আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
124 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু উস্তায।
গত ২৬ এপ্রিল ২০২৪ আমার বিয়ে হয়। যদিও বিয়ে তে আমি রাজি ছিলাম না কেননা ছেলের সাথে কথা বলে আমার তাকে ভালো লাগে নি। তার সাথে আমার কুফু বা যোগ্যতা কোনোটাই মিলে না। সেটা আমার পরিবারকে অনেক বার করে জানাই এবং বিয়েটা যাতে না হয় তার জন্য সব রকম চেষ্টা করি। পাশাপাশি ইস্তেখারার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকি। তাও আল্লাহর হুকুমে আমার বিয়ে টা হয় এখানে। পরিবারের চাপে পরে বাধ্য হয়ে বিয়ে হলেও আমি মানাই নেওয়ার চেষ্টা করি। । কিন্তু বিয়ের পর ই স্বামীর খারাপ গুণ গুলো প্রকাশ পেতে থাকে। তারা বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক মিথ্যা তথ্য দেয়। চাকরি, বয়স, ফ্যামিলি সব কিছু তে। যা আমি বিয়ের পর বুঝতে পারি। আমাকে পর্দায় রাখবে বলার পরও তা করেনি উল্টো আমাকে নানাভাবে অপমান করেছে পর্দার বিষয়ে। আমার ফ্যামিলি আমার ইসলামিক ভাবে চলা সাপোর্ট করে না বলে আমি ইসলামিক মাইন্ড এর কাউকে বিয়ে করতে চাই। এবং বিয়ের আগে সে তেমন ভাব ই ধরে। কিন্তু বিয়ের দুই দিন পর ই সে আমার ফ্যামিলি আত্মীয়র সামনে বলে আমি নাকি বই পরে জঙ্গি হয়ে যাব, সে নাকি আমার থেকে সুন্দর মেয়ে বিয়ে করতে পারত। আমার স্বামী থেকে আমি লম্বা এবং ফর্সা হওয়ার পরও সে আমায় বলে আমি সুন্দর না, লম্বা না। আমার সামনের কিছু দাঁত বাকা হওয়ায় সে আমাকে বলে আমার দাঁত দেখলে নাকি আমায় বিয়ে ই করত না। বিয়ের পরপরই সে আমায় বলে আমাকে নাকি বিয়ের আগে ফিজিক্যালি চেক করে নেওয়া উচিত ছিল, আমার শরীর অন্য মেয়েদের মত না, আমাকে তার বন্ধুর সাথে এক্সচেঞ্জ করে দেখবে আমি কেমন আর বন্ধুর বউ কেমন। সে ফেইসবুকে অপরিচিত মেয়েদের কাছে কাপড় ছাড়া ছবি চায়, কল গার্লদের সাথে দামাদামি করত বিয়ের আগে। সে যদি কারো সাথে রিলেশন করে এসব করত তাও কথা ছিল। আমাকে বলে আমি ভালো স্টুডেন্ট, অনার্স করেছি বলে আমায় বিয়ে করেছে কারণ আমি চাকরি করে খাওয়াবো। কিন্তু আমি বিয়ের আগে ই বলে নিয়েছিলাম যে আমি চাকরি করব না। আমার বড় বোন আমার চেয়ে সুন্দর তাই সে রত্ন। এছাড়াও আমাকে বলে কাবিনের ৫ লাখ টাকা দিতে পারবে না বলে বাধ্য হয়ে আমার সাথে সংসার করে। অথচ বিয়ের কথা যখন হয় তখন তারা এই কাবিনে রাজি হয় মূলত বড়লোকি দেখানোর জন্য উদ্দেশ্য ছিল আমার কাছ থেকে পরবর্তীতে মাফ চেয়ে নেওয়া। কিন্তু আমার কাছে মাফ চাইলে আমি ভালো ভাবে ই তাকে বলি যে এটা আমার হক আমি মাফ করব না। এরপর ই সে আর তার ফ্যামিলি আমাকে এই বিষয়ে চাপ দিতে থাকে। সে প্রথম থেকে ই আমাদের মাঝের সব কিছু ইভেন প্রাইভেট মোমেন্ট এর কথাও তার ফ্যামিলির সবার সাথে বলে। আমাদের ছোটখাটো কথা কাটাকাটি বা নরমাল কথা সব ই বলে। আমার ফ্যামিলিকেও অনেক ছোট করে। আমি যখন তার এই স্বভাব