্থ যদি এমন হয় যে,এটা আমাদের ধর্ম থেকে উত্তম প্রার্থনা পদ্ধতি, আমিও এমন করতে চাই,বা আমাদের ধর্মে কেন এমন হলোনা?
তাহলে ঈমান চলে যাবে।

আর যদি এমন না হয়, বরং পুজায় সংগঠিত ঘটনা বা তৎসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে উপভোগ করা হয়, কিন্তু অন্তরে পুজাকে ঠিকই গৃনা করা হয় বা পুজাকে নিজের জন্য অপছন্দ করা হয়,তাহলে তার আসল(ত্রুতিপূর্ণ)ঈমান অবশ্যই বাকী থাকবে,যদিও তার মধ্যে কামিল ঈমানের লেশমাত্রও বিদ্যমান থাকবে না।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- 

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
মূর্তি পূজা করলে ঈমান চলে যায়।

আল্লাহ তাআলা নবীকে সতর্ক করে বলেছেন-
وَ لَقَدْ اُوْحِیَ اِلَیْكَ وَ اِلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكَ  لَىِٕنْ اَشْرَكْتَ لَیَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَ لَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ.
নিশ্চয় আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি এই ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক করেন তাহলে অবশ্যই আপনার সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং নিশ্চিত আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। -সূরা যুমার (৩৯) : ৬৫

অন্যত্র আল্লাহ আরো বলেছেন-
اِنَّهٗ مَنْ یُّشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَیْهِ الْجَنَّةَ وَ مَاْوٰىهُ النَّارُ.
আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। -সূরা মায়েদা (৫) : ৭২

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন-
اِنَّ اللهَ لَا یَغْفِرُ اَنْ یُّشْرَكَ بِهٖ وَ یَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذٰلِكَ لِمَنْ یَّشَآءُ وَ مَنْ یُّشْرِكْ بِاللهِ فَقَدِ افْتَرٰۤی اِثْمًا عَظِیْمًا.
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে। -সূরা নিসা (৪) : ৪৮

একজন মানুষ যত ভালো কাজই করুক কিন্তু সে যদি র্শিক করে আল্লাহ তাআলার কাছে তার কোনো কিছুরই মূল্য নেই। এজন্য কিয়ামতের দিবসে মুশরিকরা যত ভালো কাজই নিয়ে আসুক আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে ধুলিকণা-রূপ করে দিবেন।

 আল্লাহ বলেন-
وَ قَدِمْنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَآءً مَّنْثُوْرًا.
তারা (দুনিয়ায়) যা-কিছু আমল করেছে, আমি তার ফায়সালা করতে আসব এবং সেগুলোকে শূন্যে বিক্ষিপ্ত ধুলোবালি (-এর মত মূল্যহীন) করে দেব।  -সূরা ফুরকান (২৫) : ২৩
.
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিরা যদি মুূর্তি পুজা করে,তাহলে  তাদের ঈমান চলে যাবে।

তবে যদি পূজা না করে, এমনিতেই সেই অনুষ্ঠানে যায়, গান বাজনা,আনন্দ করে,কিন্তু মুূর্তি পুজা না করে,তাহলে তার ঈমান যাবেনা।
তারপরেও তাদেরকে খালেছ দিলে তওবা করতে হবে।
,
বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০২)
হ্যাঁ, এটি বলা ইসলাম সমর্থন করেনা।

(০৫)
সঠিক ভাবে না জানলে সেটি খাওয়া জায়েজ হবেনা।

(০৭)
সেটি প্রসাদ না হলে খাওয়া যাবে।
তবে অনুত্তম। 

সন্দেহ হলে খাওয়া হতে বিরত থাকবেন।

★যেসমস্ত মুসলিমরা সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে,তাদেরকে উপরোক্ত ফতোয়ার আলোকে বুঝাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...