আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
121 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম। আমি ৫ বছরের অধিক সময় থেকে ইসলামের পথে পরিপূর্ণভাবে চলার চেষ্টা করছি, যদিও অনেক আগে থেকেই আমি নামায পড়তাম। কিন্তু বিয়ের সময় আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি যার পরিণাম এখন ভোগ করছি। আমার স্বামী দ্বীনদার না। বিয়ের আগে থেকেই আমি জানতাম সে নিজে নামাজী না (শুধু জুমার নামাজ পড়ে) , কিন্তু তার ইনকাম হালাল, যাকাত দেয়, রোজা রাখে এবং তাঁর পুরো পরিবার ধার্মিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত সে নিজেও নামাজ পড়েছে কিন্তু পরবর্তীতে আস্তে আস্তে নামাজ পড়া ছেড়ে দেয়। কুরআনের কয়েক পারা তাঁর মুখস্থ, ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড  আলিয়া মাদ্রাসা(পরে জেনেছি সে কওমিতেও দাওরায়ে হাদীস ২য় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছে)। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছিল, যেহেতু সে নামাজ পড়ে না কিন্তু অন্য বিধানগুলো প্র‍্যাক্টিস করে আর পরিবারটাও ধার্মিক তাহলে বিয়ের পরে নামাজ শুরু করতে হয়তো তাঁর বেশি সময় লাগবে না। তাছাড়া সে আমাকে কথা দিয়েছিল, সে নামাজ পড়বে , তবে যেহেতু সে অনেকদিন নামাজ থেকে দূরে তাই আবার শুরু করতে তাঁর কিছুটা সময় লাগবে। আমি অনুরোধ করেছিলাম সে যেন অন্তত বিয়ের দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। কিন্তু পড়বে বলে কথা দিয়েও সে কথা রাখে নি। আর বিয়ের পরে নামাজ পড়তে বললে নামাজ শুরু করতে ৩ বছর লাগবে এমন কথা বলতে শুরু করে। তারপর জানতে পারি, ব্যাংকে তাঁর টাকা রাখা আছে যেখানে সুদ হয় এবং সেই টাকা একাউন্টে জমা হয় (চাকরির হালাল টাকায় পরিবার চালানোর মতো যথেষ্ট ইনকাম আছে তাঁর)।  যদিও সুদ ব্যবস্থা আর কাজের চাপের কারণে সে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছে এমনটাই আমাকে জানিয়েছিল। আমি তাঁর হালাল ইনকাম দেখে এবং বিয়ের পরে নিজের চাকরি ছেড়ে দিতে পারবো এই আশাতে আগ্রহী হয়েছিলাম। সে রমজানের রোজা রাখে কিন্তু বিয়ের পরে যাকাত দেয় নি ১ টাকাও। পরিবারের কাছে জেনেছি আগে সে যাকাত দিয়েছে। যখন ব্যাংকে ১৪ লক্ষ টাকা ছিল তখন নাকি সে যাকাত দিতো,  বিয়ের খরচের পরে ৮ লক্ষ টাকা ছিল এবং আমি বারবার বলার পরেও সে যাকাত দেয় নি, এ বছরেও ৪ লক্ষ টাকা ব্যাংকে ছিল সে যাকাত দেয় নি। তাঁর মতে, যেহেতু সে অতো সম্পদশালী না, তাই নিসাব পরিমাণ সম্পদের হিসাব  ৭ ভরি স্বর্ণ অনুযায়ী ধরতে হবে। তাঁকে বুঝাতে বুঝাতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাঁর পরিবারের লোকেরাও নামাজ পড়তে বলতে বলতে ক্লান্ত। সুদের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে পরিবারের কেউ জানে না, শুধু আমি জানি। আমার আজকাল খুব অনুশোচনা হয় এই বিয়ে নিয়ে। আমি এখন তাঁর সাথে কোন মানসিক সংযোগ খুঁজে পাই না, সবসময় মনে হয়, এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। কিন্তু নিজেকে বুঝিয়ে শান্ত করে আবার অপেক্ষা করতে থাকি ২ বছর প্রায় হয়ে গেলো, হয়তো ৩ বছর পরে সে দ্বীনের পথে ফিরে আসবে। আমার প্রশ্ন:

১। যদি সে ৩ বছর পরেও নামাজ না পড়ে , তাহলে আমার করণীয় কী হবে? আমার এখনো কোন সন্তান হয় নি, আমার কি এখন সন্তান নেয়ার জন্য চেষ্টা করা উচিত হবে? আমার বিয়ে হয়েছে দেরিতে, বয়স তো বেড়েই যাচ্ছে!
২। আমি নিজে চাকরি করি এবং নিজের টাকায় নিজের চলার সক্ষমতা আছে। তবে বিয়ের পর গত বছর থেকে একটা কারণে  আমি আর্থিক সংকটে আছি এবং আমিসহ পরিবারের যাবতীয় খরচ তিনিই বহন করছেন। যেহেতু সে হারাম ইনকামের সাথে জড়িত এবং আমি বর্তমানে তাঁর অধীনে তাঁর খরচে চলছি তাহলে আমার ইবাদাত কি কবুল হবে? যদিও সে বলে, আমাকে সে বেতনের টাকায় খাওয়ায়, সুদের টাকায় না। এমতাবস্থায় আমার কী করা উচিত?
৩। যাকাতের নিসাবের ক্ষেত্রে আমার জানামতে সর্বনিম্ন টাকাকেই নিসাব হিসেবে ধরতে হয়। কীভাবে কোন হাদীসের মাধ্যমে তাঁর যুক্তি খণ্ডন করতে পারি?

৪। আমার পরিবারে বাবা কিংবা কোন বড় ভাই নেই, আমি নিজে নিজে অনলাইন, অফলাইনে অনেক চেষ্টা করেছিলাম দ্বীনদার কাউকে বিয়ে করার জন্য। অপেক্ষা করতে করতে ২৯ বছর বয়সে এসে কম্প্রোমাইজ করে এই বিয়েতে মত দেই। ভিন্ন মাযহাবের (হানাফি-আহলে হাদিস) অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও মোটামুটি  নির্বিঘ্নেই বিয়েটা সম্পন্ন হয়। কিন্তু ইদানীং নিজের সিদ্ধান্তের কথা মনে হলে কষ্ট পাই। এই বিয়ে কি আমার তাকদীর, না আমার নিজের সিদ্ধান্তের ফল?
৫। স্বামীর হেদায়েতের জন্য কোন কোন দুয়া করতে পারি?
জাযাকাল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)
আমাদের মনে রাখতে হবে,
পরকালে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ আ'মলের হিসাব নিকাশ দিতে হবে।কারো পাপের বোঝাকে অন্য কেহ বহন করবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺭُ ﻭَﺍﺯِﺭَﺓٌ ﻭِﺯْﺭَ ﺃُﺧْﺮَﻯ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺪْﻉُ ﻣُﺜْﻘَﻠَﺔٌ ﺇِﻟَﻰ ﺣِﻤْﻠِﻬَﺎ ﻟَﺎ ﻳُﺤْﻤَﻞْ ﻣِﻨْﻪُ ﺷَﻲْﺀٌ ﻭَﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﺫَﺍ ﻗُﺮْﺑَﻰ الخ
কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়।
(সূরা ফাতির-১৮)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
স্বামী যদি নামায না পড়ে, তাহলে স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব হল, তাকে বুঝানো।তার হেদায়েতের জন্য দু'আ করা। তার জবাব আপনাকে দিতে হবে না। আপনি সংসার চালিয়ে যেতে পারেন।

(২)
স্বামীর উপার্জন যদি হারাম থাকে বা স্বামী সম্পদের অধিকাংশ যদি হারাম থাকে,তাহলে স্ত্রীর জন্য উচিৎ নিজ মাল থাকলে সেই মাল থেকে খোরাকি গ্রহণ করা।তবে সে চাইলে স্বামীর মাল থেকেও খোরাকি নিতে পারবে।তবে এক্ষেত্রে না নেয়াই উত্তম।স্ত্রীর কোনো প্রকার মাল না থাকলে সে স্বামীর উক্ত সম্পত্তি থেকে প্রয়োজন পর্যন্ত খোরাকি নিতে পারবে।
রদ্দুল মুহতারে বর্ণিত রয়েছে,
وَفِي جَامِعِ الْجَوَامِعِ: اشْتَرَى الزَّوْجُ طَعَامًا أَوْ كِسْوَةً مِنْ مَالٍ خَبِيثٍ جَازَ لِلْمَرْأَةِ أَكْلُهُ وَلُبْسُهَا وَالْإِثْمُ عَلَى الزَّوْج ِتَتَارْخَانِيَّةٌ
যদি স্বামী সন্দেহজনক মাল দ্বারা খাদ্য বা কাপড় ক্রয় করে,তাহলে স্ত্রীর জন্য উক্ত খাদ্য এবং কাপড়-কে গ্রহণ করা জায়েয রয়েছে। গোনাহ অবশ্য স্বামীরই হবে।(তাতারখানিয়া)(রদ্দুল মুহতার-৬/১৯১)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/782

প্রশ্নকারী প্রিয় দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার জন্য স্বামীর হারাম ইনকাম থেকে ওয়াজিব খোরপোষ গ্রহণ জায়েয হবে।তবে ওয়াজিবের অতিরিক্ত খোরপোষ গ্রহণ করা জায়েয হবে না।

(৩) যাকাতের নিসাবের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন টাকাকে নিসাব হিসেবে ধরতে হয়। কেননা যাকাত দেওয়ার উদ্দেশ্য হল, গরীবদেরকে সহায়তা করা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 298 views
...