আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
109 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি ২.৮ বছর ধরে বিবাহিত। স্বামী অক্ষম শারিরীকভাবে।আমার ওভারিয়ান  সিস্ট ছিল, ডাক্তার দেখিয়েছি তারা বলেছে বাবু নিয়ে নিতে। আমরা বিয়ের পর থেকেই বাবু নিতে চেয়েছি। কিন্তু হচ্ছে না। বিয়ে হয়েছে জয়েন্ট ফ্যমিলিতে।  শ্বশুর,  শ্বাশুড়ি আর আমরা ২ জন। সাথে আরো ২-৩ জন হেল্পিং হ্যান্ড। টোটাল ৬-৭ জনের রান্না। আল্লাহর ৩০ টা দিন রান্না। শাশুড়ী আর আমি মিলে রান্না সামলাই। মাঝে মাঝে আমি ভার্সিটিতে গেলে শ্বাশুড়ি একাই করেন। আবার অনেক সময় অন্য কেউ হেল্প করে দেয়।
হাসবেন্ড বিয়ের পর পরই চাকরি ছেড়ে দেয়। এখনো পর্যন্ত বেকার। টুক টাক ইনকামে প্রয়োজনীয় জিনিসও কেনা হয় না। উলটা আমি আমার শখের ২ টা আংটি সহ আরো বাপের বাড়ির টাকা তাকে দিয়েছি ব্যবসা করার জন্য। সেটাও সে এখনোও ব্যাক করে নি। আর আমার আব্বু আম্মুর কাছে রিসেন্ট ২০ হাজার টাকাও নিয়েছে ধার হিসাবে। আমি তাকে বিলিভ করতে পারি না। কারন সে আমার  আগের ধারের টাকাই ফেরত দেয় নি। তবুও এবার কথা দিয়েছে ফেরত দিয়ে দিবে। তাও আমার বিলিভ নষ্ট হয়ে গেছে তার প্রতি। কারন বড় বড় লেনদেনে সে সচ্ছ ছিলো না আমার কাছে।
আমার শ্বশুর মানুষ ভালো। আমার সমস্যা হয়েছে আগে সব চেপে রাখতে পারতাম আর এখন সব বের হয়ে আসে মুখ থেকে। আমাকে কষ্ট দিলে বলে ফেলি,  আপনার এই কথায় আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি আমাকে এক্সপ্রেস করি,  সেটা নিয়ে আমার হাসবেন্ড বলে আমি নাকি আমার শাশুড়ীকে সম্মান করি না, বেয়াদবি করি। মানে আমার কিছুই তার ভালো লাগে না। এমনকি তাকেও আমার মনের কথা রাগ ,  দু:খ বলতে গেলেও জামাই  মনে করে আমিই কাউকে দেখতে পারি না। আমি যখন নিরবে কান্না করতাম কারো খারাপ আচরনে সে নিজ থেকে এসে জানতে চাইতো আমার কি হয়েছে। আমিও বোকার মত বলতাম কি হয়েছে। আমি কষ্ট পাচ্ছি কেন। বর্তমানে দেখি আমার স্বামীই আমার সেই কথাগুলোর বিপক্ষ। আমার জীবনে যাকে আপন ভেবেছি সেই আমার বড় শত্রু তা বুঝি নি। তার বয়স ৩৫ আমার ২৫।  আমি কোনো কথার উত্তর দিলেই তার কাছে বেয়াদবী আর তর্ক মনে হয়। তাই আমি মুখ বন্ধ করে থাকি। মুখ চেপে রাখি। যেন কথা না বের হয়।
এদিকে সে অক্ষম, ইনকাম নেই(শশুরের টাকায় চলি আর নিজের বাপের বাড়ি থেকে ), আবার আমাকে তার মায়ের অন্যায়ও সহ্য করতে বলে।আমি পাগল প্রায় অবস্থায় আছি।
বিয়ের আগে আমি বলেছিলাম আমার কোনো গুন নাই। অনেক রাগী। তবে সে আমাকে বিয়ের জন্য পাগল ছিল। পরে ফ্যামিলিগত ভাবেই বিয়ে হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা কাবিনে স্বর্ন বাবদ ২০২৩ সালের ১৭ মে। এত কম কাবিন ছেলেই ঠিক করেছিল।  প্রথমে তো ৫ হাজার দিতে চেয়েছিলো।
পরে দেখি তারা আরো কাবিন দেয়ার সামর্থ রাখে। কারন শশুরের ১ তালা বাড়ি আছে মিরপুর ১ এ শাহ আলী বাগ এলাকায়। ৫০ হাজার ভাড়া আসে প্রতিমাসে। বিয়ের পর শশুর আমার হাজবেন্ডকে ৩ লাখ টাকাও ধার দেয় ব্যবসা করার জন্য।।সেটা সে ধরা খায়।
আর আমার হাসবেন্ড এর আমি ৩য় বউ।(তবে বিয়ের আগে বলেছিলো তার ১টা ডিভোর্স হয়েছে।এটা একটা প্রতারনা তো ছিলোই। পরে আমি জানলাম ২০১৬ এবং ২০২০ সালে তার ২ বিয়ে হয়। প্রথমটা ডিভোর্স হয়েছে ২০২০ এর বিয়ের ডিভোর্স হয়েছে কিনা সেটার কোনো কাগজ পাই নি বা আমাকে দেখায় নি।
আমি একজন কুমারী মেয়ে ছিলাম, দুনিয়া সম্পর্কেও বুঝতাম না, এরকম প্রতারণার শিকার হব ভাবিনি। আমি একটা ইসলামিক বই ' রিয়াদুস সলেহীন' পড়তে নিতে গিয়ে তার প্রথম বিয়ের কথা জানতে পারি। বইটায়া সে তার প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠানে গিফট পেয়েছিলো তার বন্ধুর থেকে। সেটা লিখা ছিলো বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায়। আমার কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছিলো। আমি জানতাম আমি ২য় বউ। পরে দেখি হায়রে আমি ৩য় বউ তার। এটা আমি ওই বইটা না পড়লে জানতামই না। এই প্রথম ধাক্কা জীবনে খেলাম!

