আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
80 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
ছোটোভাই বর্তমানে অনার্স ১ম বর্ষে পড়ে,তার একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।সেই মেয়েকে নাকি ও কথা দিয়েছে যে ও ২০২৭ সালে বিয়ে করবে। মেয়ে নাকি ওর চেয়ে এক বছরের বড়। বাসায়ও একদিন এনেছে বড় আপু পরিচয় দিয়ে। তখনও জানতাম না মেয়েটির সাথে যে ওর এসব কিছু চলছে।

ঘটনাটি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই আমরা টের পাই নি। সেই মেয়ের সাথে একটা স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ার সুবাদে পরিচয়।  আমাদের জানিয়েছে যে, ও নাকি কোচিং-এর এক আপুকে আরবি পড়ায়। আম্মু বিষয়টা তেমন গুরুত্ব দেয় নি। পরবর্তীতে ওর চাল-চলন সন্দেহজনক দেখে বিষয়টি বুঝতে পারে। মেয়েটিকে যখন বড় আপু পরিচয় দিয়ে বাসায় নিয়ে আসে তখন মেয়ের ফ্যামিলিসহ নানান বিষয়ে কথা জিজ্ঞেস করা হয়। মেয়ের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে আমাদের কোনো দিকেই মিলে না। আমার ফ্যামিলির বিশেষ করে আম্মু যখন শুনেছে যে ঐ মেয়ের সাথেই ওর সম্পর্ক তখন আব্বু আম্মু ওকে নিষেধ করে। এ নিয়ে ঘরে নানান অশান্তি হয়। ও নাকি মেয়ের দ্বীনদারিতা দেখে ভালো লেগেছে। ও কারোর কথাই শুনতে রাজি না।ও এই মেয়েকেই বিয়ে করবে। এখনো মেয়ের সাথে ম্যাসেজিং ও কথা বলা চলমান। ও বাসায় আসলে প্রায়ই দেখি যে মেয়ের সাথে ম্যাসেজিং করে মেয়েও ম্যাসেজ পাঠায়। আমাকে দেখলে বের হয়ে যায় কনভারসেশন থেকে সাথে সাথেই।কিন্তু আমি ওকে বললে ও স্বীকার করে না, উলটা বলে যে ওর নাকি ঐ মেয়ের সাথে কোনো হারাম সম্পর্ক নাই। শুধু মেয়েকে কথা দিয়ে রাখছে এবং ঐটা হেরফের করবে না। আমরা ঢাকায় থাকি। ও রাজশাহীতে বর্তমানে থাকে৷ যখন সুযোগ হয় ঢাকায় চলে আসলে এখনো মেয়েকে আরবি পড়াতে যায়। আব্বু আম্মুর নিষেধও শুনে না।   আমার কথা হচ্ছে মেয়ে যদি এতোই পর্দাশীন ও দ্বীনদার হয় তাহলে কেনো এই সম্পর্কে আছে! আর বাবা-মায়ের কথার কোনো মূল্যই দিচ্ছে না। বরং আমি আমার মতো বুঝিয়েছি দেখে ও সূরা আন-নিসার ৩ নং আয়াতে পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে বলেছে সেই আয়াতের স্ক্রীনশট দেয়। এছাড়াও সূরা নূরের ৩২ নং আয়াতের কথা বলে।

এসব নিয়ে রীতিমতো ঘরের মধ্যে এক অশান্তি চলছে। আম্মু রীতিমতো অসুস্থ এসব নিয়ে চিন্তা করে। বারবার ওকে বুঝালাম আব্বু-আম্মু কষ্ট পাবে যদি তুই তাদের কথা না মেনে চলিস। এছাড়াও সেই মেয়েদের সাথে আমাদের কুফু মিলে না। ও আমাদের ১ টাই ভাই। অনেকভাবে বুঝিয়ে তাকে বললাম মেয়েকে মার্জিতভাবে মানা করে দিতে এবং এই দলিলও দেখালাম যে, ও যদি সেই মেয়েকে দেওয়া কথা না রাখে তাতেও ওর কোনো গুনাহ হবে না। এরপরও ও এসব শুনতে রাজি হয় না।
এখন এমতাবস্থায় কীভাবে ওকে শরীয়তের দিক থেকে বললে ও বাবা-মায়ের কথা শুনে সেই মেয়েকে প্রত্যাখ্যান করবে দয়া করে সুন্দর পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন৷

1 Answer

0 votes
by (808,740 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
নারী পুরুষের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত প্রেমভালবাসা নাজায়েয ও হারাম।
বেগানা নারী-পুরুষ খালওয়াত তথা নির্জনে একাকী অবস্থান করতে পারবে না। হাদীসে একে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে.......
ﻻَ ﻳَﺨْﻠﻮﻥَّ ﺭَﺟُﻞٌ ﺑِﺎﻣْﺮَﺃﺓٍ ﺇِﻻَّ ﻭَﻣَﻌَﻬﺎ ﺫُﻭ ﻣَﺤْﺮَﻡ ) 
কোনো পুরুষ কোনো মহিলার সাথে মহিলার মাহরাম না থাকা অবস্থায় নির্জনে একাকী বসবাস করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী-৫২৩৩;সহীহ মুসলিম-১৩৪১)

ﻣﺎ ﺧﻼ ﺭﺟﻞ ﺑﺎﻣﺮﺃﺓ ﺇﻻ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺛﺎﻟﺜﻬﻤﺎ " 
তরজমাঃ-কোনো পুরুষ যদি কোনো মহিলার সাথে নির্জনে একাকী বসবাস করে,তাহলে তাদের সাথে তৃতীয়জন আরেকজন হল শয়তান।অর্থাৎ শয়তান সর্বদাই তাদেরকে খারাপ কাজের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।(সুনানে তিরমিযি-২১৬৫)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার ভাইকে শয়তান নেক সূরতে এসে থোকা দেয়ার চেষ্টা করতেছে। তার হেদায়তের জন্য দু'আ করুন। তাকে তাবলীগে প্রেরণ করুন। বিয়ের বয়স হয়ে গেলে বিয়ের ব্যবস্থা করুন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...