বুঝতে পারি তখন আস্তে আস্তে আমি তার সাথে দূরত্ব বজায় চলতে শুরু করি এবং কথাও একদম কম বলি। এমনকি সে যখন আমার সাথে ইনটিমেট হয় তখন তার দিক থেকে আমি কোনো টান, মায়া বা ভালোবাসা ফিল করি না বরং তাতে শুধু লালসা ই প্রকাশ পায়। পশুর মত ব্যবহার করে যেন আমি মানুষ ই না। তার এইসব ব্যবহার এর জন্য তার প্রতি আমার অরুচি এসে গেছে, আমার তাকে অসহ্য লাগে, দেখলে ই ঘৃণা হয় রাগ হয়। আমার দিকে এত বাজে ভাবে তাকায় মনে হয় যেন রাস্তা ঘাটে কোনো চরিত্রহীন মানুষ কোন মেয়ে কে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।
বিয়ের প্রথম থেকে ই সে এবং তার ফ্যামিলি বাচ্চা নেওয়ার জন্য আমাকে অনেক প্রেশার দিতে থাকে। আমি ভেবেছিলাম যেহেতু আমার ফ্যামিলি কোনো স্টেপ নিচ্ছে না এবং তারাও অনেক প্রেশার দিচ্ছিল বাচ্চার জন্যে ভেবেছিলাম হয়তো বাচ্চা হলে সে নরমাল হয়ে যাবে। কিন্তু যখন আমি আমার কনসিভ করার কথা তাকে জানাই তখন তার প্রথম রিয়েকশন ছিল কোথ থেকে আসল? আমি তো কিছু করি ই নাই। বিয়ের পর পর আমার পরীক্ষা শুরু হওয়ায় আমি তখন শ্বশুর বাড়ি কম থাকি বাড়িতে ই বেশি থাকা হয়। পরীক্ষা শেষ হলে শ্বশুর বাড়িতে একমাস থাকি। সেই সময় সম্পর্ক আরও খারাপ হতে থাকে। কনসিভ করার পর থেকে আমার নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে একটা ছিল অল্পতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়া। তার উপর তার থেকে আসা মানসিক অত্যাচার আমাকে শেষ করে দিতে থাকে। একদিন তার ব্লুটুথ হারায় গেলে সে আমাকে চোর সন্দেহ করে আমার ব্যাগ চেক করে আমার অবর্তমানে। ব্যাপারটা আমি বুঝতে পেরে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। বিষয় টা আমার কাছে খুবই অপমান জনক লাগায় আমি রাগে তার সাথে কথা না বললে সে আমার ফ্যামিলিকে ছোট করে কথা বলতে শুরু করে, আমার বাবাকে বাড়ি থেকে উঠায় এনে মারার কথা বলে। তার মা বাবা কে ডেকে এনে আমায় অপমান করে। এই ঘটনার পর আমি বাবার বাড়ি চলে আসলে সে আমার কোনো খোঁজ খবর নেয় না, কোনো খরচও দেয় না ৩ মাস পর আবারও ফ্যামিলির চাপে পরে আমি শ্বশুর বাড়ি যেতে বাধ্য হই। যেহেতু আমার মা বাবা অসুস্থ আর ছোট দুই বোন এখনও অবিবাহিত তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমাকে যেতে হয়। যেহেতু আমার চাচাদের কথা দিয়ে আসে যে এখন আর আগের মত কোনো কিছু হবে না তাই আমিও সরল মনে তাদের সাথে মিলেমিশে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু যেহেতু আমার স্বামী আমার মন থেকে উঠে গিয়েছিল তাই তার সাথে আমি স্বাভাবিক হতে পারি না। এবং সেও তার স্বভাব পালটাতে পারে নি। সে তার বোনদের কাছে ফোন দিয়ে আমায় ছোট করে তুই তুকারি ভাষা ব্যবহার করে কথা বলে, আমাকে সে নিতে চায় নায়, আমি খারাপ আমার বাবা মা খারাপ, আমাকে লাথি দিয়ে বাবার বাড়ি দিয়ে আসবে এইরকম নানা কথা বলতে থাকে। একদিন তো আমার সাথে থেকে গিয়ে পাশের রুমে বোনকে বলতেছে আমি বেয়াদব, ত্যাড়া, মোবাইল চালাই আমাকে লাথি দিয়ে বাবার বাড়িতে ফালায় দিয়ে আসবে।