তবে এর কিছুই আমার বাবা মা কে বলি নি। নিজের বুকে চেপে রাখসি। শুধুই আল্লাহ জানেন। বাবা মা জানলে বেঁচে থাকতেই মরে যাবেন। ২ জনই বয়স্ক তারা। আব্বু পুরোপুরি বিছানায়।

এখন আমার সমস্যা আমি অনেক রিয়্যাক্ট করে ফেলি। এত ফকিরের মত চলতে ভালো লাগে না।এমনকি ১০০- ২০০ টাকার জিনিস কিনতেও ১০০ বার ভাবা লাগে,  চাওয়া লাগে। এত কঠিন পরিস্থিতি।  বাবা মা এর কাছে এখনো হাত পাতি। ভাবতেই কষ্ট লাগে৷ আব্বুর চাকরিও ১ বছর আছে। তারপর আমার বাবা মা কিভাবে চলবে জানা নেই। আমরা ২ বোন শুধু। আমি ছোট। ভাই নেই। চাচাও গরিব।  এদিকে আমার পুত পবিত্র জামাই নামক মানুষ ২০ হাজার ধার নিয়েছে আমার এই অসুস্থ বাবা মায়ের কাছে। ভাবতেও নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাই। মন চায় বাবা মা কে দিতে। নিতে না। নিজেকে ছ্যাচড়ার মত লাগে। বিয়ের পরও বাবা মায়ের কাছে চাইতে।
যাইহোক, জামাইয়ের মতে আমি বেয়াদব, পৃথিবীতে আমিই নাকি একমাত্র বউ(আমাকে ছোট করে বলা), আমাকে থাপ্পড় দেখায়, একবার আমার কানের দুলে তার হাত লেগে রক্ত বের করে দিয়েছিলো (শক্ত করে চেপে ধরে মারতে চায়)। আর রাগের সময় আমিও কথা শুনি না।আমার তার কোনো কথাই ভালো লাগে না আমার অথবা সে আমাকে টাচ করুক এটাও রাগের সময় সহ্য হয় না। তো এখন আমি এক্সপ্রেসিভ হয়ে গেসি অনেক।কেউ অন্যায় করলে বা খোঁচা মেরে কথা বললে আমিও খোঁচাই দিয়ে দেই।  তাই আমি এখন খারাপ বউ। আগে যে কত নিরবে চোখের পানি পড়েছে সেটা কেউ জানে না। তবে স্বামী নামক লোক আমাকে বার বার ফুসলিয়ে ঘটনা উদ্ধার করতো আমার থেকে।আজ দেখি সেই বড় পল্টিবাজ। যদিও আমি জানি সবাই তার পরিবারেরই সাপোর্ট করবে। তবে আমি ভাবি, অন্যায় করলে আমি আমার মায়ের বিপক্ষে যাব অবশ্যই।  তবে যতটা সম্মানের সাথে তাকে বোঝানো যায়।এই ভাবনা আমার। আমি গীবত অপছন্দ করি। শশুরবাড়ি গীবতের কারখানা ছিলো। আমার উসিলায় এটা কমেছে এখন।

