0 votes
361 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
edited by

৩৮৯৪. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদিনায় এলাম এবং বনু হারিস গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। এতে আমার চুল পড়ে গেল। পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল। সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সাথে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রূমান আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি বুঝতে পারিনি, তার উদ্দেশ্য কী? তিনি আমার হাত দরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। আর আমি হাঁফাচ্ছিলাম। শেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা প্রশমিত হল। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং তা দিয়ে আমার মুখমন্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভিতর প্রবেশ করালেন। সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলা ছিলেন। তাঁরা বললেন, কল্যাণময়, বরকতময় এবং সৌভাগ্যমন্ডিত হোক। আমাকে তাদের কাছে দিয়ে দিলেন। তাঁরা আমার অবস্থান ঠিক করে দিলেন, তখন ছিল দ্বিপ্রহরের পূর্ব মুহূর্ত। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে আমি হকচকিয়ে গেলাম। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে তুলে দিল। সে সময় আমি নয় বছরের বালিকা। (৩৮৯৬, ৫১৩৩, ৫১৩৪, ৫১৫৬, ৫১৫৮, ৫১৬০, মুসলিম ১৬/৯, হাঃ নং ১৪২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৬১২)

 

1. উক্ত হাদিসে বলা হয়েছে যে নবীজি তাকে ৬ বসর বয়সে বিয়ে করেন তাহলে তারপর তাকে ৯ বসর বয়সে বাসায় নিয়ে সংসার করেন. এখানে তিনি কি তাকে এতো বসর পরে কেন নিয়ে সিলেন ? 

 

2. তাহলে ইসলাম এর নিয়ম অনুযায়ী একজন পুরুষ বা মেয়ের বিবাহ এর নুন্নতম কত বয়স হতে হবে ?

3. আমাদের একজন শিক্ষক আমাদের বিবাহে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটা কথা বলতেন যে দুটা বিবাহ করেসে যে জীবন জাহান্নাম হয়েসে তার . এই ধরণের কথা বলা কি কুফুরী ?  

1 Answer

0 votes
by (382,320 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ-

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَنَزَلْنَا فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ خَزْرَجٍ، فَوُعِكْتُ فَتَمَرَّقَ شَعَرِي فَوَفَى جُمَيْمَةً، فَأَتَتْنِي أُمِّي أُمُّ رُومَانَ وَإِنِّي لَفِي أُرْجُوحَةٍ وَمَعِي صَوَاحِبُ لِي، فَصَرَخَتْ بِي فَأَتَيْتُهَا لاَ أَدْرِي مَا تُرِيدُ بِي فَأَخَذَتْ بِيَدِي حَتَّى أَوْقَفَتْنِي عَلَى باب الدَّارِ، وَإِنِّي لأَنْهَجُ، حَتَّى سَكَنَ بَعْضُ نَفَسِي، ثُمَّ أَخَذَتْ شَيْئًا مِنْ مَاءٍ فَمَسَحَتْ بِهِ وَجْهِي وَرَأْسِي ثُمَّ أَدْخَلَتْنِي الدَّارَ فَإِذَا نِسْوَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي الْبَيْتِ فَقُلْنَ عَلَى الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ، وَعَلَى خَيْرِ طَائِرٍ. فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِنَّ فَأَصْلَحْنَ مِنْ شَأْنِي، فَلَمْ يَرُعْنِي إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضُحًى، فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِ، وَأَنَا يَوْمَئِذٍ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদিনায় এলাম এবং বনু হারিস গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। এতে আমার চুল পড়ে গেল। পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল। সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সাথে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রূমান আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি বুঝতে পারিনি, তার উদ্দেশ্য কী? তিনি আমার হাত দরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। আর আমি হাঁফাচ্ছিলাম। শেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা প্রশমিত হল। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং তা দিয়ে আমার মুখমন্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভিতর প্রবেশ করালেন। সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলা ছিলেন। তাঁরা বললেন, কল্যাণময়, বরকতময় এবং সৌভাগ্যমন্ডিত হোক। আমাকে তাদের কাছে দিয়ে দিলেন। তাঁরা আমার অবস্থান ঠিক করে দিলেন, তখন ছিল দ্বিপ্রহরের পূর্ব মুহূর্ত। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখে আমি হকচকিয়ে গেলাম। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে তুলে দিল। সে সময় আমি নয় বছরের বালিকা।( সহীহ বোখারী-২১৫৩)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

