প্রকৃত অর্থে যে ব্যাক্তি ওয়াসওয়াসার রোগে রোগী,তার তালাক পতিত হয় না, যদিও সে জিহ্বা দিয়ে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে এবং তালাকের ইচ্ছা না করে, কারণ এই শব্দগুলি ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যাক্তির ইচ্ছা ও নিয়ত ছাড়া উচ্চারিত হয়, বরং সংযমের অভাব এবং প্রতিরোধের শক্তির কারণে সে যা বলা বলতেছে তা সম্পর্কে দ্বিধান্বিত থাকে।
অতএব, তার তালাক পতিত হবে না যতক্ষণ না সে নিশ্চিতভাবে এবং ইতমিনান (সত্য নিয়তের) সাথে তালাক দেয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ وَحَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ بِهِ
‘নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা আমার উম্মতের ওয়াসওয়াসা, মনে মনে কথা বলা ক্ষমা করে দিয়েছেন; যতক্ষণ না সে কর্ম করে কিংবা কথা বলে।’ (সহিহ বুখারী ৬৬৬৪ সহিহ মুসলিম ১২৭)
উকবাহ ইবনু আ’মির রাযি. বলেন,
لاَ يَجُوزُ طَلاَقُ الْمُوَسْوِسِ
‘ওয়াসওয়াসা সম্পন্ন (সন্দেহের বাতিকগ্রস্ত) ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না।’ (সহিহ বুখারী, অধ্যায় ৬৮)
ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ-
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (4/ 224):
’’قال الليث: الوسوسة حديث النفس، وإنما قيل: موسوس؛ لأنه يحدث بما في ضميره. وعن الليث: لايجوز طلاق الموسوس‘‘.
মর্মার্থঃ-
ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যাক্তি অন্তরে যাহা আছে,তাহাই বলে। লাইসি থেকে বর্নীত,তিনি বলেন ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যাক্তির তালাক হয়না।
وفي حاشیۃ الطحطاوي:
’’لو أجری الطلاق علی قلبہ، وحرّک لسانہ من غیر تلفظ یسمع لا یقع وإن صحح الحروف‘‘.(کتاب الصلاۃ: ١/ ٢١٩: قدیمي کتب خانہ)
মর্মার্থঃ-
কোন ব্যক্তির অন্তরে যদি তালাকের কথা জারি হয় এবং শোনা যায় এমন আওয়াজ ছাড়াই যদি তার জবান নড়ায়, এর দ্বারা তালাক পতিত হবে না যদিও হরফগুলো শুদ্ধভাবে সে উচ্চারণ করুক।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
যদি কোন ব্যক্তি ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ হওয়ার কারণে তালাকের শব্দগুলো উচ্চারণ করে বা মনে করে, তাহলে শরীয়তের বিধান হলো তালাক কার্যকর হবে না কারণ তালাকের জন্য শব্দের উচ্চারণ বা নিয়তের দৃঢ় নিয়ত অপরিহার্য, এবং এই নিয়ত ফিসফিসানিতে দৃঢ় হয় না। এগুলো হলো অন্তরে আসা চিন্তা, এবং যদি তালাকের শব্দগুলো জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ না করা হয় অথবা দৃঢ় নিয়তে বলা না হয়, তাহলে তালাক কার্যকর হবে না, তাই ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যাক্তির তালাকের বিধান হলো তা কার্যকর হবে না।
