ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কেউ যদি কাউকে এমন গালি দেয় যাতে হদ্দ বা শরয়ী দন্ডবিধি আসেনা তাহলে এমন গালির বদলা গালি দিয়ে দেয়া জায়েয হলেও মাফ করে দেয়া সর্বোত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
ﻭَﺟَﺰَﺍﺀ ﺳَﻴِّﺌَﺔٍ ﺳَﻴِّﺌَﺔٌ ﻣِّﺜْﻠُﻬَﺎ ﻓَﻤَﻦْ ﻋَﻔَﺎ ﻭَﺃَﺻْﻠَﺢَ ﻓَﺄَﺟْﺮُﻩُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ
তরজমাঃ আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। যে ক্ষমা করে ও আপোষ করে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে; নিশ্চয় তিনি অত্যাচারীদেরকে পছন্দ করেন নাই।(সূরা আশ-শুরা-৪০)
উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় ইমাম ক্বুরতুবী উল্লেখ করেন।কেউ কেউ বলেনঃ
ﺣﺪﺛﻨﻲ ﻳﻌﻘﻮﺏ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﻟﻲ ﺃﺑﻮ ﺑﺸﺮ : ﺳﻤﻌﺖ . ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻧﺠﻴﺢ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻲ ﻗﻮﻟﻪ : ( ﻭﺟﺰﺍﺀ ﺳﻴﺌﺔ ﺳﻴﺌﺔ ﻣﺜﻠﻬﺎ ) ﻗﺎﻝ : ﻳﻘﻮﻝ ﺃﺧﺰﺍﻩ ﺍﻟﻠﻪ ، ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺃﺧﺰﺍﻩ ﺍﻟﻠﻪ .
বদ দু'আর বিনিময়ে বদদুআ করা জায়েয।
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻗﺎﻝ : ﺛﻨﺎ ﺃﺣﻤﺪ ﻗﺎﻝ : ﺛﻨﺎ ﺃﺳﺒﺎﻁ ، ﻋﻦ ﺍﻟﺴﺪﻱ ، ﻓﻲ ﻗﻮﻟﻪ : (
ﻭﺟﺰﺍﺀ ﺳﻴﺌﺔ ﺳﻴﺌﺔ ﻣﺜﻠﻬﺎ ) ﻗﺎﻝ : ﺇﺫﺍ ﺷﺘﻤﻚ ﺑﺸﺘﻤﺔ ﻓﺎﺷﺘﻤﻪ ﻣﺜﻠﻬﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺃﻥ ﺗﻌﺘﺪﻱ . [ ﺹ : 548 ]
যদি তোমাকে কেউ গালি দেয় তাহলে সীমালঙ্ঘন ব্যতীত তুমিও হুবহু সেই গালি দিতে পারবে।
{তাফসীরে ক্বুরতুবী-২৬/৪০আয়াতের ব্যখ্যা দ্রষ্টব্য।ভলিউম২১/পৃ৫৪৮}
আর দন্ডবিধি আসলে যেমন কেউ কাউকে জারজ সন্তান বলল, তাকে বিচারক হদ্দে ক্বাযাফ তথা যিনার অহেতুক তুহমতের শাস্তি প্রয়োগ করবেন।
{ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-২/১৬২.রশিদিয়্যাহ}
এবং কেউ কারো প্রতি জুলুম-অত্যাচার করলে বিচারকের কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়া বা আল্লাহর কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়াই উচিৎ।
অযথা কাউকে অভিশাপ দেয়া কখনো উচিত হবে না।
অবশ্য জুলুম-নির্যাতন চুড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেলে তার জুলুম-অত্যাচার বন্ধের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করা যাবে।এবং তার জুলুম নির্যাতন একদিন বন্ধ হবেই।
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) প্রশ্নের বিবরনমতে বাড়িওয়ালা আপনাদের উপর জুলুম করছে। আপনারা প্রতিবাদ করতে পারবেন। প্রয়োজনে কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
(২) জ্বী, জুলুমের প্রতিবাদ করার অধিকার আপনার রয়েছে।
(৩) স্বামীর পারমিশন ছাড়া বাসায় কাউকে প্রবেশ করে না দিলে সেক্ষেত্রে আপনার কোনো গুনাহ হবে না।
(৪) নিজের স্থান থেকে আল্লাহকে আকড়ে ধরে থাকবেন।
(৫) মা'বুদের নিকট সাহায্য চান। অবশ্যই একটা ব্যবস্থা হবে।