কিন্তু আমিই বর্তমানে স্বামীর শত্রু। সে আমাকে অনেক কথা বলতে বা শুনাতে পারবে কিন্ত আমি পারবো না। কিছু বলতে গেলেই আমি বেয়াদব, তর্ক করি।
তবে আমি বলে দিয়েছি আমাকে মারতে আসলে যেন আব্বু আম্মুর কাছেই আমাকে পাঠিয়ে দেয়। তবুও যেন আমার গায়ে হাত না তুলে। আমিই চলে যাব। তবে আমাকে যেন না মারে।
এত পরিস্থিতিতে আমি এখন কি করতে পারি.?
আমার আবেগ কাজ করছে অনেক। আর হুট করে কান্না করি, হাসি, আমাকে এখন স্বামী পাগল বলে( কারন চেপে রাখা কথা আর কষ্ট গুলো বলে ফেলি) বুকে চেপে আর রাখতে পারি না। আমার ডিভোর্স হলেও সমস্যা নাই। আমি আরো বেঁচে যাই। এত দায়িত্ব থেকে। যাদের দায়িত্ব পালন করে শত্রু হতে হয় সেখান থেকে সসম্মানে বেরিয়ে যাওয়াই ভালো। অসম্মানিত হওয়ার থেকে।


প্রশ্ন:  এখন আমি কি করবো..?? আমাকে আমার ভুল ধরিয়ে দিন।
আমি রাগী, জেদী প্রচুর অভিমানি এই খারাপ গুন বললাম। আর আমার শ্বাশুড়ি আমাকে সফট হেইট করে আমি জানি। তবে আমি কিছু বলি না।কারন সবাই সবাইকে ভালবাসবে তা হতে পারে না। তবে,  আমার শ্বশুর আমাকে ভালোবাসেন।আলহামদুলিল্লাহ।

 আর বাকি জামাইয়ের কাছে আমি শত্রু, আর ঝগড়াটে, বেয়াদব, পাগল, তর্কবাজ।

নি:সন্তান থাকার কষ্ট,মানুষের খোঁচা, জামাইয়ের প্রতারনা, নিজের রাগ, জেদ, অভিমান আর এক্সপ্রেসিভ হয়ে যাওয়া নিয়ে আমি বিপদে আছি। আমার জন্য দয়া করে উত্তম সমাধান দিন। জাজাক আল্লাহু খাইরান।   
নোট: আমার বিয়ের প্লান ছিলো না। কারন আব্বু আম্মুকে কে দেখবে। বোনের তো বিয়ে হয়ে হয়ে গিয়েছে।  এই দায়িত্ববোধ থেকে ভেবেছি জীবনে বিয়ে স্যাক্রিফাইস করবো। কিন্তু আমার আব্বু বিয়ে দেখে যেতে চাইতেন।  একমাত্র আব্বুর সান্তনার জন্য বিয়ে করা। আর,  এই বিয়েতে ভরসা পেয়েছিলাম, ভরসা দিয়েও ছিলো। তবে এখন আমিই শত্রু শুধু মুখ এক্সপ্রেসিভ হওয়ার কারনে। আমার আশেপাশে সাপোর্ট হিসাবে প্রথমে আল্লাহ তায়ালা,   আব্বু আম্মু আর ভালো দ্বীনদার বান্ধবীগুলো ছাড়া আর কাউকে পাই না..

