আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওস্তাদ।অনুগ্রহ করে প্রশ্নের উত্তরগুলো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
১/নবজাতক মেয়ের চুল ফেলা যাবে কিনা?একটা ভিডিওতে দেখেছিলাম এক সালাফি শায়েখ বলেছিলেন,ছেলেদের চুল ফেলা যাবে,মেয়েদের চুল ফেলা যাবে না।
২/স্বামী এক বালতি পানি থেকে জগ দিয়ে পানি নিয়ে গোসল করল,গোসলের সময় শরীরে পানি ঢালার সময় কিছুটা পানি বালতিতেও পড়ে,বালতিতে অবশিষ্ট পানি থাকলে স্ত্রী পরবর্তীতে সেটা দিয়ে ফরজ গোসল করতে পারবে কি?
৩/স্বামী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি গোসল করার পর বালতিতে অবশিষ্ট পানি রেখে আসে,সেটা দিয়ে অন্য কেউ গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে পারবে কি?
৪/সাধারণভাবে বালতি তো গোসল খানার ভিতরেই থাকে, সেটা দিয়েই সবাই গোসল করে,পাক-নাপাক কাপড় ধুয়ে থাকে।বালতি সবসময় ভেজাই থাকে।
এক্ষেত্রে গোসল করার সময় প্রত্যেকবার কি বালতি ধুয়ে তারপর গোসল করতে হবে?নাকি বালতি সবসময় পাক হিসেবে ধরবো?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
সন্তান জন্মের ৭ম দিনে অভিভাবকের দায়িত্ব হল, সন্তানের আকীকা করা, মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং তার সুন্দর নাম রাখা। সপ্তম দিনে বাচ্চার চুলগুলো মুণ্ডন করা ও চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য সদকা করা মুস্তাহাব। 

আলী (রায়িঃ) বলেন:

” عقّ رسول الله – صلى الله عليه و سلم – عن الحسَن بشاةٍ و قال يا فاطمة احلقي رأسه و تصدقي بزنةِ شعره فضّةً ” رواه الترمذي في كتاب الأضاحي، باب العقيقة بشاة.

“আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসানের পক্ষ হতে ছাগল আক্বীকা করেন এবং ফাতেমা (রাযি:) কে বলেন: তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন বরাবর রৌপ্য সদকা করে দাও”।[ তিরমিযী, অধ্যায়, আযাহী, হাদীস নং ১৫১৯]

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সন্তান আকীকার সাথে  দায়বদ্ধ থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু জবাই করবে, নাম রাখবে ও মাথা মুণ্ডন করে দিবে। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান রা.-এর আকীকা দিয়ে ফাতেমা রা.-কে বললেন, তার মাথা মুণ্ডন করে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদকা করে দাও। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১৯)

অপর এক হাদীসে রূপা বা স্বর্ণ সদকা করার কথাও এসেছে। (আলমুজামুল আওসাত, হাদীস ৫৫৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস ৬২০৪; ইলাউস সুনান ১৭/১১৯)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
নবজাতকের জন্মের ৭ম দিনের চুলের ওজন পরিমাণ রুপা বা সেই রুপার সমমূল্যের টাকা সদকা করতে হবে। এটি মুস্তাহাব।

সুতরাং নবজাতক মেয়ের চুল ফেলা যাবে।

(০২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বালতিতে অবশিষ্ট পানি থাকলে স্ত্রী পরবর্তীতে সেটা দিয়ে ফরজ গোসল করতে পারবে।

(০৩)
স্বামী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি গোসল করার পর বালতিতে অবশিষ্ট পানি রেখে আসে,সেটা দিয়ে অন্য কেউ গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতে পারবে।

তবে গায়রে মাহরাম কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ  যদি গোসল করার পর বালতিতে অবশিষ্ট পানি রেখে আসে,সেটা দিয়ে অন্য মহিলা  গোসল করবেনা।
ইসলামী স্কলারগন নিষেধ করেছেন।

তবে পানিটি ফেলে না দিয়ে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে হবে।

(০৪)
বালতিতে নাপাকি লাগা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত না হলে,তাতে নাপাকর কোনো চিহ্ন/গন্ধ না পেলে সেক্ষেত্রে উক্ত বালতি সবসময় পাক হিসেবে ধরবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...