আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
40 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
যে ব্যাক্তি রেগুলার নামাজ পড়েনা কুরআন পড়েনা তার পক্ষে কি রাসুল সা: কে দেখা সম্ভব??
মেয়েটির বাবা ইমাম হওয়ায় ছোটবেলায় নবী রাসুলের বই পড়ে রাসুল সা: কে স্বপ্নে দেখার আগ্রহ জাগে,এবং রেগুলার আমল শুরু করে।তখন মাত্র ক্লাস ৫-৬ এ পড়তো। তারপর বড় হবার সাথে সাথে মেয়েটি ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়,তার ভাষ্যমতে সে প্রচুর পাপ করেছে,ভীষণ গুনাহগার। হটাৎ রব্ব তাকে হেদায়েত দান করেন তবে এখন সে রুকাইয়া জনিত সমস্যা ফেস করে + নামাজ রোজা করতে পারেনা। তার তীব্র ইচ্ছে আছে আল্লাহর কাছে চায় কিন্তু কেন যেন হয়ে উঠেনা। প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে মাফ চায়,এমনি এক রাতে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে কান্নাকাটি করছিলো যে আমার মত বান্দার কি জান্নাতে যাওয়ার যোগ্যতা আছে,আল্লাহ কেন আমি ইবাদাত করতে পারিনা। তোমার দয়া ছাড়া আমল দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবেনা এইটা ঠিক কিন্তু এত এত নেয়ামতের শুকরিয়া হিসেবেও তো কিছু করা উচিৎ।  এবিং সেই রাতে সে স্বপ্নে চাদের মত সুন্দর একজন মানুষ দেখেন আবছা আবছা। এবকং তার অবচেতন মন তাকে বলে এইটা রাসুল সা:। তার চেহারাটা মনে পড়ছেনা শুধু মনে হয় নুরের একটা ঝলক চাদের মত কিছু। সে চিন্তায় আছে এমন কি সম্ভব তার মত গুনাহগার এর পক্ষে রাসুল সা:কে দেখা? নাকি পুরোটাই স্বপ্ন!!

1 Answer

0 votes
by (702,720 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

স্বপ্নে রাসূল সাঃ কে তেমন দেখতে পাওয়া যায়, যেমন ব্যক্তির ঈমান ও আমলের অবস্থা হয়ে থাকে। যদি রাসূল সাঃ এর অবস্থা ভাল দেখে স্বপ্নে, তাহলে স্বপ্ন দেখাকারী ব্যক্তির ঈমান ও আমল ভাল হওয়ার দলীল এটা। আর যদি খারাপ অবস্থায় রাসূল সাঃ কে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে যে দেখছে তার ঈমান বা আমলে সমস্যা আছে।

তেমনি কেউ যদি রাসূল সাঃ কে সুন্দর অবয়বে দ্বীনী কাজ করতে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে লোকটির ঈমানী কাজে আগ্রহ আছে। এক কথায় রাসূল সাঃ কে যে অবস্থায় পরিদৃষ্ট করবে স্বপ্নে, নিজের ঈমান ও আমলের হালাত তেমনি মনে করে নিবে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

أن أبا هريرة قال : سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول ( من رآني في المنام فسيراني في اليقظة ولا يتمثل الشيطان بي 

হযতর আবূ হুরায়রা রাঃ বলেনঃ রাসূল সাঃ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নযোগে দেখল, সে যেন আমাকে বাস্তবেই দেখল। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৫৯২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬০৫৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬০৫২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫০২৫ , সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২১৩৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৯০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২২৭৬}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
স্বপ্নে যদি ইয়াকিন হয় যে, পরিদৃষ্ট ব্যক্তি রাসূল সাঃ, তাহলে বিশ্বাস করে নিবে ব্যক্তি রাসূল সাঃ কেই দেখছে। তবে আকৃতিটা হুবহু রাসূল সাঃ এর হওয়া জরুরী নয়।

আরেকটি বিষয় হল, স্বপ্নে রাসূল সাঃ কে তেমন দেখতে পাওয়া যায়, যেমন ব্যক্তির ঈমান ও আমলের অবস্থা হয়ে থাকে। যদি রাসূল সাঃ এর অবস্থা ভাল দেখে স্বপ্নে, তাহলে স্বপ্ন দেখাকারী ব্যক্তির ঈমান ও আমল ভাল হওয়ার দলীল এটা। আর যদি খারাপ অবস্থায় রাসূল সাঃ কে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে যে দেখছে তার ঈমান বা আমলে সমস্যা আছে।

তেমনি কেউ যদি রাসূল সাঃ কে সুন্দর অবয়বে দ্বীনী কাজ করতে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে লোকটির ঈমানী কাজে আগ্রহ আছে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত স্বপ্নে আপনার যদি ইয়াকিন হয়নি যে, পরিদৃষ্ট ব্যক্তি রাসূল সাঃ,সেক্ষেত্রে আপনি রাসূল সাঃ কে আসলেই দেখতে পেয়েছেন।

এর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করুন।

ঈমানী কাজে অনাগ্রহ থাকলে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।

আপনি দরুদ শরীফ বেশি বেশি পাঠ করবেন,সুন্নাতের উপর পূর্ণ আমল চালিয়ে যাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...