তার ফ্যামিলির কাছে আমাদের মাঝের ছোট বড় সব কথা বলতে থাকে, ফ্যামিলির সামনে আমাকে অপমান করে কথা বলতে থাকে। আমার কাছ থেকে সব কিছু এমন ভাবে আড়াল করে যেন আমি তাদের কেউ ই না। নিজে তো অপমান করত ই সাথে আবার ফ্যামিলির মানুষকে আমার পিছনে লাগাই দিত আমাকে যাতে কথা শোনায়, অপমান করে। যদিও তাদের সবার স্বভাব হল সামনে এক পিছনে আরেক যার কারণে তারা কখনো ই সরাসরি আমাকে কিছু বলে না কিন্তু পিছনে খুবই বাজে মন্তব্য করে। আমার স্বামী খুবই মিথ্যাবাদী এবং ভন্ড একজন মানুষ। কথায় কথায় মিথ্যা বলে, আমার নিজের কানে শোনা কথা বলার পরও সে সেটা অস্বীকার করে উল্টো আমায় মিথ্যাবাদী বলে। আমি নাকি তার নামে মিথ্যা অপবাদ দেয় আল্লাহ নাকি আমার বিচার করবেন এইসব বলে। আমার বাবা মা কেও গালিগালাজ করে কথা বলে। প্রেগ্ন্যাসির সময়ে আমার সুবিধা মত শুইতে চাইলে এটাতেও তার প্রবলেম। সে সবার কাছে বিচার দেয়। আমি তার সাথে তর্কে জড়াইতে না চাইলে বা কথা না বললে বলবে আমি তাকে দেখতে পারি না, আবার কথা বললে বলবে ঝগড়াট্টা, বেয়াদব, মুখে মুখে তর্ক করি। মানে আমার সব কিছুতে ই দোষ। আবার তার বোনদের কাছে এটাও বলে আমায় সে ভালো ভাবে দেখলে নাকি বিয়ে ই করত না, আমি ২৫ বছরের বুড়ি( যদিও তার নিজের বয়স ৩৫ বা তার বেশি), আমার ফ্যামিলি আমায় বিয়ে দিতে পারছিল না তাই তার গলায় আমারে ঝুলায় দিছে।
আমার দোষ হল তার এইসব বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে সে আমার মন থেকে উঠে গেছে। আমি তার সাথে স্বাভাবিক ভাবে মিশতে পারি না, আমার তাকে পছন্দ না, রাগ উঠে যায় আমার খুব। আর যেহেতু আমি তার নিচু এবং নোংরা মনমানসিকতা বুঝে গেছি এবং সে যেহেতু সব কথা ই বাইরে বলে দেয় তার কারণে তার সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলতে পারি না। আর তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতেও আমার ঘৃণা লাগে। সে আমার সাথে এমন ই পশুর মত আচরণ করে যে সে যেই তিন দিন এর জন্য কাজের জায়গা থেকে বাড়িতে আসত সেই তিন দিনে আমার সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে যেত, আমি জায়গা থেকে নড়তে পারতাম না ইভেন আমি যে প্রেগন্যান্ট ছিলাম সেটাও সে কেয়ার করে নি। তাকে আমার কাছে একজন রেপিস্ট মনে হয়। সে আমাকে এমন ভাবে ধরে বা এমন বিহেভ করে মনে হয় যেন বাসে বা কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কোনো ক্যারেক্টারলেস পুরুষ আমাকে ধরছে, আমার সাথে খরাপ কিছু করছে। আমার চাইল্ডহুড এর কিছু এবিউজিং হওয়ার ট্রমা আছে। সেটা একবার দুইবার না ৪-৫ বার এবং সেটা খুব ক্লোজ মানুষদের দ্বারা ইভেন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারেও আমি এবিউজ এর স্বীকার হই। যেটা আমাকে সারা জীবন অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছে যা আমি কাউকে বলতে পারি নি। কিন্তু বিয়ের পর যখন হাসবেন্ড আমাকে সেই এবিউজার দের মত ট্রিট করতে শুরু করল তখন আমার মাঝে আতংক ঢুকে গেল, তাকে দেখলে ই আমার ভয় কাজ করে। সারাক্ষণ মনে হয় এই বুঝি সে আমাকে খাবলা দিয়ে ধরে ফেলবে, এই বুঝি সেই এবিউজার দের মত বেড টাচ করবে। তাকে দেখলে ই আমার রাগ উঠে যায় তার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠি, চিৎকার, চেচামেচি, গালি গালাজ করে ফেলি। আর এটা কে ই পয়েন্ট বানিয়ে সে আমাকে সবার কাছে দোষী বানায়।
এরপরও আমি তার সাথে মানায় নেওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু পান থেকে চুন খসলে ই সে এবং তার ফ্যামিলি আমার বাবা মা চাচা মামা সবার কাছে ফোন দিয়ে বিচার দেওয়া শুরু করে। আমার প্রেগ্ন্যাসির লাস্ট মোমেন্ট এসে পরায় এবং তার শারীরিক মানসিক অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমি আমার বাড়িতে চলে আসি। তখনও সে আমার কোনো খরচ দেয় না কারণ তার বোনেরা মানা করছে। এরপর জানুয়ারিতে সে আমাকে নিতে এসেও আমার নামে যা খুশি তা ই বিচার দিয়ে গেছে। তার এইসব অশান্তির ভয়ে এবং শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ার কারণে আমি তখন সেখানে যাই নি। আমি তাকে তার ফ্যামিলিকে বার বার করে আমার অসুস্থতার কথা বুঝিয়ে বলি। যেহেতু লং জার্নি এবং রাস্তার অবস্থাও খুব খারাপ ছিল তাই আমি তাদেরকে বার বার বুঝিয়ে বলি। এরপর আমার প্রেগ্ন্যাসির ৮ মাসের সময় পরে গিয়ে মারাত্মক ব্যথা পাই সে আমার খোঁজ নেওয়া তো দূর তার দুলাভাই কে নিয়ে আমার ই নানু বাড়িতে বসে আমার বিচার করে আমাক না জানিয়ে ই। ২০২৫ সালের জানুয়ারির ১৫ তারিখের পর সে আমার আর কোনো খোঁজ খবর রাখে নি। উল্টো তার ফ্যামিলিকে দিয়ে আমাকে বার বার অপমান করিয়েছে। মার্চের ৮ তারিখে আমার ডেলিভারি ডেইট ছিল আর ১১ তারিখে তার মা আমাকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে তাই ভাবে অপমান করে। এইসব না সইতে পেরে আমি তখন ঘুমের ঔষধ খাই। যার কারণে আমার বাচ্চা পেটে ই বাথরুম করে ফেলে এবং ইমারজেন্সি সিজার করার প্রয়োজন হয়। ১২ তারিখে অর্থাৎ সিজার এর আগের দিন আমি তাকে কয়েকবার ফোন দেই সে আমার কল ধরে নাই। আমার আব্,বড় চাচা অনেক কল দেওয়ার পর আব্বুর ফোন ধরে। তখন তাকে সিজারের কথা জানানো হলে সে বলে তার বাবা মা পারমিশন না দিলে সে আসতে পারবে না, বাবা মাকে জানানো হলে তারা বলে মেয়ে জামাই পারমিশন না দিলে আসতে পারবে না, মেয়ে জামাই কে ফোন দেওয়া হলে সে বলে, "আপনাদের মেয়ে আপনারা যা খুশি করেন আমরা আসব না" আমার চাচা বলেন যে কোনো টাকা পয়সা কিছু ই দেওয়া লাগবে না শুধু সাইন করবে। তখন তার দুলাভাই জানায় ৫০ হাজার ১ লাখ যত লাগবে তারা পাঠায় দিবে কিন্তু আসবে না। যদিও সেটা শুধু ই কথার কথা ১ টাকাও দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ দেন নাই। ১৩ তারিখে সিজার করানোর পর ছেলে হওয়ার কথা শুনে তারা ছবি পাঠাতে বলে। এরপর আর কোনো ই খোঁজ কেউ নেয় নি। মার্চের ৩১ তারিখে তার মা আর বোন ফোন দেয়। আর সে ফোন দেয় ২-৩ মাস পর। আমি আর কারও ফোন ই এরপর ধরি নি। বাচ্চা হওয়ার ৫-৬ দিন পর অন্য মানুষ দিয়ে আমার কাছে ফোন দেওয়ায় রোজার ইফতার পাঠানোর জন্য, তারা রাগ করে আছে। সে সবার মনে আমার প্রতি এত বিষ ঢুকায় যে আমার পুরো প্রেগ্ন্যাসিতে আমার বাবা আর ভাই ব্যতীত আমার ফ্যামিলির কেউ আমার সাথে কথা বলে নি,আমার কেয়ার করে নি, আমি ব্যথা পাওয়ার পরও একা একা ই ডাক্তার দেখাই। ইভেন ডেলিভারির সময় আমার সাথে হসপিটালে যাওয়ার জন্য আমার বাবা ছাড়া আর কেউ ছিল না। পরে আমার চাচীদের বলায় আমার আম্মু যায় সাথে। এখনও সেইম অবহেলাতে ই আমি আছি। যার কারণে আমার ছেলে অপুষ্টি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। তবে আল্লাহর বিশেষ রহমতে আমার ছেলের চেহারা রং সব আমার মত আলহামদুলিল্লাহ।
এর মাঝে আমার হাসবেন্ড আমাদের আর কোনো খোঁজ খবর নেয় নি। আমার বাচ্চার একমাস বয়স থেকে ওকে নিয়ে আমি একটা মাদরাসায় জব করা শুরু করি। রোদ, বৃষ্টি গরম সব কিছুতে আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটা অনেক কষ্ট করে। ইভেন এমনও হয়েছে খিদায় আমার বাচ্চাটা কান্না করেছে কিন্তু আমি খাওয়াইতে পারি নাই আমার এক মাসের বাচ্চাকে।
বাচ্চার দুই মাস বয়সে আমার শ্বাশুড়ি আর ননাস রা এক জায়গায় দাওয়াত খাইতে আসে আর কাছাকাছি বলে তিন সেট কাপড় নিয়ে আমার ছেলেকে দেখতে আসে। এসে আমার নামে হাজারটা বিচার দিয়ে যায়। বাচ্চার সাত মাস বয়সে আমার হাসবেন্ড তার মাকে নিয়ে আসে, এসে আমার ফ্যামিলিকে বলে আমাদের নিয়ে যেতে এসেছে। আমার ফ্যামিলি তখন তাকে অনেক কথা শোনায়। সে তখন বলে যে সে আর এইসব করবে না, ভালো মত চলবে। কিন্তু আমি তাকে কোনো ভাবে ই ক্ষমা করতে পারছি না আর সে একটুও চেঞ্জ হয় নি। সে আমাদের এখানে এসেও তার বোনদের সাথে আমার সব কিছু বলে একদম, A-Z সব বলে ঘন্টার ঘন্টা। আর আমাকে দোষারোপ করা ছোট করা তো আছে ই। ইভেন আমার দাদু আমার মা সবার কাছে শুধু আমার বিচার দেয়, তার বিচার ই যেন শেষ হয় না। এই সময় আমি তার সাথে এক রুমে থাকি নি। এটাও সে সবার কাছে বলেছে। এই যে যোগাযোগ করল একমাস আগে এর মাঝে সে বাচ্চার এক টাকা খরচ দেয় নাই, বাচ্চা অসুস্থ বললেও কখনো জিজ্ঞেস করে না ডাক্তার দেখাইছি কি না বা ঔষধ খওয়াইছি কিনা। যদি আবার টাকা দেওয়া লাগে তাই।
