আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (46 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম,
গত মাসে আমার স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আমার এক মেয়ে বন্ধু আমাকে তার একটা এক্সট্রা ফোন দিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, আমার উক্ত মেয়ে বন্ধু বিবাহিত, তার স্বামীও আমার ব্যাপারে জানে এবং তার সাথে অন্যরকম কোনো রকম হারাম সম্পর্ক নাই। আমার মেয়ে বন্ধু যে আমাকে তার একটা এক্সট্রা ফোন আমাকে দিয়েছে এটা জানার পর আমার মা ও বোন বলে উক্ত ফোনটি ফেরত দিয়ে দিতে বলে যদিও আমার মেয়ে বন্ধুর তার ফোনটি আমার ব্যবহার করা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই । কিন্তু আমি অন্য কাজে টাকা খরচ করে ফেলার কারণে আমার নষ্ট হয়ে যাওয়া ফোন রিপেয়ার করাতে পারি নাই।

প্রশ্ন ১. যেহেতু মা ও বোন মেয়ে বন্ধুর দেওয়া ফোনটি ব্যবহার করতে নিষেধ করে বা ফেরত দিয়ে দিয়ে দিতে বলে সেহেতু উক্ত ফোন এখনো ব্যবহার করা কি আমার জন্য হারাম হবে?

প্রশ্ন ২. আমি ফোনটি ব্যবহার করে এতদিন যেসব কাজ করেছি যেমন- ছবি তোলা,  ভিডিও করা, অনলাইন কোর্স করাইত্যাদি সেগুলোও কি হারাম হয়েছে?

প্রশ্ন ৩. উক্ত কাজের জন্য মা ও বোনের কাছে ক্ষমা চাইলে কি তা যথেষ্ট হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,230 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
যেহেতু উক্ত ফোন সেই মেয়েটি ও তার স্বামীর টাকায় ক্রয়কৃত, তাই তারা যেহেতু সন্তুষ্টি চিত্তেই ফোনটি আপনাকে ব্যবহার করতে দিয়েছেন, তাই তাহা ব্যবহার করা আপনার জন্য হারাম হবে না।

তদুপরি সেই ফোনটি ব্যবহার করতে গিয়ে যদি সে মেয়েটির প্রতি আকর্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাকে নিয়ে কোনরকম কল্পনা/ভাবনার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সে ফোনটি ব্যবহার করার দরুন যেহেতু আপনার কোন এহেন ভাবনা আসছে, প্রতি আকর্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা উদিত হচ্ছে,তাই সেই ফোনটি ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।

কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
...নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৬

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

(০২)
আপনি ফোনটি দিয়ে যেসব হালাল কাজ করেছেন, সে সব কাজ হালাল বলে বিবেচিত হবে।

আর আপনি ফোনটি দিয়ে যেসব হারাম কাজ করেছেন, সেসব হারাম কাজ হারাম বলে বিবেচিত হবে।

(০৩)
ক্ষমা চেয়ে নিলেই হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...