আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in পবিত্রতা (Purity) by (28 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম হুজুর। 

কিছুদিন আগে আমার সাথে ২ টি ঘটনা ঘটে:

১) বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর আমার অভ্যাস হলো আমি এক গামছা দিয়ে পা মুছি, অন্য এক গামছা দিয়ে লজ্জাস্থান মুছি। গতবার পিরিয়ড চলাকালীন একদিন আমি বাথরুম সেরে বের হওয়ার পর পা মুছতে গিয়ে দেখি যে হাটুতে লজ্জাস্থানের নিচ অংশ বরাবর এক  ফোটা পানি,  যা একটু লাল।  আমি ওত গুরুত্ব দেই না। কারণ যে গামছা দিয়ে সেই অংশ আমি মুছে নেই সেই গামছায় আমি কোনো লাল আভা দেখতে পাই না। হয়তবা অল্প পরিমাণ সেইজন্য।   আবার লজ্জাস্থান মুছি যে গামছা দিয়ে, সেই গামছাতে আমি কোনো লাল আভা দেখতে পাই না। তবে গামছা হলুদ আভাবিশিষ্ট হয়েছিল। গামছা যেহ্বতু লাল আভাবিশিষ্ট হয় নাই এবং সেই সময়ে আমার পিরিয়ডের ফ্লো কম ছিল তাই আর আমি প্রথমে দেখা সেই লাল পানির ফোটা নিয়ে গুরুত্ব দেই নাই কোথা থেকে আসলো। 

উল্লেখ্য, সেই গামছা পানির সংস্পর্শে আসলে একটু হলুদ আভা দেখা যায়, তবে সেইদিন একটু বেশি ছিল, সেটা কি রক্ত লেগে এমন হয়েছিল? কিন্তু রক্ত তো লাল। তাহলে তো লাল আভা দেওয়া দেওয়ার কথা।  কিন্তু এখন আমি ভেবে শান্তি পাচ্ছি না যে আমার গামছা ঐদিন নাপাক হয়ে গেছিল কিনা।

২)

আমার বোন এরও পিরিয়ড  চলছিল। সে আর আমি একই গামছা শেয়ার করি। তার পিরিয়ড শেষ হওয়ার দিনগুলোর একদিন আমি গামছায় লাল লাল রং দেখতে পারি, এক সরলরেখা বরাবর কিছু অংশে লেগেছিল। নাপাক নিয়ে চিন্তা করতে করতে খুব সম্ভবত আমি আর পারছিলাম না, তাই আমি নিজেকে তখন প্রবোধ দিচ্ছিলাম যে এটা হয়তবা পিরিয়ডের রক্ত না,  এমনও হতে পারে তা মশা মারার ফলে লাগা মশার রক্ত। কিন্তু এখন আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে সেটা যদি আসলেই পিরিয়ডের রক্ত হয়। 

তবে আমি গামছা টা সেদিন রাতে শুধু রক্ত লাগা পার্ট টুকু ধুয়ে দিয়েছিল। কিন্তু যেই হ্যান্ডেলে গামছা রাখা হয় সেই হ্যান্ডেল টা মুছি নি। হ্যান্ডেলে রক্ত লেগেছিল আমি ৯৯% সিউর। কারন ভিজা অবস্থায় গামছা টা সেখানে রাখা ছিল। 

 

আমি এবং আমার বাসার সদস্য সেই গামছা দিয়েই পা মুছে আসছি। কয়েকদিন আগে শীতকাল হওয়ায় পা য়ের চামড়া ফেটে যায় তাই সেখানে তেল দেই।  সেই তৈলাক্ত পা হতে তেল এখন অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তেল দেওয়ার সময়ও আমার মনে হচ্ছিল যে গামছা নাপাক কিনা ঐগুলো কারণে, তেল দেওয়া ঠিক হবে কিনা। তাও আমি তখন পাত্তা দেই নাই এত। এখন ভাবছি, সবকিছু কি নাপাক হয়ে গেছে? সেই গামছা দিয়ে পা মুছে মা হাত না ধুয়েই রান্নাবান্না করেছে। তারা নাপাকির মাসয়ালা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় ভয়ে কিছু বলতেও পারিনা। বলতে পারলে শুরু থেকে এতগুলো সমস্যা হতোনা। পিরিয়ডের সময় তারা যে গামছায় রক্ত লাগে, সেই গামছা দিয়েই পা মুছে, আবার যে দড়িতে গামছা  শুকাতে দেয়,বসেই দড়িও পাক করে না। 