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কোরআনের ঘোষনা হলঃ
ﻭَﻋَﺎﺷِﺮُﻭﻫُﻦَّ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑ

নারী (স্ত্রী) দের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। (সূরা নিসা-১৯)

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনার লেখা প্রতিটি লাইন মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আপনি অনেক কষ্ট, ভয়, বেদনার মধ্যে রয়েছেন।

আপনি মূলত অত্যন্ত অন্যায়, প্রতারণা, চাপ, আবেগিক ও মানসিক অত্যাচারের মধ্যে রয়েছেন।

আল্লাহ আপনাকে সহনশীলতা, নিরাপত্তা, শান্তি এবং উত্তম পথ দেখান—আমীন।

প্রথমত: আপনার স্বামীর আচরণ ইসলামের দৃষ্টিতে সুস্পষ্টভাবে অনৈতিক ও হারাম

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী—

১) আর্থিক দায়িত্ব থেকে পলায়ন

ইসলামে স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর খাবার, পোশাক, বাসস্থান নিশ্চিত করা।
রাসূল ﷺ বলেন:
“তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষক এবং প্রত্যেকের কাছ থেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।”
(বুখারি)

স্বামী বেকার থাকা পাপ নয়, কিন্তু স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবার থেকে টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়া, দায়িত্ব পালন না করা—গুরুতর অন্যায়।

২) প্রতারণা—বিয়ের পূর্বে পূর্বের বিয়ের সত্য গোপন করা

বিয়ের আগে স্ত্রীর কাছে পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করা গুরুতর প্রতারণা (ধোকাবাজি)।
ধোকাবাজদের সম্পর্কে কুরআনে এসেছে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধোকাবাজদের পছন্দ করেন না।” (সুরা আন-নিসা ৪:১০৮)

 ৩) আপনাকে মারা, হাতে চাপ দেওয়া, ভয় দেখানো

এটি মারধর + গৃহ-হিংসা = শারীরিক নির্যাতন, যার জন্য শরীয়তে স্ত্রীর বিচ্ছেদ দাবি করার অধিকার রয়েছে।

৪) আপনাকে অপমান করা, বেয়াদব বলা, মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন

এটিও জুলুম।
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (সুরা নিসা ৪:১৯)

আপনি যদি কথা বলার সময় আপনার ব্যথা প্রকাশ করেন— এটা মানবিক।

দ্বিতীয়ত: আপনার পরিবারে যে আর্থিক চাহিদা চলছে, তা আপনার দায়িত্ব নয়।

আপনার বাবা-মা অসুস্থ—আপনার মন ভেঙে যাওয়াই স্বাভাবিক।
কিন্তু—

স্বামীর দায়িত্ব আপনি পালন করবেন না।
তার বেকারত্ব, অক্ষমতা, দায়িত্বহীনতা—এসব আপনার ঘাড়ে পড়া উচিত নয়।

তিনি আপনার আংটি, টাকা, এরপর বাবা-মায়ের কাছের টাকা—all taken without repayment—এটি অর্থনৈতিক শোষণ।

তৃতীয়ত: আপনি বর্তমানে মানসিক চাপের মধ্যে আছে।

“চেপে রাখা কথা এখন বের হয়ে যায়”,
হুটহাট কান্না, হাসি—
এগুলো নিছক “রাগ” নয়—
এটি মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া।

এটা আপনার ভুল নয়—এটা আপনার বেঁচে থাকার প্রতিক্রিয়া।

★এখন শরীয়তের আলোকে আপনার করণীয় কী?

