আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
93 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওরাহমাতিল্লাহি ওবারাকাতুহ
১.উস্তাদ আইওএম থেকে আমলি সূরার যে ছোট অজিফা/বই দেওয়া হয় এটা থেকে কি অযু ছাড়া সূরা পড়া যাবে বা  অযু ছাড়া অজিফা ধরা যাবে?

২.নামাযের মধ্যে অর্থাৎ নামায শুরু করার পর প্রায়ই মুখে থুতু আসে। একজায়গায় দেখেছিলাম নামাজের মাঝখানে থুতু আসলে বামদিকে ফেলা যাবে। কিন্তু উস্তাদ আমাদের ঘরের মেজে তো পাকা।ঘরের মাঝখানে থুতু ফেলা বিষয়টা কেমন লাগে! অন্যদিকে থুতু জমিয়ে রাখলে শেষের রাকাতে দেখা যায় সূরা/দোয়া সমূহ উচ্চারণ করা যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে  করনীয় কি উস্তাদ?

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
চার মাযহাবের সিদ্বান্ত মতে বিনা অজুতে কোরআন শরীফকে স্পর্শ করা যাবে না।
হাদিস শরীফে এসেছে
 - مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ  أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللهِ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ: أَنْ لاَ يَمَسَّ الْقُرَآنَ إِلاَّ طَاهِر،
ٌ)رقم الحديث 680)
তরজমাঃ- হযরত আমর ইবনে হযম রাঃবলেন,ঐ কিতাব যা আল্লাহর রাসুল সাঃ আমর ইবনে হযমের সাথে নাজরান প্রেরণ করছিলেন তাতে এটাও তিনি লিখে দিয়ছিলেন যে, কোরআনকে প্রবিত্রতা ব্যতীত  কেউ স্পর্শ করতে পারবে না।

উক্ত হাদিস দ্বারা সুরা ওয়াকেয়ার ৭৯ আয়াতের ব্যখ্যাও সুনির্দিষ্ট হয়ে গেল।যেখানে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻘُﺮْﺁﻥٌ ﻛَﺮِﻳﻢٌ
(77
নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,
ﻓِﻲ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻣَّﻜْﻨُﻮﻥٍ
(78
যা আছে এক গোপন কিতাবে,
ﻟَّﺎ ﻳَﻤَﺴُّﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤُﻄَﻬَّﺮُﻭﻥَ
(79
যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
বিনা অজুতে কুরআন স্পর্শ করা যায় না। সুতরাং আইওএম থেকে আমলি সূরার যে ছোট অজিফা/বই দেওয়া হয়, এটা থেকেও অযু ছাড়া সূরা পড়া যাবে না। বা অযু ছাড়া অজিফা ধরা যাবে না।

(২) নামাযে মুখে থুথু আসলে সেই থুথু গিলে ফেললে নামায ফাসিদ হয় না। তবে গিলে ফেলা সম্ভব না হলে চাদর ইত্যাদি দ্বারা মুছে দেওয়া হবে বা বাম দিকে নিক্ষেপ করা হবে।

وفي کتاب المسجد لأبي نعیم ”من ابتلع ریقہ اعظاماً للمسجد ولم یمح اسما من أسماء اللہ تعالی ببزاقٍ کان من خیار عباد اللہ (عمدة القاري: ۴/۱۴۹) 
 عن أنس بن مالک أن النبي صلی اللہ علیہ وسلم رَأَی نُخَامَةً فِی الْقِبْلَةِ فَحَکَّہَا بِیَدِہِ، وَرُئِیَ مِنْہُ کَرَاہِیَةٌ -أَوْ رُئِیَ کَرَاہِیَتُہُ لِذَلِکَ وَشِدَّتُہُ عَلَیْہِ - وَقَالَ إِنَّ أَحَدَکُمْ إِذَا قَامَ فِی صَلاَتِہِ فَإِنَّمَا یُنَاجِی رَبَّہُ - أَوْ رَبُّہُ بَیْنَہُ وَبَیْنَ قِبْلَتِہِ - فَلاَ یَبْزُقَنَّ فِی قِبْلَتِہِ ، وَلَکِنْ عَنْ یَسَارِہِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِہِ․ ثُمَّ أَخَذَ طَرَفَ رِدَائِہِ فَبَزَقَ فِیہِ ، وَرَدَّ بَعْضَہُ عَلَی بَعْضٍ ، قَالَ أَوْ یَفْعَلُ ہَکَذَا․ (بخاری شریف: ۱/۵۹)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...