(১) আবু-বকর যখন দেখলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাঃ এর মত পাত্র আর পাওয়া যাবে না। তখন তিনি ছয় বৎসর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু যেহেতু তখন আয়েশা রাযি.সংসার কি তিনি তা বুঝবেন না। সে জন্য উনাকে রাসূলুল্লাহ সাঃ নয় বৎসর বয়সে ঘরে নিয়ে আসেন। এভাবে উম্মতের জন্যও বিধান। অর্থাৎ যে কোনো বয়সে বিয়ে করা যাবে। তবে সহবাসের উপযোগী হওয়ার পূর্বে সহবাস করা যাবে না। 


(২)বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো তফাৎ নেই।বরং যে কোনো বয়সের কাউকে যে কেউ বিয়ে করতে পারবে।এমনকি ছোট্ট শিশুসন্তানকেও বিয়ে করা যাবে।যেমন হযরত আয়েশা রাযি এর বিয়ে হয়েছিলো।তবে সহবাসের যোগ্য হওয়ার পূর্বে উক্ত শিশুসন্তানের সাথে সহবাস করা যাবে না।তারপরও যদি কেউ করে নেয় তাহলে কাযীর দরবারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।বালেগ হওয়ার পর বিয়ে হওয়াটা স্বাভাবিক।পুরুষ সাধারণত ১৫ বছর পর বালেগ হয়।এবং মহিলা ১৩ বছর পর বালেগ হয়।তবে এর পূর্বে ও বালেগ হতে পারে।পুরুষের বালেগ হওয়ার আলামত স্বপ্নদোষ হওয়া।মহিলার বালেগ হওয়ার আলামত ঋতুস্রাব হওয়া।সাধারণত পুরুষ ১৫বছর পর বিয়ে করবে এবং মহিলা তের বছর পর বিয়ে করবে।এবং স্ত্রী থেকে স্বামী দু-বছরের বড় হওয়া উত্তম। কেননা জান্নাতে পুরুষরা থাকবে ৩৩ বছরের আর নারীরা থাকবে ৩১ বছরের।যেমনটা সুয়ূতী রাহ, তাফসীরে জালালাইনে উল্লেখ করেছেন।


(৩) আল্লাহ তা’আলা বলছেন, 

فَإِنْ خِفْتُمْ أَلاَّ تَعْدِلُواْ فَوَاحِدَةً 

আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই ।(সূরা নিসা-০৩)

উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, বে-ইনসাফের ভয় থাকলে, একটি বিবাহ করতে হবে। 


وَلَن تَسْتَطِيعُواْ أَن تَعْدِلُواْ بَيْنَ النِّسَاء وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلاَ تَمِيلُواْ كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِن تُصْلِحُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ اللّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

তোমরা কখনও নারীদেরকে সমান রাখতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব, সম্পূর্ণ ঝুঁকেও পড়ো না যে, একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদাভীরু হও, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। (সূরা নিসা-১২৯)

উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে যে, ওয়াজিব ভরণ পোষণ সমান সমান আদায় করার পরও মহব্বত এবং সহবাসে সমতা বজায় রাখা যাবে না। হ্যা এটা অবশ্য ওয়াজিবও না। বরং ওয়াজিব ভরণ পোষণে সমতা বজায় রাখাই ওয়াজিব। 

আপনার শিক্ষকের যদি উদ্দেশ্য এমন থাকে যে, যে দুইটি বিয়ে করবে, সে কখনো সমতা বজায় রাখতে পারবে না, এ জন্য সে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে, তাহলে তার একথা বিশুদ্ধ । আরে যদি উনি বলেন, যে দুই বিয়ে করবে, তার দুই বিয়ের অপরাধে সে জাহান্নামে জ্বলবে, তাহলে তার একথা কুফরী কথা । কেননা যেখানে আল্লাহ চার পর্যন্ত বিয়েকে জায়েয বলেছেন, সেখানে উনি কেন হারাম করবেন। যেহেতু উনার কথা ব্যখ্যাযোগ্য তাই উনাকে কাফির বলা যাবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (382,320 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...