আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
89 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
আমার এক পরিচিত বোন। ওনাদের বিয়ের ৬-৭ মাস পর বোনের গর্ভকালীন সময়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে এসেছিলেন।তখন থেকে ওনার স্বামী ওনার ভরনপোষণ দিতো না ভালো মতো। যা লাগতো সব ওনার বাবা মা দিতো। এটা নিয়ে প্রায় ওনার এবং ওনার স্বামীর মধ্যে মনোমালিন্য হতো।একদিন কথা প্রসঙ্গে ওই বোন ওনার স্বামীকে বলেন তুমি যদি আমাকে এই তারিখের মধ্যে এত টাকা না দাও তাহলে আমাদের তালাক হয়ে যাবে। ওনার স্বামী তালাকের কথা বলতে না চাইলেও উনি বিভিন্ন কসম কেটে জোর করে বলাতে বাধ্য করেন। এরপর ওনার স্বামী বলেন যে আমি তোমাকে এত তারিখের মধ্যে এত টাকা না পাঠালে আমাদের তালাক হয়ে যাবে। ওনারা তখন তিন তালাকের বিষয়ে কোন কথা বলেছিলেন কিনা ওনাদের মনে নেই। পরবর্তীতে ওনার স্বামী ওই তারিখে টাকা পাঠান নি বরং তার কয়েকদিন পরে টাকা পাঠিয়েছিলেন তাও ওই বোন যা চেয়েছিলেন তার থেকে কিছু কম। এই বিষয় নিয়ে আপুর স্বামী একজন হুজুরের সাথে কথা বলেছিলেন হুজুর বলেছেন তালাক হয়নি। তবে ওনারা তালাক চাইলে পারিবারিকভাবে আলোচনা করে তালাক নিতে বলেছেন।কিন্তু বোনের মনে সন্দেহ আছে যে তালাক হয়েছে কিনা। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন ওনাদের কি তালাক হয়ে গিয়েছে নাকি ওই কথার মাধ্যমে এক তালাক হয়েছিল?  ওনারা কি সংসার করতে পারবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

তালাক এটি খুবই মারাত্মক একটি শব্দ। নিকৃষ্ট হালাল বলা হয়েছে হাদীসে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ " .

কাসীর  ইবন  উবায়দ .......... ইবন  উমার  (রাঃ)  নবী  করীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  হতে  বর্ণনা  করেছেন যে,  আল্লাহ্  তা‘আলার  নিকট  নিকৃষ্টতম  হালাল বস্তু  হল  তালাক।

(আবূ দাউদ ২১৭৮, ইরওয়া ২০৪০, যইফ আবু দাউদ ৩৭৩-৩৭৪, আর-রাদ্দু আলাল বালীক ১১৩।) 

এ শব্দটি নিয়ত থাকুক বা না থাকুক রাগে বলুক আর এমনিতেই বলুক স্ত্রীকে উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ দিয়ে এ শব্দ বের হলেই তালাক পতিত হয়ে যায়। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,   
তালাককে শর্তের সাথে সংযুক্ত করলে শর্ত পাওয়া গেলেই বক্তব্য অনুপাতে তালাক পতিত হয়ে যাবে।

ফাতওয়ায়ে আলমগীরীতে আছে

فی الھندیۃ : و اذا اضافہ الی الشرط وقع عقیب الشرط اتفاقاً مثل ان یقول لأمرأتہ ان دخلت الدار فأنت طالق الخ ( فصل فی تعلیق الطلاق الخ ، ج 1 ، ص 420 ، ط : ماجدیہ ) ۔

সারমর্মঃ-
আর যদি কেহ তালাককে শর্তের সাথে যোগ করে, তাহলে শর্তযুক্ত কাজটি পাওয়া গেলে তালাক পতিত হয়ে যাবে। যেমন যদি সে তার স্ত্রীকে বলে, "যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো, তাহলে তুমি তালাক," ইত্যাদি।

و فیہ ایضاً : و لو قال لھا اذا دخلت الدار أو کلمت فلانا أو صلیت الظھر اذا جاء رأس الشھر فانت طالق ثنتین ( الی قولہ ٰ) لان الرجوع عن التعلیق لا یصح فلا یمکنہ التدارک الخ ( باب فی الاقرار بالنکاح ، ج 4 ، ص 209 ) ۔

সারমর্মঃ-
আর যদি সে তার স্ত্রীকে বলে, "যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো, অথবা অমুকের সাথে কথা বলো, অথবা মাসের শুরুতে দুপুরের নামায পড়ো, তাহলে তুমি দুই তালাক,"এক্ষেত্রে শর্তটি প্রত্যাহার করা সহীহ নেই। কারণ এটি প্রতিকার করতে পারে না।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,   
প্রশ্নের বিবরণ মতে তার স্বামী তাকে বলেছিলোঃ
আমি তোমাকে এত তারিখের মধ্যে এত টাকা না পাঠালে আমাদের তালাক হয়ে যাবে। 

পরবর্তীতে তার স্বামী ওই তারিখে টাকা পাঠাননি বরং তার কয়েকদিন পরে টাকা পাঠিয়েছিলেন, তাও ওই বোন যা চেয়েছিলেন তার থেকে কিছু কম।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত বোনের উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। 

এক্ষেত্রে তালাক পতিত হওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যেই (৩ হায়েজ অতিক্রম এর আগেই) স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে মৌখিক ভাবে ফিরিয়ে নিলাম বললেই হবে,অথবা তার সাথে স্বামী সুলভ দৈহিক আচরণ করলেও হবে।

আর যদি ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায়,সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে। 

রজ'আত সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

No related questions found

...