আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন হলো:-
আমার হাসবেন্ড রা ২ভাই এক বোন। আমরা পরিবারে আমি আমার হাসবেন্ড, উনার মা আর উনার ভাই থাকি। হাসবেন্ড সবার বড় ছেলে এরপর তার ভাই তারপর বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আমার হাসবেন্ড এর আয় ২২+ হাজার। আমরা উত্তরা ভাড়া থাকি। তাদের দেশের বাড়ি নোয়াখালী আর আমি সাভারের। আমার শাশুড়ি আছে শশুর মারা গেছে ১২ বছর আগে। সে সরকারি চাকরি করতো বিমানে। সুতরাং আমার শাশুড়ি মাসে পেনশনের টাকা পায়। বিয়ের আগে আমার শাশুড়িই তার টাকা দিয়ে সংসার চালাতো। এখন যেহেতু তার বড় ছেলে বিয়ে করেছে আর তার বেতন ও কম তাই আমার হাসবেন্ড বাসা ভাড়া ১৫০০০ দেয় আর আমার শাশুড়ি খাবার খরচ চালায় এভাবেই চলছে। আর তার ২য় ছেলের বয়স ২৭/২৮ কিন্তু এখনো সে বেকার মার ঘাড় বসে খায় মাও কিছু বলেনা। অনেকটা বেপরোয়া টাইপর। এখন সম্প্রতি ১০ /১২ হাজার টাকার বেতনের চাকরি নিয়েছে ২ মাসের মত। আমার শাশুড়ি অনেক চিল্লাচিল্লি করে সারাদিন আমার ভুল ধরে। খাবারের খোটা দেয় পেয়াজ তেল বেশি খরচ করি এগুলা বলে বলে অনেক অশান্তি করে ঘরে। তাছাড়াও সে আমার মা বাপ তুলে আমাকে গালি দেয়। এটা যে এখন থেকে তা না আমার বিয়ের শুরু থেকে সে আমার সাথে কখনো ভালো আচরন করেনি। সবসময় ভুল ধরত বকতো। মিথ্যা অপবাদ দিতো কিছু বললেই বাঘের মত গর্জে উঠতো আর বলত বিয়াদপ আমার মুখে মুখে আবার তক্ক মারায়। এগুলা চলবনা আমার সাথে। বিয়ের ১ম ১ম আমাকে যৌতুকের জন্য অনেক ছলে বলে কৌশলে বলত। সারাদিন শাশুড়ী বলত যে আমারে( তারে) আমার বাড়ি থিকা সব দিছে ৬পিছ গেলাস সব ৬ পিছ করে দিতে আর তোমারে তোমারে তো ঠকাইছে। আমার বিয়ের দিন আমার শাশুড়ি আমার আম্মু রে বলে আপনারা কি কি দিবেন তার লিস্ট দেন। আমার আম্মু পুরা অবাক কিন্তু গেনজাম করতে চায়নি তাই লিস্ট লিখে দিছে। আমার বাসা থেকে ওয়াশিং মেশিন, ৩ পাটের কাঠের আলমারি ৩ ভরি স্বর্ন, কম্বল, ৪০ পিছের ডিনার সেট দিছে তবুও তার মার মন ভরে নাই বলে এগুলা কিছু হইলো? আমারে তো আরো দিছে, তোমারে তো কিছুই দেয়নাই। অথচ বিয়ের ডেট ঠিক করার সময় তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো আপনারা কি চান তারা বলছে কিছু লাগবেনা মহরে ফাতেমিতে ছেলে সামর্থ অনুযায়ী বিয়ে টা হবে আমার বাবা মেনে নিছে।অথচ এখন বলে কিছু না চাইলে আরোও বেশি করে দিতে হয় বিকেক নাই নাকি মানুষের। ঈদে তাদের গ্রামে নিয়া অনেক কিছু বলছে সবারে- কিছুই দেয় নাই বিয়া দিলে যা যা লাগবো সব তো দিয়া দিতে হয় কিছুই দিলো না, মনে হয় আমরা খামু ওর মেয়েরই তো থাকব ইফতারির বাজারও কম দিছে আর কত কিছু। আমি বলছি এগুলা সাভারে নিয়ম নাই বলে নিয়ম নাই আবার কি দিতে না চাইলে কত কিছু বলা যায়। অনেক অপমান করছে আমি অনেক কানতাম। আমার হাসবেন্ড এ বলতাম উনি চুপ থাকত বলতো তোমারেকি সরাসরি বলছে? সরাসরি বললে আমারে বইলো অথচ তার মা ওরে হেরে ফোন দিয়া আমারে শুনায় শুনায় বলতো আমার মেয়েরে আমি এটা দিছি সেটা দিছি। অথচ তার মেয়েরে ২ টা ডিনার সেট আর একজোড়া সোনার কানের দুল এই দিছে। আর আমারে সারাদিন বলত আমাদের নোয়াখালীতে ঘর ভরে বাজার দেওয়ার নিয়ম সব দিয়ে দেয়া নিয়ম। এইভাবে ১ম দিকে নির্যাতন করত।