জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হাদীস শরীফে এসেছে,
روى عن النبى صلى الله عليه وسلم كان يقبل فاطمة ويقول اجد منها ريح الجنة وقبل ابو بكر رأس عائشة وقال النبى صلى الله عليه وسلم من قبل رجل امه فكان قبل عنبة الجنة
অর্থ: হুযূর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, হযরত ফাতেমা (নবীজীর স্নেহের কন্যা) রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহাকে চুমু খেতেন আর তিনি বলতেন আমি ফাতেমা রদ্বিয়াল্লাহু আনহার কাছ থেকে বেহেশতের সুঘ্রান পাচ্ছি। হয়রত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হযরত আয়েশা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহার মাথা মোবারক এ চুমু খেয়েছেন। আর প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি তার মায়ের পা চুম্বন করবে সে যেন বেহেশতের চৌকট চুমু খেল। (আবু দাউদ মাধ্যমে মাবসুত লিস সারাখছি, খন্ড-১০, পৃষ্ঠা: ১৪৯।
وما حلّ نظرہ مما مر من ذکر أو أنثی حلّ لمسہ إذا أمن الشہوة علی نفسہ وعلیہا؛ لأنہ علیہ الصلاة والسلام کان یقبل رأس فاطمة وقال -علیہ الصلاة والسلام- من قبل رجل أمّہ فکأنما قبل عتبة الجنة إلخ (درمختار مع الشامي: ۹/۵۳۸، ط: زکریا)
সারমর্মঃ
যেই অঙ্গ গুলির দিকে দৃষ্টিপাত দেয়া জায়েজ,সেগুলো স্পর্শ করাও জায়েজ,শর্ত হলো যখন উভয়ে শাহওয়াত থেকে নিরাপদে থাকবে।
কেননা রাসুলুল্লাহ সাঃ ফাতেমা রাঃ এর মাথা চুমো দিতেন।
আরো জানুনঃ-
মাহরাম মহিলাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া/তাকে স্পর্শ করা কতটুকু জায়েয এ সম্পর্কে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বলা হয়,
وأما نظره إلى ذوات محارمه فنقول: يباح له أن ينظر منها إلى موضع زينتها الظاهرة والباطنة وهي الرأس والشعر والعنق والصدر والأذن والعضد والساعد والكف والساق والرجل والوجه،
যৌন উত্তেজিত হওয়ার আশংকা না থাকলে পুরুষ তার মাহরামে আবদিয়্যাহ মহিলার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সৌন্দর্যময় স্থানের দিকে দৃষ্টি দিতে পারবে।সে স্থানগুলো হল,মাথা, চুল,গর্দনা,বুকের উপরি অংশ,কান,বাহু,হাতের কবজি,পায়ের গোড়ালি,পা ও চেহারা।
অত:পর বলা হয়,
وما حل النظر إليه حل مسه ونظره وغمزه من غير حائل ولكن إنما يباح النظر إذا كان يأمن على نفسه الشهوة، فأما إذا كان يخاف على نفسه الشهوة فلا يحل له النظر، وكذلك المس إنما يباح له إذا أمن على نفسه وعليها الشهوة، وأما إذا خاف على نفسه أو عليها الشهوة فلا يحل المس له، ولا يحل أن ينظر إلى بطنها أو إلى ظهرها، ولا إلى جنبها، ولا يمس شيئا من ذلك، كذا في المحيط.وللابن أن يغمز بطن أمه وظهرها خدمة لها من وراء الثياب، كذا في القنية
যার দিকে বা যে সমস্ত স্থানের দিকে দৃষ্টি দেয়া জায়েয সে সমস্ত স্থানকে মধ্যখানে কোনো প্রকার কাপড় ব্যতীত সরাসরি হাত দ্বারা স্পর্শ করা ও মলা/ধাবানো জায়েয।স্বরণ রাখতে হবে যে,যেভাবে যৌন উত্তেজিত হওয়ার আশংকা না থাকলে দৃষ্টি দেয়া জায়েয,আর আশংকা থাকলে না জায়েয।ঠিকতেনিভাবে স্পর্শ করার বিধান প্রযোজ্য।মাহরাম মহিলার পেট ও পিঠে বা এ দুয়ের পার্শ্বদিকে দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাবে না এবং স্পর্শ করাও যাবে না।তবে শুধুমাত্র ছেলে খেদমতের উদ্দেশ্যে তার মায়ের পিট ও পেটকে কাপড়ের উপর দিয়ে ধাবিয়ে/মলে দিতে পারবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া-{৫/৩২৮}
