আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (29 points)
আমি আমার এক বন্ধুর সাথে কোচিং খুলেছি একটা। আমরা ছেলে, বিবাহিত, অনার্স লেভেলে পড়ি। কোচিং এ মেয়েদের জন্য আমার স্ত্রীর সাহায্যে একজন পরিচালক, সহকারী পরিচালক, অফিস সহকারী সহ ৪-৫ জনের এমপ্লয়ি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সপ্তাহে শনি সোম বুধ শুধু মেয়েদের ক্লাস হয় এবং মেয়ে শিক্ষক পরিচালক মেয়ে স্টাফরা থাকে। রবি মঙ্গল বৃহস্পতিবার থাকে ছেলেদের দিন। মেয়েদের দিনে আমি অথবা আমাদের ছেলেদের থেকে একজন কোচিং এর বাইরে একটা কক্ষে বসা থাকে এবং কোচিংয়ের মূল দরজা লাগিয়ে ভেতরে মেয়েদের ক্লাস হয় এবং মেয়ে শিক্ষক স্টাফরা ভেতরে থাকে৷
মেয়েদের সেকশন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমি আমার স্ত্রীর সাহায্যে মেয়েদের এক্সিকিউটিভ গ্রুপে পৌঁছাই,  মেয়েরাও কোনো দরকারি প্রয়োজন হলে আমার স্ত্রীর মাধ্যমে আমাকে জানায়।
কিন্তু এতে সমস্যা যেগুলো হয় তা হলো-
১। মেয়ে সেকশনে আমি ব্যতিত আর কেউ যেগাযোগ করা কঠিন হয়ে যায়। আমাকে একা সামলাতে হয় মেয়ে সেকশন।
২৷ মেয়েদের ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে আমার স্ত্রীর মারফত খবর পাঠাতে হয় যা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাদায়ক হয়ে উঠে।
৩৷ মেয়েদের ক্লাস চলাকালীন তাদের প্রয়োজনীয় বাইরের কোনো কাজ করে দেয়া বা নিরাপত্তা খেয়াল রাখার জন্য আমি ব্যতিত অন্য কেউ কোচিংয়ে ডিউটি দিলে মেয়েদের জন্য তার কাছে খবর পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয় পরে। মেয়েরা জানায় আমার স্ত্রীকে, স্ত্রী জানাবে আমাকে, আমি জানাবো সেখানে উপস্থিত লোককে। এটা তাৎক্ষণিক যোগাযোগকে প্রায় অকার্যকর করে দেয়৷
এমতাবস্থায়, মেয়েদের সেকশন ম্যানেজমেন্টের জন্য ছেলেদের পক্ষ ও মেয়েদের পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পদ্ধতি কী হতে পারে? জায়েজ ও নিরাপদ প্রক্রিয়া কী হতে পারে? কিভাবে অন্যান্য মহিলা মাদ্রাসা বা এজাতীয় প্রতিষ্ঠান চালানো হয়, অনুগ্রহ করে জানাবেন৷
আমাদের কোচিংয়ের একটা WhatsApp বিজনেস একাউন্ট আছে, যা আমার এবং আমার সহযোগী অপর পরিচালকের ফোনে লগইন করা। মেয়েদের সেকশন পরিচালনা ও ম্যানেজমেন্টের জন্য যদি মেয়ে পরিচালনা টিম এবং উক্ত WhatsApp বিজনেস একাউন্ট (যেটা ছেলে পরিচালকদ্বয়ের ফোনে যুক্ত) নিয়ে একটা গ্রুপ খোলা হয়, এবং সেখানে কাজ দেয়া, কাজের আপডেট নেয়া, তত্ত্বাবধান করার জন্য বার্তা আদান প্রদান করা হয়, তা কী জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছেন,
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، وَلَا تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ ، فَقَامَ : رَجُلٌ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا ، وَخَرَجَتِ امْرَأَتِي حَاجَّةً ، قَالَ : اذْهَبْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ " .(الكتب » صحيح البخاري » كِتَاب الْجِهَادِ وَالسِّيَرِ » بَاب مَنِ اكْتُتِبَ فِي جَيْشٍ فَخَرَجَتِ امْرَأَتُهُ)
তরজমাঃ-আজনবী পুরুষ-মহিলার মাহরাম ব্যতীত পরস্পর  খালওয়াত তথা নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না।এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বলল।অমুক জিহাদে আমার আমার নাম লিখা হয়েছে,অন্যদিকে আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চাচ্ছে।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্বে যাও।(বুখারী-২৮০০) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1904

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ফ্রিমিক্সিং পরিবেশ অবশ্যই হারাম ও নাজায়েয। প্রশ্নের বিবরণমতে যেহেতু আপনার কোচিং সেন্টারে নারী পুরুষের পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এতে কোনো সমস্যা নেই। আপনি আপনার স্ত্রীকে নারীদের কোচিং সেন্টারের তদারকির দায়িত্ব দিয়ে দিবেন। হ্যা, আপনি ওয়াটসাফ গ্রুপে যেখানে আপনার স্ত্রীও রয়েছে , নারী শিক্ষিকাদেরকে এড করতে পারবেন। যেহেতু আপনার স্ত্রীও থাকবে, তাই এখানে ফিতনার আশংকা না থাকাই স্বাভাবিক। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...