আসসালামু আলাইকুম হুজুর।
কিছুদিন আগে আমার সাথে ২ টি ঘটনা ঘটে:
১) বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর আমার অভ্যাস হলো আমি এক গামছা দিয়ে পা মুছি, অন্য এক গামছা দিয়ে লজ্জাস্থান মুছি। গতবার পিরিয়ড চলাকালীন একদিন আমি বাথরুম সেরে বের হওয়ার পর পা মুছতে গিয়ে দেখি যে হাটুতে লজ্জাস্থানের নিচ অংশ বরাবর এক ফোটা পানি, যা একটু লাল। আমি ওত গুরুত্ব দেই না। কারণ যে গামছা দিয়ে সেই অংশ আমি মুছে নেই সেই গামছায় আমি কোনো লাল আভা দেখতে পাই না। হয়তবা অল্প পরিমাণ সেইজন্য। আবার লজ্জাস্থান মুছি যে গামছা দিয়ে, সেই গামছাতে আমি কোনো লাল আভা দেখতে পাই না। তবে গামছা হলুদ আভাবিশিষ্ট হয়েছিল। গামছা যেহ্বতু লাল আভাবিশিষ্ট হয় নাই এবং সেই সময়ে আমার পিরিয়ডের ফ্লো কম ছিল তাই আর আমি প্রথমে দেখা সেই লাল পানির ফোটা নিয়ে গুরুত্ব দেই নাই কোথা থেকে আসলো।
উল্লেখ্য, সেই গামছা পানির সংস্পর্শে আসলে একটু হলুদ আভা দেখা যায়, তবে সেইদিন একটু বেশি ছিল, সেটা কি রক্ত লেগে এমন হয়েছিল? কিন্তু রক্ত তো লাল। তাহলে তো লাল আভা দেওয়া দেওয়ার কথা। কিন্তু এখন আমি ভেবে শান্তি পাচ্ছি না যে আমার গামছা ঐদিন নাপাক হয়ে গেছিল কিনা।
২)
আমার বোন এরও পিরিয়ড চলছিল। সে আর আমি একই গামছা শেয়ার করি। তার পিরিয়ড শেষ হওয়ার দিনগুলোর একদিন আমি গামছায় লাল লাল রং দেখতে পারি, এক সরলরেখা বরাবর কিছু অংশে লেগেছিল। নাপাক নিয়ে চিন্তা করতে করতে খুব সম্ভবত আমি আর পারছিলাম না, তাই আমি নিজেকে তখন প্রবোধ দিচ্ছিলাম যে এটা হয়তবা পিরিয়ডের রক্ত না, এমনও হতে পারে তা মশা মারার ফলে লাগা মশার রক্ত। কিন্তু এখন আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে সেটা যদি আসলেই পিরিয়ডের রক্ত হয়।
তবে আমি গামছা টা সেদিন রাতে শুধু রক্ত লাগা পার্ট টুকু ধুয়ে দিয়েছিল। কিন্তু যেই হ্যান্ডেলে গামছা রাখা হয় সেই হ্যান্ডেল টা মুছি নি। হ্যান্ডেলে রক্ত লেগেছিল আমি ৯৯% সিউর। কারন ভিজা অবস্থায় গামছা টা সেখানে রাখা ছিল।
আমি এবং আমার বাসার সদস্য সেই গামছা দিয়েই পা মুছে আসছি। কয়েকদিন আগে শীতকাল হওয়ায় পা য়ের চামড়া ফেটে যায় তাই সেখানে তেল দেই। সেই তৈলাক্ত পা হতে তেল এখন অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তেল দেওয়ার সময়ও আমার মনে হচ্ছিল যে গামছা নাপাক কিনা ঐগুলো কারণে, তেল দেওয়া ঠিক হবে কিনা। তাও আমি তখন পাত্তা দেই নাই এত। এখন ভাবছি, সবকিছু কি নাপাক হয়ে গেছে? সেই গামছা দিয়ে পা মুছে মা হাত না ধুয়েই রান্নাবান্না করেছে। তারা নাপাকির মাসয়ালা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় ভয়ে কিছু বলতেও পারিনা। বলতে পারলে শুরু থেকে এতগুলো সমস্যা হতোনা। পিরিয়ডের সময় তারা যে গামছায় রক্ত লাগে, সেই গামছা দিয়েই পা মুছে, আবার যে দড়িতে গামছা শুকাতে দেয়,বসেই দড়িও পাক করে না।
আমি আগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। কয়েকদিন করা এইসব ভুলের কারণে আমি নামাজ পড়তে পারছিনা। নামাজ না পড়ে শান্তিও পাচ্ছিনা। আবার নামাজ পড়বই বা কীভাবে যদি সবকিছু নাপাক হয়ে যায়। আমার একার পক্ষে সবকিছু ধৌত করাও এখন সম্ভব না। ভুল গুলো মূলত করেছি তাদের ভয় আর নিজের ❝অলসতা❞,❝অপারগতা❞ আর ❝দূর্বল মনমানসিকতা❞ এর কারণে । আর আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এখন যত জায়গায় নাপাকি ছড়াক, আমি পরে এগুলো পাক করে নিব। বাসার সবকিছু। কিন্তু এই কঠিন কাজ করতে হলে আমাকে অন্তত আরো ১ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যাতে আমার পরীক্ষা শেষ হয়। কিন্তু এখন আমার কিছুই ভাল্লাগছে না এই ভেবে যে আমি কি ভুল করলাম।তবে হুজুর, আমার মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা আছে যদি এসব নাপাক না হয়, যদি সত্যি সত্যি গামছায় যেটা লেগেছিল সেটা পিরিয়ডের রক্ত না হয়, সত্যিই যদি ঘটনা ১ এ দেখা পানির ফোটা টা পিরিয়ডের রক্ত না হয়। হুজুর, এখন দয়া করে বলুন আমার কী করা উচিত?
https://ifatwa.info/48562/
এখানে তো অতিরিক্ত কষ্ট এড়ানোর জন্য সবকিছু পাক ধরার ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল। আমার ক্ষেত্রে ফতোয়া কী?