আমি আগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম।  কয়েকদিন করা এইসব ভুলের কারণে আমি নামাজ পড়তে পারছিনা। নামাজ না পড়ে শান্তিও পাচ্ছিনা। আবার নামাজ পড়বই বা কীভাবে যদি সবকিছু নাপাক হয়ে যায়। আমার একার পক্ষে সবকিছু ধৌত করাও এখন সম্ভব না। ভুল গুলো মূলত করেছি তাদের ভয় আর নিজের ❝অলসতা❞,❝অপারগতা❞ আর ❝দূর্বল মনমানসিকতা❞ এর কারণে । আর আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এখন যত জায়গায় নাপাকি ছড়াক,  আমি পরে এগুলো পাক করে নিব। বাসার সবকিছু। কিন্তু এই কঠিন কাজ করতে হলে আমাকে অন্তত আরো ১ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যাতে আমার পরীক্ষা শেষ হয়। কিন্তু এখন আমার কিছুই ভাল্লাগছে না এই ভেবে যে আমি কি ভুল করলাম।তবে হুজুর, আমার মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা আছে যদি এসব নাপাক না হয়, যদি সত্যি সত্যি গামছায় যেটা লেগেছিল সেটা পিরিয়ডের রক্ত না হয়, সত্যিই যদি ঘটনা ১ এ দেখা পানির ফোটা টা পিরিয়ডের রক্ত না হয়। হুজুর, এখন দয়া করে বলুন আমার কী করা উচিত? 

 

https://ifatwa.info/48562/

এখানে তো অতিরিক্ত কষ্ট এড়ানোর জন্য সবকিছু পাক ধরার ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল। আমার ক্ষেত্রে ফতোয়া কী?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلَاءِ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَوْكَرِ بْنِ رَافِعٍ الطُّوسِيُّ ، نَا أَبُو إِسْحَاقَ الضَّرِيرُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَكَرِيَّا ، نَا ثَابِتُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، قَالَ : أَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَنَا عَلَى بِئْرٍ أَدْلُو مَاءً فِي رِكْوَةٍ لِي ، فَقَالَ : يَا عَمَّارُ ، مَا تَصْنَعُ ؟ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بِأَبِي وَأُمِّي ، أَغْسِلُ ثَوْبِي مِنْ نُخَامَةٍ أَصَابَتْهُ . فَقَالَ " يَا عَمَّارُ ، إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ : مِنَ الْغَائِطِ ، وَالْبَوْلِ ، وَالْقَيْءِ ، وَالدَّمِ ، وَالْمَنِيِّ ، يَا عَمَّارُ ، مَا نُخَامَتُكَ وَدُمُوعُ عَيْنَيْكَ وَالْمَاءُ الَّذِي فِي رِكْوَتِكَ إِلَّا سَوَاءٌ "

আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল 'আলা (রহঃ) ... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, তখন আমি একটি কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে আমার একটি পানির পাত্রে ভর্তি করছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আম্মার! তুমি কি করছো? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রে লেগে যাওয়া শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছি। তিনি বলেনঃ হে আম্মার! পাঁচটি জিনিস থেকে কাপড় ধৌত করা প্রয়োজনঃ বিষ্ঠা, পেশাব, বমি, রক্ত ও বীর্য। হে আম্মার! তোমার নাকের শ্লেষ্মা, তোমার উভয় চোখের অশ্রু এবং তোমার এই পানির পাত্রের পানি একই সমান (পাক-নাপাকীর হুকুমের ক্ষেত্রে)।
(সুনানে দারা কুতনি ৪৫০)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি সেই গামছাটি নাপাক ধরে পাক করে নিবেন।

(০২)
প্রশ্নে উল্লেখিত যেসব বস্তুতে আপনি নাপাকির চিহ্ন বা গন্ধ পাবেন/পেয়েছেন, সেসব বস্তুকে নাপাক ধরবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 350 views
0 votes
1 answer 215 views
...