“শিক্ষা, সভ্যতা আর ধর্ম একসাথে চলে না”—এ কথা ইসলামের দৃষ্টিতে মোটেও সত্য নয়।
ইসলামের শিক্ষা হলো—সভ্যতা, জ্ঞান, অগ্রগতি এবং নৈতিকতার সমন্বয়। ইসলাম কখনোই জ্ঞান বা বিজ্ঞানকে বাধা দেয় না বরং তা অর্জন করার নির্দেশ দেয়।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
“পড়, তোমার প্রভুর নামে…” (সূরা আল-আলাক 96:1)
ইসলামের প্রথম ওহিই ছিল শিক্ষা সম্পর্কে। এটা নিজেই প্রমাণ করে যে সভ্যতা ও জ্ঞান ইসলামের অপরিহার্য অংশ।
“তোমরা কি চিন্তা না কর?”
“তোমরা কি জ্ঞান অর্জন করবে না?”
— এমন অসংখ্য আয়াত রয়েছে।
★বর্তমান সভ্যতার সঙ্গে ইসলামকে নিয়ে আগানো অবশ্যই সম্ভব।
ইসলামের মূল নীতি হচ্ছে—
ন্যায়
সমতা
জ্ঞান
দায়িত্বশীলতা
নৈতিকতা
এগুলো যেকোনো আধুনিক সভ্যতার ভিত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আজকের প্রযুক্তি, মেডিকেল সায়েন্স, আইন, অর্থনীতি, গবেষণা—এসব কিছুই ইসলাম গ্রহণ করে যদি তা নৈতিকতার সাথে থাকে।
রাসুল (সা.) বলেছেন:
“জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।” — (ইবনে মাজাহ)
এখানে নারী–পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।
অতএব আধুনিক যুগে এগোতে গেলে ইসলাম বাধা নয়।
---
একজন নারী হিসেবে বর্তমান যুগে কতটুকু জ্ঞান রাখা জরুরি?
ইবনে আবেদীন শামী রাহ,জ্ঞান শিক্ষা ফরয সম্পর্কিত একটি মূলনীতি তুলে ধরেন।যাকে আমাদের সামনে আসলে,ভবিষ্যৎ অনেক অস্পষ্টতা দূরবিত হয়ে যাবে ইনশা'আল্লাহ।
তিনি বলেনঃ
وَكُلُّ مَنْ اشْتَغَلَ بِشَيْءٍ يُفْرَضُ عَلَيْهِ عِلْمُهُ وَحُكْمُهُ لِيَمْتَنِعَ عَنْ الْحَرَامِ فِيهِ اهـ
যে বক্তি কোনো জিনিষ বা কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করবে, তার উপর উক্ত বিষয় সম্পর্কে ইলম অর্জন করা ফরয।যাতে করে উক্ত বিষয় ও বিষয় সংশ্লিষ্ট সমস্ত হারাম থেকে সে অনায়াসে বেছে থাকতে পারে। (রদ্দুল মুহতার-১/৪২)..................বিস্তারিত-
https://www.ifatwa.info/1893
আল্লাহর ফরয হুকুমকে ঠিক ঠিক ভাবে অনুসরণ করতে এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বাঁচতে যত বিষয় সম্পর্কে যতটুকু ইলমের প্রয়োজন ততটুকু ইলম শিক্ষা ফরয।যেমন,নামায আল্লাহর ফরয বিধান,নামায পড়ার জন্য পবিত্রতা অর্জন শর্ত।তাই পবিত্রতার ইলম অর্জন ফরয।ঠিকতেমনি কেরাত ফরয, তাই কেরাত শিক্ষা ফরয।ঈমান আনয়নের জন্য শিরক মুক্ত হয়ে মনেপ্রাণেএকমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করা ও তার বিধি-বিধান কে মান্য ফরয।তাই এ সম্পর্কীয় ইলম অর্জন ফরয।এবং রোযা আল্লাহর ফরয বিধান।রোযা রাখতে হলে তার করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ পরিমাণ ইলম অর্জন ফরয।অর্থাৎ যতটুকু ইলম হলে রোযাকে নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখা যায়,ততটুকু পরিমাণ ইলম অর্জন ফরয।ইত্যাদি ইত্যাদি।
একজন নারী হিসেবে জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করাও জায়েজ আছে।
আজকের সময়ে একজন নারী সমাজে চলতে যা যা জানতে পারে—
মৌলিক শিক্ষা
আর্থিক সচেতনতা
প্রযুক্তি ব্যবহার
স্বাস্থ্য–জ্ঞান
— এগুলো ইসলাম সমর্থন করে।
পেশাগত বা উচ্চতর শিক্ষা (যদি প্রয়োজন হয়)
নারী যদি ডাক্তার, শিক্ষক, গবেষক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী বা অন্য কোনো পেশায় যেতে চান—
ইসলাম এতে বাধা দেয় না, বরং দরকার হলে উৎসাহিত করে।
---
নারীকে উচ্চশিক্ষা অর্জনে ইসলাম নিরুৎসাহিত করেনা।
তবে তাহা শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে করতে হবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
“বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না—তারা কি সমান?” (সূরা যুমার 39:9)
এখানে নারী বা পুরুষ উল্লেখ করা হয়নি—সবার জন্য শিক্ষার শ্রেষ্ঠতা ঘোষণা করা হয়েছে।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
“তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে শিক্ষালাভ করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” — (বুখারি)
নবী (সা.) নারীদের জন্য আলাদা দিন নির্ধারণ করতেন, যাতে তারা এসে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। — (বুখারি)
উম্মে সালামা, আয়েশা (রাঃ) সহ অনেক সাহাবিয়া ইসলামের বড় বড় আলেম, হাদীস বর্ণনাকারী, আইনজ্ঞ ছিলেন।
পুরুষ সাহাবিরাও তাদের কাছে এসে শিখতেন।
অতএব ইসলাম নারীর উচ্চশিক্ষা সমর্থন করে, যতক্ষণ তা নৈতিকতা, শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে হয়,শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে হয়।