“وَالْعَزْمُ هُوَ النِّيَّةُ” — এটি নিয়তের সংজ্ঞা।
কেহ কেহ বলেন যে এটি “নিয়তের সম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়”, বরং নিয়তের একটি অংশ বা ব্যাখ্যা।
ফুকাহায়ে কেরামগন সাধারণত নিয়তের সংজ্ঞা এভাবে দেনঃ
“قصد الشيء مقترنًا بفعله”
অর্থ: কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত ইচ্ছা/উদ্দেশ্য করা।
“العزم” (দৃঢ় সংকল্প) নিয়তের একটি উপাদান, তবে নিয়ত = কেবল সংকল্প নয়।
তবে কিছু ফুকাহা ব্যাখ্যার সময় বলেন:
“العزم هو النية”
অর্থ: “সংকল্পই নিয়ত”—এটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, পূর্ণ সংজ্ঞা নয়।
হেদায়ার মূল কিতাবে (মতনে) একদম হুবহু বাক্যঃ
“وَالْعَزْمُ هُوَ النِّيَّةُ”
এইভাবে খুজে পাইনি।।
হেদায়ায় নিয়তের আলোচনা আছে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট বাক্য নেই।
★নীচে কিছু কিতাবে এই অর্থবোধক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়—যেখানে নিয়ত, সংকল্প হিসেবে ব্যাখ্যা এসেছে।
(১) بدائع الصنائع –
নিয়তের আলোচনায় “العزم” কে নিয়তের ব্যাখ্যার অংশ বলে উল্লেখ আছে।
(২) حاشية ابن عابدين – رد المحتار
নিয়তের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে “عزم القلب” বলা হয়েছে—অর্থাৎ হৃদয়ের সংকল্পই নিয়ত।
(৩) التوضيح على التنقيح (উসূলুল ফিকহ)
এখানে বলা হয়েছে:
“النية هي العزم على الفعل”
নিয়ত হলো কাজ করার সংকল্প।
(৪) جمع الجوامع
এখানেও একই অর্থ পাওয়া যায়।
(৫) البرهان – امام الحرمین
এখানেও নিয়তকে “عزم” (সংকল্প) দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
(৬) القواعد – ابن رجب
নিয়তকে “قصد وعزم” বলা হয়েছে।
(০২)
শরীয়ত কিছু পরিস্থিতিতে শরঈভাবে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে।
ইসলামী ফিকহে এটি পরিচিত:
الطلاق الواجب (ওয়াজিব তালাক) — বাধ্যতামূলক তালাক
চারটি মাযহাবই এ রায় স্বীকার করে—যদিও ব্যাখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
---
★কোন কোন পরিস্থিতিতে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়?
স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণ-পোষণ (নফকা) প্রদান করতে না পারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে না দেয়
এটি সব মাযহাবে বড় কারণ।
ফুকাহারা বলেনঃ
যদি স্বামী নফকা দিতে অস্বীকার করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে না দেয়, স্ত্রী ফাসখ চাইলে বিচারপতি তাকে তালাক দিতে বাধ্য করবে।
★স্বামীর দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা, যা দাম্পত্য অধিকার নষ্ট করে
যেমন,,গুরুতর মানসিক রোগ,ক্ষতিকর আচরণ,দাম্পত্য অধিকার সম্পূর্ণ পালন অক্ষমতা।
এক্ষেত্রে স্ত্রী কষ্টে থাকলে বিচারক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।
★স্বামীর গুরুতর ক্ষতি বা নির্যাতন।
যেমন,নিয়মিত অপমান,মানসিক অত্যাচার,শারীরিক নির্যাতন,স্ত্রীকে নিরাপত্তাহীন করা,তার অধিকার নষ্ট করা।
স্ত্রী ক্রমাগত ক্ষতির মধ্যে থাকলে আদালত স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করতে পারে।
★ স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা দায়িত্বত্যাগ
অর্থাৎ স্বামী যদি বাড়ি ফেলে রাখে,দায়িত্ব না নেয়, স্ত্রীকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়।
স্ত্রী ফাসখ চাইলে বিচারক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে।
★গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী ক্ষতির সম্মুখীন হলে
যেমন,সংক্রামক বিপদজনক রোগ,দাম্পত্য সম্পর্ক অসম্ভব হওয়া,স্ত্রী স্বাস্থ্যগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
তখন বিচারক বা শরীয়ত স্বামীকে বিচ্ছেদে বাধ্য করতে পারে।
★স্বামী যেকোন অবস্থায় দাম্পত্য সম্পর্ক জোর করে বজায় রাখতে পারে না, ইসলাম স্বামীকে এই স্বাধীনতা দেয় না।
নিম্নলিখিত অবস্থায় স্বামীর “ইচ্ছামতো বিয়ের বন্ধন ধরে রাখা” আল্লাহর নিকট হারাম এবং যুলুম।
যখন স্ত্রী ভরণ-পোষণ পায় না
যখন স্ত্রী শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির মধ্যে থাকে
যখন সংসার তাকে অসুস্থ করে তুলছে
যখন স্বামী জীবনের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে না
যখন স্ত্রী নাফকা/চিকিৎসা/নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত
যখন স্বামী জোর করে স্ত্রীকে কষ্টে রেখে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চায়
★স্ত্রী সরাসরি ফাসখ (বিচ্ছেদ) চাইতে পারে।
বিশেষ করে তিন ক্ষেত্রে:
নফকা না পেলে,মারাত্মক ক্ষতি হলে,অসুস্থতা/দাম্পত্য অধিকার নষ্ট হলে।