এখন উস্তায আমি এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে চাই। আমার তার টাকা পয়সা কিছু ই লাগবে না শুধু আমার ছেলেকে আমার চাই। কিন্তু এতে সে বা আমার ফ্যামিলি কেউ ই রাজি হচ্ছে না। অথচ সেপ্টেম্বর এর আগে অবধি সে রোজ ফোন দিয়ে বলত তাকে একটা সমাধান করে দিতে সে বিয়ে করবে। সে আমার আব্বুকে উকিল নোটিশ পাঠানোর থ্রেট দেয়া, আমার আব্বুকে বলে তার থেকে ৫ লাখ আনতে ১০ লাখ খরচ করতে হবে। এত কথার মাঝে সে একটা দিনের জন্যও বাচ্চার কথা জিজ্ঞেস করে নাই বা খবর নেয় নাই। এরপর যখন আমার আম্মু তাকে কাগজ পাঠাতে বলে আর বাচ্চা নিয়ে যেতে বলে তখন সে জবাব দেয় " আপনার মেয়েও আপনি রাখেন আপনার নাতিও আপনি রাখেন।" কাগজ পত্র ভালো মত সাইন করে নিতে কারণ ১০ বছর পর বললেই সে বাচ্চা নিবে না সে বিয়ে করে ফেলবে। সে আমাকে প্রতিনিয়ত অভিশাপ দেয় আল্লাহ আমার বিচার করবেন, আমি পাগল হয়ে মরব। ছেলে সে এখন নিবে না খরচও দিবে না ছেলে যখন ইনকাম করতে পারবে তখন নিবে। আমাকে বলে আমার চাকরির এখানে নাকি আমার রিলেশন আছে। আমি নাকি তার ঘরের সব জিনিস নিয়ে এসে পরছি। আমার ফ্যামিলিকে বলে সে চেঞ্জ হয়ে গেছে। আর এমন কিছু করবে না। অপরদিকে আমাকে এইসব কথা বলে। আমাকে অভিশাপ দেয় আমি পাগল হয়ে মারা যাব আল্লাহ আমার বিচার করবেন।

by (4 points)
উস্তায আমি কোনো ভাবে ই আমার ফ্যামিলিকে বুঝাতে পারছি না যে সে আমার মন থেকে উঠে গেছে আমি কোনো ভাবে ই তার সাথে মানিয়ে চলতে পারব না। আর আমি চাই না আমার ছেলে তার মা বাবার ঝগ দেখে একটা ট্রমাটাইজড শৈশব পাক। আর আমার ফ্যামিলি চায় না আমার বাচ্চা বাবা হারা হোক, তাদের বংশ মর্যাদা নষ্ট হোক। কিন্তু আমি কোনো ভাবে ই তাকে আমার মনে জায়গা দিতে পারছি না। উল্টো আমাদের ঝগড়া দেখে আমার ছেলেও খুব ভয় পায়। আর আমার ছেলে কখনো বাবা বা দাদা ডাকে না যেমন অন্য বাচ্চারা সাধারণত ডেকে থাকে।
আমাকে দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছে ডিসিশন জানানোর জন্য। আমার চাচারা ই এখানে মেইন আমার বাবা মা আমার বা আমার বাচ্চার ব্যাপারে কোন ডিসিশন নিতে রাজি না। এখন আমার কি করা উচিত উস্তায? আমার মা বাবা চাচা সবার বিরুদ্ধে গিয়ে সংসার না করার ডিসিশন নেওয়া উচিত নাকি তাদের কথা মেনে এই অশান্তি সারা জীবন বয়ে বেড়ানো উচিত?
এমন কি করা যাবে যে ডিভোর্স না দিয়ে আমি তাকে এই লিখিত দিলাম যে সে বি করে সংসার করুক আমাদের সাথে কোনো সম্পর্ক থাকবে না শুধু কাগজে কলমে আমার বাচ্চার বাবা হবে এছাড়া তার আমাদের উপর আর কোনো অধিকার থাকবে না। আর আমার ছেলেও আমার কাছে থাকবে।
আমার এখন কি করা উচিত উস্তায?আমার সাপোর্টে কেউ নাই।  আত্মহত্যা তো মহাপাপ নয়তো মা ছেলে মরে গিয়ে সবাই কে শান্তি দিয়ে যেতে পারতাম। কোথাও চলে যাব সে সুযোগও নেই।  আমি কিছু দিন পর পর এই বিচার এই অপমান আর নিতে পারছি না। সংসার করতে না চাওয়ায় মাঝে আমার চাচা রা আমাকে বাড়ি থেকেও বের করে দিছিল। আমি বিয়েতে রাজি হইছি এটাও নাকি আমার দোষ।
আমাকে একটা সমাধানের রাস্তা দেখান উস্তাদ 

1 Answer

0 votes
by (805,200 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কোনো পুরুষ ধোকা দিয়ে বিয়ে করলে, এক্ষেত্রে শরয়ী বিধান হলো
