আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (63 points)
reshown by
১।মসজিদের বারান্দার বাহিরে টিন সেড দেওয়া আছে বৃষ্টি যেনো বারান্দায়  না যায়, সেটার কাছাকাছি মসজিদের মাঠে  ব্যাটমিন্টনের মাঠ বানাইছি  সেখানে রেকেটের বাড়ি লাগবে কিনা সিওর না লাগতেও পারে তবে না লাগার সম্ভবনা বেশি আর ফেদার তো হালকা জিনিস লাগলে  ক্ষতি হবে না। ব্যাটমিন্টন খেলতে গেলে চিল্লাতে হয় যেনো ক্রস ব্যাট না হয় মাঝে মধ্যে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি হতেও পারে । মসজিদের অজুখানা বাহিরে সেখানে মসজিদের বাহিরে সিড়িতে  রেস্ট নিলে। নাপাক অবস্থায় অনেকে থাকতে পারে মসজিদের মাঠে।  এশার নামাজের পরে খেললে। এনেকে সেখানে খরের পাড়া দেয় সেগুলো শড়িয়ে দিলে বা সেগুলোর উপর ফেদার গেলে নিয়ে আসলে, বেটের বাড়ি লাগলে, বা খেলার সময় কেউ  পরলে এগুলো তেমন একটা ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না।   অন্য যায়গায় খেলছিলাম সেখানে এখন খেলা যাবেনা যতটুকু দূরে ঘর ছিলো মসজিদের আশে পাশে তার চেয়ে দুরেই হবে মনে হয় ঐ যায়গায় কেউ কিছু বলেনি আশাকরি এখানে কারও কোনো সমস্যা হবে না।গালি দিবে কিনা জানি না তবে কেউ দিলে নিষেধ করবো এমনিতেও মনে থাকলে সবাই একসাথে না থাকলেও কিছু সংখ্যক কে বলে দিবো আর ইমাম সাহেব আমাদের সাথে খেলবেন বলছে ।উপরোক্ত কারন গুলো কি মসজিদ কে অসম্মান করা হবে সেখানে খেললে কি গুনাহ হবে?

২।মসজিদের বিদ্যুৎ দিয়ে খেলবো পরে আমরা বিল দিয়ে দিবো মসজিদের মাঠে  খেলার বেপারে বিদ্যুৎ ব্যাবহারের বেপারে ইমাম সাহেব কে বললে হবে নাকি কমিটির লোকজন কে বলতে হবে?

৩।মসজিদের জলপাই গাছের ডাল কেটে ফেলছি ব্যাটমিন্টন খেলার জন্য  সেক্ষেত্রে কার কাছে মাফ চাইতে হবে আগে  গাছের ডাল কাটার কারনে এখন খেললে কোনো ধরনের গুনাহ হবে কি?

৪।মসজিদ ছাড়া অন্যন্য মাঠে জুয়া ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক রেখে  ফুটবল ক্রিকেট ইত্যাদি খেলার সময় অনেকে শর্ট প্যান্ট পরে আসে তাদের কে নিষেধ করার পরও যদি আসে তাদের সাথে খেললে কি গুনাহ হবে?

৫।ফুটবল কিনে এনে পরে আমাদের থেকে টাকা তুলছে সেখানে সতর খোলা রেখে খেলে এখন আমি যদি টাকা ফিরত না নেই ফুটবলে  শরিক থাকার কারনে গোনাহ হবে কি না?

৬।বিদআতি ইমাম সাহেব কে সম্মান দিলে কি গুনাহ হবে?

৭।বিদআতি অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়া যাবে কি?


৮।বিদআত পন্থিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা যাবে কি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

মসজিদকে সম্মান করা এবং সকল প্রকার অহেতুক ও অপ্রয়োজনীয় কাজ নোংরা বিষয় এবং খেলাধুলা থেকে মসজিদকে মুক্ত রাখা জরুরী। এসব করা মসজিদকে অসম্মান করা।

মসজিদের সম্মান রক্ষায় কেবল তাতে আল্লাহর ইবাদত করা যাবে মর্মে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ [٢٤:٣٦]

আল্লাহ যেসব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; [সূরা নূর-৩৬]

হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ، وَلَا الْقَذَرِ إِنَّمَا هِيَ لِذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَالصَّلَاةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ

অর্থাৎ মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য। {মুসলিম শরীফ হাদীস নং-২৮৫}

সুতরাং বুঝা গেল যে, মসজিদে খেলাধুলা করা জায়েজ নেই। এর দ্বারা মসজিদকে অসম্মান করা হয়। যে কারণে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে, সেই ইবাদত ব্যতীত অন্য কাজে তা ব্যবহার করা গর্হিত অন্যায় ও মারাত্মক গোনাহের কাজও বটে।

তাই যারা এহেন কাজ করেছে, তাদের অচিরেই আল্লাহর ঘরকে অসম্মান করায় তওবা করা উচিত।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
পূর্বের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছিলো যে,
এক্ষেত্রে যদি সেটি খেলার মত মাঠ হয় এবং সেখানে খেলার দরুন মসজিদের কারো ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি না হয়, মসজিদের সম্মান পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হয়, কোনক্রমেই যদি মসজিদের অসম্মানী না হয় এবং উক্ত বিষয়ে মসজিদের কমিটিদের মধ্যে থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের থেকে যদি অনুমতি থাকে, তাহলে সেখানে শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে প্রশ্নে উল্লেখিত খেলাধুলা করা যাবে।

তবে উক্ত খেলায় যেনো জুয়া না থাকে,এবং সতর যেনো পূর্ণ ঢাকা থাকে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে মসজিদ কে অসম্মান করা হবেনা। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেখানে খেললে গুনাহ হবেনা।

(০২)
কমিটির লোকজনকে বলতে হবে।

হিসাব করে পুঙ্খানুপুঙ্খানু ভাবে বিল দিতে হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে বিষয়টি কমিটির কাছে বলে মাফ চাইতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করে দিতে হবে।

(০৪)
এক্ষেত্রে সতর দেখা না গেলে আপনার গুনাহ হবেনা। 

(০৫)
এক্ষেত্রে গুনাহের কাজে সহযোগিতার গুনাহ আপনার হবে।

(০৬)
এটি অনুচিত। 

(০৭)
বিদআতি অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়া যাবেনা।

(০৮)
না রাখাই ভালো।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...