آپ بہ ظاہر مُوَسْوِس معلوم ہوتے ہیں، یعنی: آپ کے ذہن میں خیالات اور وساوس کی کثرت رہتی ہے اور آپ جب اکیلے ہوتے ہیں تو ذہن میں آنے والے وساوس و خیالات آپ زبان سے بھی دہراتے ہیں اور وسوسہ کی شدت سے آپ کی عقل مغلوب ہوجاتی ہے ، پس اگر آپ کی یہی کیفیت ہے جو میں نے سمجھی اور آپ نے مختلف اوقات میں بیوی کا نام اور اس کی طرف نسبت کیے بغیر طلاق کا خیال ووسوسہ زبان سے بھی دہرایا، تو اس سے آپ کی بیوی پر کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی اور اگر کبھی وسوسہ کی شدت کی وجہ سے بیوی کا تصور بھی ذہن میں آگیا اور عقل مغلوب ہوگئی ؛ لیکن آپ نے اسے طلاق دینے کی نیت بالکل نہیں کی تو اس صورت میں بھی آپ کی بیوی پر کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی ۔ اسی طرح آپ نے کسی دن اپنے آپ سے بات کرتے ہوئے یہ کہا کہ اگر وسوسوں سے خلاصی کے لیے میں دوں ، اس کے بعد طلاق کا وسوسہ آیا اور لفظ طلاق زبان سے بھی نکل گیا تو یہ بھی وسوسہ کی شکل ہے، اس سے بھی آپ کی بیوی پر کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی۔آپ وساوس کی طرف توجہ کرنا اور ان میں الجھنا بند کردیں ورنہ آپ کی زندگی اجیرن ہوجائے گی۔ اور اس کا علاج یہی ہے کہ آپ وساوس کی طرف توجہ نہ کیا کریں، اگر آپ کچھ روز اس کی مشق کریں گے تو انشاء اللہ آپ کی یہ پریشانی دور ہوجائے گی، اللہ تعالی آپ کو اس مصیبت سے نجات عطا فرمائیں۔
قولہ ”وموسوس“: بالکسر،……وقال اللیث: الوسوة حدیث النفس، وإنما قیل: موسوس؛ لأنہ یحدث بما في ضمیرہ، وعن اللیث: لا یجوز طلاق الموسوس، قال: یعنی: المغلوب في عقلہ، وعن الحاکم ھو المصاب في عقلہ إذا تکلم یتکلم بغیر نظام کذا فی المغرب (رد المحتار، کتاب الجھاد، باب المرتد، ۶:۳۵۹، ط: مکتبة زکریا دیوبند)، وقال عقبة بن عامر: لا یجوز طلاق الموسوس(الموسوعة الفقہیة،۴۳: ۱۴۸)۔
চার মাযহাব সম্ভলিত সর্ববৃহৎ ফেকহি গ্রন্থ "আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যা"গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে যে,
نَقَل ابْنُ عَابِدِينَ عَنِ اللَّيْثِ: فِي مَسْأَلَةِ طَلاَقِ الْمُوَسْوَسِ أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ طَلاَقُ الْمُوَسْوَسِ ، قَال: يَعْنِي الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
وَنَقَل ابْنُ الْقَيِّمِ: إِنَّ الْمُطْلِّقَ إِنْ كَانَ زَائِل الْعَقْل بِجُنُونٍ أَوْ إِغْمَاءٍ أَوْ وَسْوَسَةٍ لاَ يَقَعُ طَلاَقُهُ، قَال: وَهَذَا الْمَخْلَصُ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ بَيْنَ عُلَمَ ـ اءِ الأُْمَّةِ
- رِدَّةُ الْمُوَسْوَسِ:
٢١ - إِنْ تَكَلَّمَ الْمُوَسْوَسُ بِكَلاَمٍ يَقْتَضِي الرِّدَّةَ لَمْ يَكُنْ فِي حَقِّهِ رِدَّةٌ. صَرَّحَ بِذَلِكَ الْحَنَفِيَّةُ، يَعْنُونَ الْمَغْلُوبَ فِي عَقْلِهِ
ইবনে আবেদিন শামী রাহ বর্ণনা করেন,ওয়াসওয়াসা গ্রস্থ ব্যক্তি -যার বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে বসেছে-তার তালাক গ্রহণযোগ্য নয়।
ইবনুল কাইয়িম রাহ বলেন, যদি তালাক প্রদানকারী ব্যক্তি ওয়াসওয়াসা,বেহুশি বা পাগলাটের দরুণ বিবেকবুদ্ধি লোপ পেতে থাকে, তাহলে তার তালাক গ্রহণযোগ্য হবে না। এর উপর সমস্ত উলামাদের ঐক্যমত রয়েছে।
(আল-মাওসু'আতুল ফেকহিয়্যাতুল কোয়েতিয়্যাহ-৪৩/১৫৬)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/835