বিস্তারিত জানুনঃ
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
জায়েজ নেই।
রাসূল ﷺ বলেন:
"لا يُبْتَنَى الرَّجُلُ معَ الرَّجُلِ في فِراشٍ واحدٍ، ولا المرأةُ معَ المرأةِ في فِراشٍ واحدٍ"
“কোনো পুরুষ যেন আরেক পুরুষের সঙ্গে একই বিছানায় না ঘুমায়, কোনো নারীও অন্য নারীর সঙ্গে একই বিছানায় না ঘুমায়।”
(সহিহ মুসলিম, হাদীস 3380)
(০২)
মায়ের পাশে বসা জায়েয — কিন্তু “গা ঘেঁষে বসা” যদি এমন হয় যে শালীনতা লঙ্ঘন করে, বা বউ কষ্ট পায়, তাহলে এটি আদববিরোধী ও অপ্রীতিকর।
(৩-৪)
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন —
"لا يجوز النظر إلى العورة إلا لحاجةٍ كالعلاج"
(শরহ মুসলিম)
অর্থাৎ প্রয়োজন ছাড়া (যেমন চিকিৎসা) মাহরামও পরস্পরের আউরা দেখতে পারবে না।
★উলামায়ে কেরামগন বলেছেন,
ফিতনার আশংকা থাকায় মাকে চুমু দেয়া শরীয়ত অনুমোদিত নয়।
ইমাম নববী বলেন:
“يُكْرَهُ مُصَافَحَةُ ذَوَاتِ الْمَحَارِمِ الشَّابَّاتِ”
প্রাপ্তবয়স্ক মাহরাম নারীর সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ মাকরূহ।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, একজন ছেলের জন্য তার মায়ের শারীরিক সেবা করা (যেমন, তার হাত, পা, কাঁধ ইত্যাদি টিপে দেওয়া, অথবা তার মাথা মালিশ করা) জায়েজ, তবে শর্ত থাকে যে ছেলে মায়ের গোপনাঙ্গ (যেমন, বুক এবং উরু ইত্যাদি) স্পর্শ না করে। তবে, যদি মা ও ছেলের বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবং ইঙ্গিত ও প্রমাণের ভিত্তিতে কোনও স্থানে ফেতনার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ছেলের জন্য তার মায়ের শারীরিক সেবা করা জায়েজ হবে না।
সুতরাং যৌন উত্তেজিত হওয়ার আশংকা না থাকলে পুরুষ তার মা/বোন/মেয়ের যে স্থানগুলো টিপে দিতে পারবে,সে স্থানগুলো হল,মাথা, চুল,গর্দনা,বুকের উপরি অংশ,কান,বাহু,হাতের কবজি,পায়ের গোড়ালি,পা ও চেহারা।
এমতাবস্থায় প্রয়োজনে উপরের শর্ত মোতাবেক পায়ের পাতা থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত টিপে দেওয়া যাবে।
তবে সতর্কতামূলক এক্ষেত্রে কাপড়ের উপর দিয়ে টিপে দিবে।
সন্তানের কাছে মায়ের আওরা বা পর্দার অংশ বুকের উপরি অংশের নিচ হতে হাটু পর্যন্ত।
ইসলামে রক্তের সম্পর্ক থাকলেও, শালীনতা ও লজ্জাশীলতা (হায়া) সর্বদা বজায় রাখা আবশ্যক।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"الحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ"
“লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।”
(সহিহ বুখারী 9)
(০৫)
এটি শরীয়ত অনুমোদিত নয়।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“إِنَّ اللَّهَ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ”
“আল্লাহর কাছেও লজ্জা করা তোমাদের আরও অধিক কর্তব্য।”
(সহিহ বুখারী)
(০৬)
মা'র শরীরে হাত দেওয়া (অকারণে) — মুখ, হাত ইত্যাদি