তার ছেলেরে কিছু বললে আমারেই বুঝাত। মারে কিছু বলত না। অনেক বাড়াবাড়ির পর ১দিন ছেলে বলছে ওরে এসব কেন বলেন পরে থেকে আর বলে না। এছাড়া ও সারাদিন আমার ভুল ধরত উনার ছেলেরে বললে বলত ভুল ধরে শিখার জন্য, ওনার মার দেখে দেখি উনিও ভুল ধরা শুরু করে আমার এত ভুল আমি মানসিক চাপে পরে যাই। তার মা আমার পায়ে পায়ে ভুল ধরে।আর যা তা কথায় কথায় বাল ইত্যাদি গালি। আর কিছু না করলেও বলত এটা করছে আমি বললে বলত আবার মুখে মুখে তক্ক মারায় একটা কথা মাটিতে পরতে দিত না সাথে সাথে জবান টারে বুলেটের মত চালায়া বলে দিত। আমার হাসবেন্ড এর কাছে তার মায়ের কোনো দোষ নাই মা যা বলে ঠিকি তো বলে তুমি করো কেন এগুলা বলে আর যদি বলি অনেক খারাপ ব্যবহার করে আপনার মা তখন বলে করবোই তো সব পরিবারেই করে শাশুড়ী রা এমনই হয়। তুমি চুপ থাকলেই তো হয়। এই ভাবে আমাকে চাপ দেয়।মারে অনেক ভয় পায় সে। তার মা প্রতি সপ্তাহে গেনজাম লাগায় আর আমার মা বাবা নিয়ে বলে আগে চুপ থাকতাম এখন আর সহ্য হয়না তাই বলি। তখন আরো বাঘের মত মুখে যা আসে তাই বলে। আমার হাসবেন্ড এর কাছে উনার মার করা কাজ গুলো যৌক্তিক, শাশুড়ি রা বলেই সহ্য করে নিতে হবে কোনো সমাধান নাই এর। উনার মার জন্য আমাদের মাঝেও শান্তি নাই অশান্তি চলে।সম্পর্ক নস্ট হয় ঝগড়া বাড়ে। উনি উনার মাকে ছাড়া অচল কারন তার ইনকাম কম। আর উনার ২৮ বছরের ভাইটা সারাদিন শুয়ে শুয়ে খায় আর এখন জব ধরছে। আমার আম্মু রোজায় ইফতারে বাজার কিনে দিয়ে গেছিলে আমার শাশুড়ি আম্মুরে ফোন দিয়া বলে আপনি যা দিছেন তা আমাগো দেশে কোনে ফকিরেরেও দেয়না। এছাড়া আমার হাসবেন্ড এগুলা আমার বাবা মারে সবসময় বলতে মানা করত আমিও বলতাম না। একদিন অনেক অশান্তি শুরু করছিলো উনার মা পরে আমি বলছি আজকে আমি সব বলেই দিব বাবাকে। পরে উনার মা কয় যা ক গা ঐ দুই হাঙগাইললা ব্যডারে কি আমি ভয় পাই নাকি। এগুলা বলে আমারে এছাড়া কোনো কাজ ঠিক মত না হলে বলে তোর মা এসে করে দিয়ে যাবে? এভাবে মা বাবা নিয়া বলে। বলে তুই ঘরের বউ তুই সব কাজ করবি আমি কিছুই করমুনা। তারপর আমি বলছি আমি থাকবইনা, তার মা বলে হ তোর মার মতো ৪ পোলার বাপের কাছে গিয়া বিয়া ববি মার খাইচচোতিতো পাইছোছ। কিছু হইলেই খাওন নিয়া খোটা দেয় আমার হাসবেন্ড আমার পক্ষে কিছু বললেই বলে আমি আর খাবার খরচ চালাইতে পারমুনা তুই চালা। দেখি কেমনে চালাস। উনার মা আমার সাথে অনেক হিংসা করে।আর তার অনেক অহংকার। চাপার জোড় অনেক।আমারে নিয়া একটু ঘুরতে গেলেই সেদিন বলে অনেক টাকা না? আজকে তেল পিয়াজ নিয়াবি। আমার হাসবেন্ড আমার কোনো কাজ করে দিলে বলে তুই কি মেয়ে মানুষ নাকি। আমি বেশি কাজ করতে পারিনা। তবুও উনার খারাপ কথা শুনার ভয়ে যতটুকু সম্ভব করি তবুও কয় তোর থিকা কম বয়সে আমার বিয়া হইছে ২ বাড়ির কাম একা করছি তুই পারবিনা কেন। লাই দেওয়া যাইবনা। সবি পারবি জাউরামি মারাস।উনার মার এই অকথ্য ভাষার নির্যাতন আমি মেনে নিতে না পেরে বাসায় চলে আসছি আর যাবনা। আম্মু আমার হাসবেন্ড কে ফোন দিয়ে বলে দিছে তোমার মারে নিয়া আছো কথা বলি নয়ত আমার মেয়েরে দিবনা। উনার মারে এসব বললে বলে না দেক আসা লাগবনা। আমার হাসবেন্ড এর বয়স ৩০। তাবলীগের সাথে জড়িত। উনি বলছে এই বিষয়ে ইসলাম কি মাসালা দেয় তুমি জিজ্ঞেস করে জেনপ আমাকে জানাও এখন আমার প্রশ্ন হলো উস্তায -
এখানে ইসলাম কি বলে? কি সমা ধান দেয়? বউকে ছেড়ে মাকে নিয়ে থাকবে? যেহেতু ২ জনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। আমরা কি ভিন্ন হয়ে যেতে পারি? ইসলাম এখানে কি বলে?এখানে কি করা যায়। ইনসাফের সাথে উত্তর দিয়েন। ইন শা আল্লাহ