আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
76 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
উস্তাদ আমি পরিপূর্ণ দ্বীন প্যাকটিস করা একটি মেয়ে। আমি চাই আমার বাকিটা জীবন ইলম অর্জন আর আল্লাহর সাথে থাকতে। এখন আমার পরিবার আমার উপর জুলুম করতেছে জোর করে বেদ্বীন কারো সাথে বিয়ে দিতে চাই। আমি অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু তারা জিদ ধরে, আর আমাকে বাসা থেকে ও চলে যেতে বলে। সাফ জানিয়ে দে,,তারা ওই রকম দ্বীনদার ছেলের সাথে বিয়ে দিবেনা।। কেঁদে কেঁদে বুঝিয়েছি। যেমন ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাই তাদের দ্বীন এর ছিটেফোঁটা ও নেই, গায়রতহীন আর আমার পরিপূর্ণ পর্দা কখনো মেনে নিবেনা। এমনকি আমার পরিবার ও বের্পদা হওয়ার নির্দেশ আমাকে দেয়। একটা দ্বীনদার ছেলের প্রস্তাব ও আসে। কিন্তু তাদের টাকার প্রতি লোভ এর জন্য, রাজি হয়না। আমি বুঝিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথার গুরুত্ব দেয়না। আমাকে বলে ওই রকম ছেলের সাথে চলে যেতে, তারা কখনো ওই রকম ছেলের সাথে বিয়ে দিবেনা। উস্তাদ আমি কি করবো!  আমি আর এগুলো নিতে পারছিনা, সবসময় হারাম থেকে দূরে থেকেছি একনিষ্ঠভাবে দোয়াও করেছি। কোনো ফায়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে নাহ। অনেক কটুকথা শুনতে হয়েছে আমাকে। এখন আমার আর ধৈর্য নেই,,আর ওই রকম ছেলেকে ও বিয়ে করতে পারবোনা। আমি রাজি না হলে রীতিমতো জোর করতেছে আমাকে পারলে আমাকে মারধর করে এমন অবস্থা। আমি একটু ভালো দেখতে তাই,তারা উচ্চ ফ্যামিলিতে দিতে চাই। যেটা আমি চাইনা। আমি সাধারণ কাউকে বিয়ে করে সাধারণভাবে থাকতে চেয়েছি।।কিন্তু আমি পারতেছিনা। উস্তাদ আমার মরে যেতে ইচ্ছে করতেছে। কিংবা কোথায়ও চলে যেতে। উস্তাদ তাদের জুলুম এর কারণে যদি আমি বাসা থেকে চলে যায় কিংবা সুইসাইড করি,,আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেনা? ওই রকম পরিবার এ দ্বীন পালন করার কোনো উপায় নেই,, সব গায়রে মাহরামদের নিয়ে দেখতে আসে। আরো আমার পরিবার আমাকে বলে সে নামাজী!! আমার বাঁচার কি কোনো উপায় আছে?  আমি কোনো উপায় দেখতেছিনা। আমি বাঁচতে চাই আর দ্বীন পালন করতে চাই। আমার পরিবার এর জন্য সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা আমাকে বুঝেনা। দ্বীন সম্পর্কে কোন ইলম নেই। আমি অনেক ধৈর্যশীল অনেক ধৈর্য ধরেছি। তাদের উপর কথা বলিনি কখনো। এমন কি তাদের কথা মতো পাত্র পক্ষেের সামনে ও গেছি। এমন কি কোনো ছেলেকে ভালো লাগেনি বললে আমাকে জোর করে আর নানান কথা শুনায়।।শুধু দুনিয়াবি জীবনের সুখ চাই তারা,,তারা চাই আমি বিলাসিতা করি।।।

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

বিবাহের ক্ষেত্রে রাসুল সাঃ কুফু মিলাইতে বলেছেন।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
 
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ : لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدَّيْنِ تَرِبَتْ يَدَاكَ»

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মূলত) চারটি গুণের কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়- নারীর ধন-সম্পদ, অথবা বংশ-মর্যাদা, অথবা রূপ-সৌন্দর্য, অথবা তার ধর্মভীরুর কারণে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন) সুতরাং ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)!
(সহীহ বুখারী ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬, নাসায়ী ৩২৩০, আবূ দাঊদ ২০৪৭, ইবনু মাজাহ ১৮৫৮, আহমাদ ৯৫২১, ইরওয়া ১৭৮৩, সহীহ আল জামি‘ ৩০০৩।)

কুফু সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ  https://www.ifatwa.info/4541/

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
রাসুলুল্লাহ সাঃ উক্ত হাদীসে বলেছেনঃ
তোমরা ধর্মভীরুকে প্রাধান্য দিয়ে বিবাহ করে সফল হও। আর যদি এরূপ না কর তাহলে তোমার দু’ হাত ধূলায় ধূসরিত হোক (ধর্মভীরু মহিলাকে প্রাধান্য না দিলে ধ্বংস অবধারিত)।
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এই বিয়েতে রাজী হওয়া ঠিক হবেনা।

তদুপরি আপনার পরিবার যেহেতু আপনাকে প্রচন্ড চাপ দিচ্ছে, সুতরাং এক্ষেত্রে আপনি সেই পাত্রের সাথে আলোচনা করবেন।

তাকে বলবেন যে বিবাহ এবং বিবাহ পরবর্তী তার পরিবারে গিয়ে আপনাকে পূর্ণ পর্দার নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারবেন কিনা!

যদি তিনি আপনাকে পূর্ণ পর্দার নিশ্চয়তা দেন, এবং পূর্ণভাবে দ্বীন মানার পরিবেশ দিতে পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত বিবাহে আপনি রাজি হতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...