প্রয়োজনে (সেবা, আদব) বৈধ, কিন্তু আদর/খেলার ছলে, ঘনিষ্ঠতার ভঙ্গিতে নয়।
ফিতনার আশংকা থাকলে জায়েজ নেই।
মাহরামদের সাথেও লজ্জাশীলতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেন:
“الحَيَاءُ كُلُّهُ خَيْرٌ” — “লজ্জা সর্বাংশে কল্যাণ।” (সহিহ মুসলিম)
(০৭)
না, দরজা বন্ধ রেখে নির্জনে থাকা নিষিদ্ধ)
রাসূল ﷺ বলেন:
"لا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم"
“কোন পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে না থাকে, যদি না তার মাহরাম থাকে।”
(সহিহ বুখারী, 5233)
(০৮)
মাহরাম হওয়ায় ভাগ্নি যদি শিশু হয়,সেক্ষেত্রে তার হাত ধরা বা কপালে চুমু দেওয়া জায়েয
কিন্তু যদি ভাগ্নি প্রাপ্তবয়স্ক বা বালেগাহ এর নিকটতম হয় বা দেখতে বালেগাহ এর মতো দেখা যায়,তাহলে এটি জায়েজ নেই।
ইমাম নববী বলেন:
“يُكْرَهُ مُصَافَحَةُ ذَوَاتِ الْمَحَارِمِ الشَّابَّاتِ”
প্রাপ্তবয়স্ক মাহরাম নারীর সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ মাকরূহ।
(০৯)
না, জায়েয নয়।
এটি অশালীন ও ফিতনার আশঙ্কাজনক।
প্রয়োজনে আলাদা সময়ে প্রবেশ করতে পারে, একসাথে নয়।
(১০)
হ্যাঁ, জায়েয।
খাবার একসাথে খাওয়া বৈধ, যদি শালীনতা বজায় থাকে ও নির্জনতা না থাকে।
(সহিহ বুখারীতে এসেছে—রাসূল ﷺ মাহরাম ও সাহাবীদের সাথে খেতেন।)
(১১)
ফিতনার আশংকা না থাকলে মা ছেলের সামনে ওড়না ছাড়া চলাফেরা করতে পারবে।
ফিতনার আশংকা থাকলে জায়েজ নয়।
বর্তমান ফিতনার যুগ হওয়ায় ওলামায়ে কেরাম পরিহার করতে বলেছেন।
(১২)
ভাগ্নি তার মামাকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সাজলে গুনাহ হবেনা।
তবে ফিতনার আশংকা থাকলে জায়েজ নয়।
(১৩)
মাহরাম পুরুষের সামনে নারী মাথা, চুল, বাহু, পা ইত্যাদি খোলা রাখতে পারে,
কিন্তু নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ও বুকের অংশ আড়াল করতে হবে।
মাহরাম মহিলাদের দিকে দৃষ্টি দেয়া কতটুকু জায়েয এ সম্পর্কে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বলা হয়,
وأما نظره إلى ذوات محارمه فنقول: يباح له أن ينظر منها إلى موضع زينتها الظاهرة والباطنة وهي الرأس والشعر والعنق والصدر والأذن والعضد والساعد والكف والساق والرجل والوجه،
যৌন উত্তেজিত হওয়ার আশংকা না থাকলে
পুরুষ তার মাহরামে আবদিয়্যাহ মহিলার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সৌন্দর্যময় স্থানের দিকে দৃষ্টি দিতে পারবে।সে স্থানগুলো হল,মাথা, চুল,গর্দান,বুকের উপরি অংশ,কান,বাহু,হাতের কবজি,পায়ের গোড়ালি,পা ও চেহারা।
বিস্তারিত জানুনঃ-
(১৪)
না।
স্ত্রী ছাড়া অন্য নারীর সাথে (যদিও মাহরাম) “ঘনিষ্ঠতার ভঙ্গি” বা “শারীরিক আদর” হারাম।
(১৫)
না, এটি হিংসা নয়।
বরং এটি তার ইমানী লজ্জা ও শালীনতা রক্ষার অংশ।
স্ত্রী চায় তার স্বামী ইসলামি সীমারেখা মেনে চলুক — এটা প্রশংসনীয়।
(১৬)
তাহলে স্ত্রী শরীয়ত মেনে চলবে, স্বামীর আনুগত্য করবে, অহেতুক ঝগড়া করবে না, এবং শান্ত পরিবেশে ইসলাহের চেষ্টা করবে।
(১৭)
না, এটি মানসিক সমস্যা নয়।
বরং এটি তার স্বাভাবিক হায়া (লজ্জা) ও আখলাকের সংবেদনশীলতা।
হায়া ঈমানের শাখা — সুতরাং এটি প্রশংসনীয়।