আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (2 points)
The people who does suicide why do they go to hell? They endure so much pain and sufferings in this world that they could not live the life and did suicide. Won't allah be merciful to them and give jannah specially cuz they endure so much pain?
There is a story that a sahaba in jihad killed himself.cuz of the pain and our prophet said he would go to hell but why? He was in pain, he had iman and he was fighting for the sake of allah...is   allah not merciful?  Wont Allah understand the sahaba?
These people were very much in pain and then die to go hell again..  This feel kind of injustice

1 Answer

0 votes
by (702,690 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

জীবন মানুষের নিজের সম্পত্তি নয় — আল্লাহর আমানত

কুরআনে বলা হয়েছে:

﴿وَلَا تَقۡتُلُوۤا أَنفُسَكُمۡ﴾
“তোমরা নিজেদের হত্যা করো না।” — সূরা নিসা ৪:২৯

অর্থাৎ—আপনার দেহ, জীবন, আত্মা — এগুলো আল্লাহর দেয়া আমানত
আপনি তার মালিক নন
তাই নিজের জীবন শেষ করার অধিকারও আপনার নেই

যেমন একটি আমানত ভেঙে ফেলা বা নষ্ট করা হারাম—
নিজেকে ধ্বংস করাও একই কারণে হারাম।

কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

﴿لَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَـٰنَ فِی كَبَدࣲ﴾
“আমি মানুষকে কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্যে সৃষ্টি করেছি।”
— সূরা বালাদ ৯০:৪

অর্থাৎ—
দুঃখ-কষ্ট জীবনের অংশ।
এগুলোর মধ্যেই ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই মানুষের দায়িত্ব।

আত্মহত্যা সমস্যার সমাধান নয় — বরং পাপ করে কষ্ট বাড়িয়ে ফেলা।

ইসলাম মানুষকে শেখায়:
ব্যথা, দুঃখ, দারিদ্র্য, হতাশা—সবই ক্ষণস্থায়ী, এবং এগুলো ক্ষুদ্র পরীক্ষা।
আত্মহত্যা করে মানুষ:

সাময়িক কষ্ট থেকে পালায়
কিন্তু এক হারাম কাজ করে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে।

★সমাজগত ক্ষতি — আত্মহত্যা অন্যদের ভেঙে ফেলে।

আত্মহত্যা শুধু ব্যক্তির ক্ষতি নয়:
পরিবারকে চরম শোক দেয়,
সন্তানদের মানসিকভাবে ধ্বংস করে,
সমাজে খারাপ উদাহরণ তৈরি করে,
মানসিক রোগে আক্রান্ত অন্যদেরও প্রভাবিত করতে পারে,

ইসলাম এমন কাজ নিষিদ্ধ করে যা সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

আল্লাহর প্রতি হতাশা হারাম
কুরআনে আল্লাহ বলেন:

﴿لَا تَقۡنَطُوا۟ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِ﴾
“আল্লাহর রহমত থেকে হতাশ হয়ো না।”
— সূরা যুমার ৩৯:৫৩

আত্মহত্যা অনেক সময় হয় যখন মানুষ মনে করে: “আমার জন্য কোনো ভালো নেই… আল্লাহ আমাকে সাহায্য করবেন না।”

এটি সরাসরি আল্লাহর প্রতি হতাশা—যা ইসলামে বড় গুনাহ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন,, তিনি আমাদের জন্য আসমান জমিন সহ কোটি-কোটি নেয়ামত সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাদের জন্য জান্নাত জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন, তিনি নির্ধারণ করেছেন আত্মহত্যা কারীদের জন্য শাস্তি হলো জাহান্নাম।

সুতরাং তার নির্ধারণকৃত শাস্তির ক্ষেত্রে কোন যুক্তি তর্কে যাওয়া কোন বান্দার পক্ষে সমীচিন নয়।

আল্লাহর বান্দাদের জন্য উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার শাস্তি নির্দ্বিধায় মেনে নেওয়া।

তার বিপক্ষে যুক্তি দাড় না করানো।

আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান অসীম, আর আমাদের জ্ঞান সীমিত, আমাদের সীমিত এই জ্ঞান নিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা যিনি অসীম জ্ঞানের অধিকারী, তার কোন বিধান পূর্ণভাবে বোঝার ক্ষমতা আমাদের নেই।

তদুপরি ওলামায়ে কেরামগণ বলেছেন যে
আত্মহত্যার শাস্তি জাহান্নাম হওয়ার কারন হলো,

*জীবন আল্লাহর নেয়ামত — এর প্রতি অবহেলা বড় অপরাধ।
*সমাজে এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রচণ্ড—তাই কঠোর সতর্কতা।
*মানুষ যেন কষ্টের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়।
হারাম কাজের ভয় মানুষকে রক্ষা করে।

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 204 views
0 votes
1 answer 512 views
0 votes
1 answer 452 views
...