আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
103 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (14 points)
১. ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪০-৫০ লাখ টাকা লোন নিয়ে বাসা করা হয়েছে।  লোন পরিশোধ করা হচ্ছে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বেতন দিয়ে। এই বাসা থেকে প্রাপ্ত ভাড়া হালাল হবে না যতটা জানি কারণ ইসলামী ব্যাংকের বেতন সম্পূর্ণ হালাল না । এক্ষেত্রে যদি ৪-৫ লাখ সম্পূর্ণ হালাল টাকা দিয়ে লোন শোধ করা হয় তাহলে কি পুরো বাসা ভাড়া হালাল হতে পারে? পুরো টাকা হালাল টাকা দিয়ে রিপ্লেস করার সামর্থ্য নেই।
২. ইসলামী  ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বেতন দিয়ে  যদি মোহরানা  দেয়া হয়। স্ত্রী পরবর্তীতে সেই মোহরানা দিয়ে জমি কিনলে সেটা ভোগ করা হালাল হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি ৪-৫ লাখ সম্পূর্ণ হালাল টাকা দিয়ে লোন শোধ করা হয়, তাহলে পুরো বাসা ভাড়া হালাল হবেনা।

ঐ বাসার ৪-৫ লাখ টাকা সমপরিমাণ অংশের 
বাসা ভাড়া হালাল হবে।

পুরো বাসার নয়।

(০২)
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

« أيها الناس إن الله طيب لا يقبل إلا طيبا وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المرسلين فقال ( يا أيها الرسل كلوا من الطيبات واعملوا صالحا إنى بما تعملون عليم) وقال (يا أيها الذين آمنوا كلوا من طيبات ما رزقناكم) ». ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يديه إلى السماء يا رب يا رب ومطعمه حرام ومشربه حرام وملبسه حرام وغذى بالحرام فأنى يستجاب لذلك ».

তরজামা: হে লোক সকল! আল্লাহ তাআলা হলেন পবিত্র। আর তিনি পবিত্রতা ছাড়া কবুলই করেন না। আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাই নির্দেশ দিয়েছেন যা রাসূলগণকে দিয়েছেন।  তিনি বলেছেন “হে রাসূলগণ পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত”। 
(সূরা মুমিনুন-৫২) 

তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেন “হে ঈমানদারগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসাবে দান করেছি। (সূরা বাকারাহ -১৭২)

 রাসুলুল্লাহ সাঃ এক লোকের কথা বললেন যে দীর্ঘ সফর করে আসে। এবং অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে দু‘ হাত তুলে আল্লাহর দরবারে বলতে থাকে, ইয়া পরওয়ারদেগার! ইয়া রব! । কিন্তু যেহেতু সে ব্যক্তির পানাহার সামগ্রী হারাম উপার্জনের, পরিধেয় পোষাক- পরিচ্ছদ হারাম পয়সায় সংগৃহীত, এমতাবস্থায় তার দেয়া কি করে কবুল হতে পারে?।  (মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৩৯৩)

হারাম টাকার বিধান হল, তা প্রাথমিকভাবে মূল মালিকের কাছে ফেরত দেয়া।
নতুবা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীবদের মাঝে সদকা করে দেয়া।

 من ملك بملك خبيث ولم يمكنه الرد الى المالك فسبيله التصدق على الفقراء 
معارف السنن، كتاب الطهارة، باب ما جاء لا تقبل صلاة بغير طهور-1/34، 
الفتاوى الشامية، باب البيع الفاسد، مطلب فى من ورث مالا حراما-7/301، كتاب الحظر والإباحة، فصل فى البيع-9/554، بذل المجهود، كتاب الطهارة، باب فرض الوضوء- 1/37)

যদি কারো নিকট কোনো হারাম মাল থাকে,তাহলে সে ঐ মালকে তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেবে।যদি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব না হয়,তাহলে গরীবদেরকে সদকাহ করে দেবে।(মা'রিফুস-সুনান১/৩৪) 

رد المحتار (190/6) سعيد

ولو اشترى بألف الغصب أو الوديعة جارية تعدل ألفين، فوهبها أو طعاما فأكله، أو تزوج بأحدهما امرأة أو سرية أو ثو باحل الانتفاع ، ولا يتصدق بشيء اتفاقا ، لأن الحرمة عند اتحاد الجنس اه و نحوه في القهستاني و نقل ط عن الحموي عن صدر الإسلام أن الصحيح لا يحل له الأكل ولا الوطء، لأن في السبب نوع خبث اهـ فليتأمل

الموسوعة الفقهية الكويتية (156/39) مكتبه علوم اسلامیه چمن

إذا كان المال الذي في يد المسلم حراما فإنه لا يجوز له إمساكه ويجب عليه التخلص منه

الأشباه والنظائر لا بن نجيم (ص : 247)

الحرمة تتعدى في الأموال مع العلم بها، إلا في حق الوارث فإن مال مورثه حلال له وإن علم بحرمته منه ، من الخانية ، وقيده في الظهيرية بأن لا يعلم أرباب الأموالمن قبل يد غيره فسق إلا إذا كان ذا علم و شرف ، كذا في مكفرات الظهيرية

رد المحتار على الدر المختار (292/2) سعيد

الا أن يجاب بأن المراد ليس هو نفس الحرام، لأنه ملكه بالخلط وإنما الحرام التصرف فيه قبل أداء بدله ففي البزازية قبيل كتاب الزكاة : ما يأخذه من المال ظلما ويخلطه بماله و بمال مظلوم آخر يصير ملكاله وينقطع حق الأول فلا يكون أخذه عندنا حراما محضا نعم لا يباح الانتفاع به قبل أداء البدل في الصحيح من المذهب

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি জানে যে তাকে হারাম টাকা হতে মোহরানা আদায় করা হয়েছে, তাহলে সেই টাকা গ্রহণ করা বা খরচ করা তার জন্য বৈধ হবে না।

এই টাকা স্বামীর কাছে ফেরত দিবে, স্বামীর উপর আবশ্যক সে হালাল টাকা দিয়ে মোহরানা আদায় করবে।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে স্ত্রী যদি পরবর্তীতে সেই মোহরানাত টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে,সেক্ষেত্রে তাহা ভোগ করা হালাল হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...