১) নিজের নিরাপত্তাকে প্রথম অগ্রাধিকার দিন
আপনার স্বামী আপনাকে মারতে পারে।

ইসলামে স্ত্রীকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রাখা জুলুম।
জুলুম থেকে বাঁচতে আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।

২) পারিবারিক সালিশ, শরীয়তের নির্দেশ
কুরআন বলে,
“যদি তোমরা তাদের (দম্পতির) মধ্যে বিরোধ আশংকা করো, তবে একজন সালিশ নিযুক্ত করো স্বামীর পক্ষ থেকে এবং একজন স্ত্রীর পক্ষ থেকে।”
(সুরা নিসা ৪:৩৫)

এখনই দুই পরিবারের বিশ্বস্ত বয়োজ্যেষ্ঠ—
আপনার পক্ষ থেকে এক/দুইজন
তার পক্ষ থেকেও এক/দুইজন
নিয়ে সালিশ বসান।

এতে আপনার অভিযোগ, তার প্রতারণা, আর্থিক শোষণ, মারধর—সব পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করবেন।

এক্ষেত্রে তারা আশা করি আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে সমাধানে নিয়ে আসতে পারবেন।

যেকোনো ভাবেই হোক সে অর্থ উপার্জন করবে। সকল সমস্যার সমাধান করবে।

৩) আপনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, আপনি চাইলে খোলা তালাক তথা আদালতের সিদ্ধান্তে বিচ্ছেদ চাইতে পারবেন।

নিম্নের কারণগুলোর কারনে এক্ষেত্রে শরীয়তে তালাক চাওয়া বৈধ।

স্বামীর পক্ষ থেকে মারধর
প্রতারণা
আর্থিক দায়িত্ব পালন না করা
মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিয়ে করা
স্ত্রীর ক্ষতি করে এমন আচরণ (দুঃখ, মানসিক যন্ত্রণা)

এক্ষেত্রে তালাক চাওয়া আল্লাহর কাছে অপরাধ নয়।

৪) নিজেকে দোষী ভাববেন না

আপনি পাপ করেননি।
প্রতিটি জায়গায় সুন্নত/নৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন।
আপনি খারাপ নন।

বরং আপনাকে প্রতারণা করে, আর্থিক ও মানসিকভাবে চাপে রেখে—
সে আপনাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখানে যেকোনো মানুষ ভেঙে পড়তো।
---

৫) আপনার বাবা–মাকে বর্তমান পরিস্থিতির ন্যূনতম অংশ জানাতে হবে

আপনি সম্পূর্ণ সত্য নাও বলতে পারেন—
কিন্তু অন্তত নিজেকে মারধর থেকে রক্ষা করতে,কিছু সত্য প্রকাশ করতে হবে।

তাদের উদ্বেগ আছে, কিন্তু আপনি যদি মারা যান, মানসিক ভেঙে পড়েন—তারা কি তখন কম কষ্ট পাবেন?
---

৬) আপনি ইস্তিখারা করুন

এটা সিদ্ধান্তকে সহজ করবে।
আপনার অন্তর পরিষ্কার হবে।
সঠিক পথ আল্লাহ দেখাবেন।

---
আপনি তার প্রতারণা সহ্য করেছেন।
তার প্রতি অতিরিক্ত নিরব ছিলেন।
নিজের প্রয়োজন চেপে রেখেছেন
কিন্তু এগুলো আপনার দোষ নয়।
এটা আপনার সরলতা ও দয়া।

আপনার অতিরিক্ত অভিমান, রাগ—এগুলোও স্বাভাবিক, মানসিক চাপে হয়।
এগুলো পরিবর্তন সম্ভব—কিন্তু পরিবেশ নিরাপদ হতে হবে।
---
★সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: সন্তান নেই—এটা আপনার জন্য আল্লাহর রহমত

সন্তান থাকলে বেরিয়ে আসা কঠিন হত।
আল্লাহ আপনাকে সুযোগ দিয়েছেন আপনার জীবন বাঁচানোর।

---
সুতরাং আপনার স্বামী যদি মারধর চালাতে থাকে,টাকা চুরি বা প্রতারণা করে,মায়ের অন্যায় আপনাকে সহ্য করতে বাধ্য করে,আপনাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বানিয়ে ফেলে

তাহলে শরীয়ত আপনাকে বৈধভাবে তালাক চাওয়ার অনুমতি দেয়।

তবে যদি—
সে সত্যিকারের তওবা করে, দায়িত্ব নেয়, আর্থিকভাবে দাঁড়ায়, আপনাকে সম্মান দেয়,সেক্ষেত্রে তালাক চাওয়ার প্রয়োজন নেই।

সর্বক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাইবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...