আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (35 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ

সম্মানিত ওস্তাদ, আমি এগুলো নিয়ে পেরেশানিতে আছি। দয়া করে আমাকে বিস্তারিত উত্তর দিবেন।
১.স্বামীর কাছে স্ত্রীর হকগুলো কি কি?

শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, ফিজিক্যাল নিড ইত্যাদি বিষয়ে স্ত্রী অবধারিত কোন কোন বিষয় পাবে? আমাকে একটু বিস্তারিত লিখে দিন প্লিজ। যদি কোনো নারী শারীরিক মানসিক হকগুলো না পায় তাহলে তা স্ত্রীর হকের খিয়ানত হলো কিনা।

২. বর্তমানে বহুল একটা সমস্যা যে স্বামীরা অধিকাংশ সময় ফোন নিয়ে পরে থাকে, সারাদিন সংসারের কাজ করার পর স্ত্রী আশা করে স্বামী তার সাথে কথা বলুক, খুনসুটি করুক, কিন্তু এমনটা হয়ে ওঠে না। এমতাবস্থায় এভাবে একটানা ফোন চালানো স্ত্রীর হকের খিয়ানত করে কিনা?

৩. হাদীসে বলা হয়েছে নারীরা নরম। কোনো স্ত্রীকে আদর করে বুঝালে বুঝে, কিন্তু উক্ত স্বামী অভিমানগুলো আদর করে না বুঝিয়ে চরম বিরক্ত হয়ে ওঠে। বকাঝকা মারধর দ্বারা চুপ করাতে চায়। স্ত্রী চায় সে তাকে স্নেহের সাথে বুঝাক। কিন্তু স্বামী।সর্বদা মারধরের পথ বেছে নেয়। এভাবে গায়ে দাগ বসিয়ে বসিয়ে প্রহার করা ইসলামে জায়েজ কিনা?

৪. স্ত্রীর প্রতি একজন মুমিন পুরুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? আচরণ খারাপ করলে শুধু স্বামী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য কি সেই খারাপ আচরণ বৈধ?

৫. এমতাবস্থায় একজন স্ত্রীর করণীয় কি। স্ত্রী ছুতে গেলে স্বামী আরেকপাশ হয়ে থাকে, আদর চাইলে ম্যাক্সিমাম সময় তাকে নাকচ করা হয়। তীব্র অপমানিত হয়ে স্ত্রী জিজ্ঞেস করে সে কসম করবে কিনা তাকে না ছুয়ার?  স্বামী কসম করতে বলে, আর উক্ত স্ত্রীও কসম করেছে তাই যে সে নারী সেধে আর তার স্বামীকে ছুবে না সে কাছে না আসা অবধি। এখানে স্ত্রীর প্রতি অবিচার হয়েছে কিনা?
(উল্লেখ্য, এমনটা প্রায় দেড় বছর ধরে হয়ে আসছে। স্ত্রীর ফিজিক্যাল নিডের সময় স্বামীকে খুব কমই পাওয়া যায়। মুখ ফুটে চাইলেও প্রত্যক্ষন করা হয়, বিয়ের পর থেকেই এমন। বিয়ের সময় স্ত্রীর ২৩ বছর ছিলো)

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত।
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا عَبْدَ اللهِ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَلاَ تَفْعَلْ صُمْ وَأَفْطِرْ وَقُمْ وَنَمْ فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ كُلَّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنَّ لَكَ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا فَإِنَّ ذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَيَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً قَالَ فَصُمْ صِيَامَ نَبِيِّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم وَلاَ تَزِدْ عَلَيْهِ قُلْتُ وَمَا كَانَ صِيَامُ نَبِيِّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم قَالَ نِصْفَ الدَّهْرِ فَكَانَ عَبْدُ اللهِ يَقُولُ بَعْدَ مَا كَبِرَ يَا لَيْتَنِي قَبِلْتُ رُخْصَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সওম পালন কর এবং সারা রাত সালাত আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) সওম পালন কর আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হাক্ব রয়েছে, তোমার চোখের হাক্ব রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হাক্ব আছে, তোমার মেহমানের হাক্ব আছে। তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সওম পালন কর। কেননা নেক ‘আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের সওম হয়ে যায়। আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর ‘আমল করতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন ‘আমলের অনুমতি দেয়া হল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আরো বেশি শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তবে আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর সওম পালন কর, এর হতে বেশি করতে যেয়ো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর সওম কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধেক বছর। রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বৃদ্ধ বয়সে বলতেন, আহা! আমি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবূল করে নিতাম! (সহীহ বোখারী-১৯৭৫) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/109795



সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

(১)স্বামীর স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের নিকট অনেক হক বা অধিকার রয়েছে।  
শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, ফিজিক্যাল নিড সকল প্রকার হক পরস্পর পরস্পরের উপর রয়েছে।  যদি কোনো নারী শারীরিক মানসিক হকগুলো না পায় তাহলে তা স্ত্রীর হকের খিয়ানত হবে। ঠিক স্বামী না পেলে তাহরে স্বামীর হকের খেয়ানত হবে।

(২) স্বামী স্ত্রী পরস্পর কথা না বলে একটানা ফোন চালানো স্বামী/স্ত্রীর হকের খিয়ানত হবে।

(৩) গায়ে দাগ বসিয়ে বসিয়ে প্রহার করা ইসলামে হারাম। 

(৪) স্ত্রীর প্রতি একজন মুমিন পুরুষের আচরণ অত্যান্ত সুন্দর ও মার্জিত হওয়া চাই। 

(৫) প্রশ্নের বিবরণমতে স্ত্রীর প্রতি সম্পূর্ণ অবিচার হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে স্বামীর গোনাহ হতেই থাকবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/990


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...