আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (21 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি জিকির করার সময় মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করি।তাই যখন আল্লাহু আকবার পড়ি তখন মনে মনে ভাবি আল্লাহ  পাহাড়,সমুদ্র,সূর্য,চাঁদ,নক্ষত্র,ব্জ্রপাত,জাহাজ,বিমান এগুলো বড়। আর তুমি এগুলো থেকেও বড় আল্লাহু আকবার।

এখন আমার প্রশ্ন ১- এখানে কি আমার আক্বীদাগত দোষ হল যে আমি আল্লাহর সৃষ্টি ও মানুষের তৈরি জিনিসকে বড় বলে তারপর আল্লাহকে বলছি তুমি এর থেকেও বড়।শরিক করা হয়ে গেলো কি আল্লাহর বড়ত্বের সাথে?

আবার সুবহানাল্লাহ পড়ার সময় মনে মনে ভাবি আল্লাহ, তুমি প্রতিটি বিভ্রান্তি থেকে পবিত্র,আল্লাহ, তুমি প্রতিটি অক্ষমতা থেকে পবিত্র,আল্লাহ, তুমি প্রতিটি ভুল বিচার থেকে পবিত্র; আল্লাহ, তুমি প্রতিটি শত্রুতা থেকে পবিত্র; আল্লাহ, তুমি প্রতিটি অভাব-অনটন থেকে পবিত্র, আল্লাহ, তুমি প্রতিটি ক্ষণস্থায়িত্ব থেকে পবিত্র আল্লাহ, তুমি প্রতিটি অনুমান ও কল্পনা থেকে পবিত্র।

এখন আমার প্রশ্ন ২- এই ভাবনাগুলো ভাবা কি ঠিক? আমার ঈমান চলে যাওয়ার ভয় আছে কি এগুলোতে?

প্রশ্ন ৩- তাহাজ্জুদ নামাজের সেজদাহতে আমি নিজের চাওয়াগুলো বলার পরিবর্তে শুধু দুরুদ পড়তে পারবো? মনে এই ভাবনা রেখে যে আল্লাহ তো জানেনই আমি কি চাই আর নবিজি(সাঃ) উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেছেন দোয়ার পুরোটা দুরুদ পড়লে সমস্ত চিন্তা দূর করা হবে, এবং সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।

প্রশ্ন ৪- হায়েজ অবস্থাতে তাহাজ্জুদ এর সময় উঠে সিজদাহ দিয়ে ও মোনাজাতের মত হাত তুলে আল্লাহ কাছে দোয়া করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(১-২)
এভাবে জিকির করতে পারবেন। এতে আপনার ঈমান চলে যাবে না।

(০৩)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

 عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: كُنْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذَا جَلَسْتُ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلَاةَ عَلَيْكَ، فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلَاتِي؟
قَالَ: "مَا شِئْتَ".
قُلْتُ: الرُّبُعُ؟
قَالَ: "مَا شِئْتَ، وَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ".
قُلْتُ: النِّصْفُ؟
قَالَ: "مَا شِئْتَ، وَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ".
قُلْتُ: الثُّلُثَيْنِ؟
قَالَ: "مَا شِئْتَ، وَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ".
قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا؟
قَالَ: "إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ، وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ".

অনুবাদ:
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন —
আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললাম,
“হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করি। আমি আমার দোয়ার কত অংশ আপনার উপর দরূদে ব্যয় করব?”

নবী ﷺ বললেন: “তুমি যতটুকু ইচ্ছা।”

আমি বললাম: “এক-চতুর্থাংশ করলে কেমন?”
তিনি বললেন: “যতটুকু ইচ্ছা, তবে বাড়ালে তোমার জন্য উত্তম।”

আমি বললাম: “অর্ধেক করলে কেমন?”
তিনি বললেন: “যতটুকু ইচ্ছা, তবে বাড়ালে তোমার জন্য উত্তম।”

আমি বললাম: “দুই-তৃতীয়াংশ করলে কেমন?”
তিনি বললেন: “যতটুকু ইচ্ছা, তবে বাড়ালে তোমার জন্য উত্তম।”

আমি বললাম: “আমি যদি আমার সমস্ত দোয়াকেই আপনার প্রতি দরূদে পূর্ণ করি, তাহলে?”

তিনি ﷺ বললেন:

“তাহলে তোমার সমস্ত চিন্তা দূর করা হবে, এবং তোমার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।”
(تُكْفَى هَمَّكَ، وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ)
[জামি‘ আত-তিরমিযি (হাদীস নং 2457)]

ইমাম তিরমিযি বলেছেন: هذا حديث حسن صحيح (এটি হাসান সহীহ হাদীস)।

এছাড়াও ইমাম আহমাদ (মুসনাদ 20748) ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থেও এসেছে।

এই হাদীসের অর্থ হলো —
যদি কেউ বেশি বেশি দরূদ পাঠ করে, তার দোয়া নিজেই কবুল হওয়ার উপায় হয়ে যায়।
এমনকি, কেউ যদি তার অধিকাংশ দোয়া সময় নবীর উপর দরূদে ব্যয় করে, তবে
আল্লাহ তার দুঃখ-চিন্তা দূর করবেন,
 এবং তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন।

অর্থাৎ, দরূদ পাঠ নিজেই দোয়া, এবং দোয়ার কবুল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
তাহাজ্জুদ নামাজের সেজদাহতে আপনি নিজের চাওয়াগুলো বলার পরিবর্তে শুধু দরুদ পড়তে পারবেন।

এতে কোনো সমস্যা নেই।

(০৪)
হায়েজ অবস্থাতে তাহাজ্জুদ এর সময় উঠে সিজদাহ দিয়ে ও মোনাজাতের মত হাত তুলে আল্লাহ কাছে দোয়া করা যাবে।

এতে কোনো সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...