ﻟَﻮْ اﻧْﺘَﺴَﺐَ اﻟﺰَّﻭْﺝُ ﻟَﻬَﺎ ﻧَﺴَﺒًﺎ ﻏَﻴْﺮَ ﻧَﺴَﺒِﻪِ ﻓَﺈِﻥْ ﻇَﻬَﺮَ ﺩُﻭﻧَﻪُ ﻭَﻫُﻮَ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻜُﻒْءٍ ﻓَﺤَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِﺛَﺎﺑِﺖٌ ﻟِﻠْﻜُﻞِّ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻛُﻔُﺆًا ﻓَﺤَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻟَﻬَﺎ ﺩُﻭﻥَ اﻷَْﻭْﻟِﻴَﺎءِ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﻇَﻬَﺮَ ﻓَﻮْﻕَ ﻣَﺎ ﺃَﺧْﺒَﺮَ ﻓَﻼَ ﻓَﺴْﺦَ ﻷَِﺣَﺪٍ.............الي ان قال ............ ﻟَﻜِﻦْ ﻇَﻬَﺮَ ﻟِﻲ اﻵْﻥَ ﺃَﻥَّ ﺛُﺒُﻮﺕَ ﺣَﻖِّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻟَﻬَﺎ ﻟِﻠﺘَّﻐْﺮِﻳﺮِ ﻻَ ﻟِﻌَﺪَﻡِ اﻟْﻜَﻔَﺎءَﺓِ ﺑِﺪَﻟِﻴﻞِ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻮْ ﻇَﻬَﺮَ ﻛُﻔُﺆًا ﻳَﺜْﺒُﺖُ ﻟَﻬَﺎ ﺣَﻖُّ اﻟْﻔَﺴْﺦِ ﻷَِﻧَّﻪُ ﻏَﺮَّﻫَﺎ، ﻭَﻻَ ﻳَﺜْﺒُﺖُ ﻟِﻷَْﻭْﻟِﻴَﺎءِ ﻷَِﻥَّ اﻟﺘَّﻐْﺮِﻳﺮَ ﻟَﻢْ ﻳَﺤْﺼُﻞْ ﻟَﻬُﻢْ،
যদি স্বামী নিজেকে নিজস্ব বাস্তব বংশ ব্যতীত ভিন্ন বংশের লোক বলে দাবী করে,এবং পরবর্তীতে এর চেয়ে নিম্নমানের বংশ প্রমাণিত হয়,তাহলে সে উক্ত মেয়ের কু'ফু হতে পারবে না,এবং মহিলা ও মহিলার অভিবাবক সকলের জন্যই বিবাহকে কাযীর মাধ্যমে ভঙ্গ করা অধিকার থাকবে। কিন্তু যদি পরবর্তীতে এমন বংশ প্রমাণিত হয়,যা উক্ত মেয়ের কু'ফু অবশ্য হবে(কিন্তু সে প্রথমে বাড়িয়ে মিথ্যে বলেছিলো)তাহলে ও মহিলার বিবাহ ভঙ্গের অধিকার থাকবে।যদিও ওলীর থাকবে না। আর যদি তার বর্ণনাকৃত বংশের চেয়েও পরবর্তীতে উচ্ছ বংশ প্রমাণিত হয় তাহলে কারো বিবাহ ভঙ্গের অধিকার থাকবে না।

(ইবনে আবেদীন শামী রাহ বলেন)
বর্তমানে আমার কাছে এটাই প্রস্ফুটিত হয়েছে যে,মহিলার জন্য ফসখের অধিকার স্বামীকে শাস্তি দেয়ার জন্যই।কু'ফু র সমতা না থাকাতে নয়।
কেননা ছেলে মিথ্যা বলার পরও যদি তার এমন বংশ প্রমাণিত হয় যা ঐ মহিলার সমকক্ষ,তাহলেও মহিলার ফসখের অধিকার অর্জন হয়।এজন্য যে, পুরুষ মিথ্যা বলে মহিলাকে ধোকা দিতে চেয়েছিলো।এবং এজন্যই অভিবাবকদের জন্য ফসখের অধিকার অর্জন হবে না।কারণ সে অভিবাবকদের সাথে শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ করেনি।(রদ্দুল মুহতার-৩/৫০১)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/25515


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু বিয়ের পূর্বে ধোকা দিয়ে আপনাকে বিয়ে করেছে, এবং বিয়ে পরবর্তী অমানবিক আচরণ আপনার সাথে করেছে, তাই আপনি যদি তার কাছে তালাক চান বা কোর্ট তালাকের আবেদন করেন, তাহলে আপনার কোনো গোনাহ হবে না। আপনার বিবরণমতে এজাতীয় পুরুষের সাথে ভবিষ্যত জীবন দুর্বিষহ হবে। তাই তালাক নেয়াই উচিত। তালাক নিলে সন্তান সাবালক হওয়ার পূর্ব পূর্ব পর্যন্ত আপনার তত্বাবধানেই থাকবে। সন্তানের ভরণপোষণ তাকেই দিতে হবে। কোর্টের দ্বারা বিষয়টির নিষ্পত্তি করিয়ে নিবেন।আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...