আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (8 points)
و عليكم السلام ورحمة الله وبركاته.
আপনার ইনকাম হালাল।
মূলনীতি অনুসারে, যে জিনিসের বৈধ অবৈধ দুই ধরণের ব্যবহার আছে তা প্রোভাইড করার দ্বারা সেই প্রোভাইডার/বিক্রেতা গুনাহগার হবেননা। বরং যিনি তা না জায়েজ পন্থায় ব্যবহার করবেন সেই কনজিউমার গুনাহগার হবেন।
মেক আপ ও মেহেদী ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের এই সাঁজ প্রদর্শনকে মাহরামদের সামনে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। এটা হালাল। আবার চাইলে গাইরে মাহরামদের দেখিয়ে গুনাহ কামাই করতে পারে। পুরোটাই তাদের নিজেদের উপরে নির্ভর করে। তাই গুনাহের বিষয়টাও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
তবে অধিকাংশ মানুষ এসব জিনিস না জায়েজ কাজেই ব্যবহার করে। তাই এদের সেবা দেয়া থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

الله أعلم بالصواب.

___এটা হচ্ছে হানাফী ফিক্বহ গ্রুপে মেহেদী আর ম্যাকাপ আর্টস্ট এর ব্যবসা নিয়ে উত্তর।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে-

১)মেহেদী হোক কিংবা কসমেটিক্স,কাপড় ইত্যাদি যারাই বিক্রি করে, যিনি ক্রেতা সে যদি এই জিনিসগুলো হারাম কাজে ব্যবহার করে এক্ষেত্রে বিক্রেতার কি গুনাহ হবে?সব ব্যবসায়ী তো মার্কেটে অহরহ বিক্রি করছে নানা ধরনের সাজসজ্জার জিনিসপত্র।এখন সবাই কি তাহলে সব কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করবে তারা পর্দা করে কি না?সত্যি কথা তো ১০০ এর মধ্যে ৮০% কাস্টমারই এগুলো গায়রে মাহরামের সাম্নেই ব্যবহার করে তাহলে?এক্ষেত্রে বিক্রেতার করণিয় কি?

২)ওজু পড়ার পর যদি পায়ে পানি জাতীয় নাপাকি লেগে যায় পায়ের তলায়,তাহলে সেই পা না ধুয়ে কুরআন পড়লে কি গুনাহ হবে?নাপাক শুকনো জায়গা যেমন নাপাক বিছানা বা চেয়ারে বসে কি কুরআন পড়া যাবে অথবা শুকনো নাপাক বালিশের ওপর কুরআন রেখে পড়লে গুনাহ হবে?
৩)জেনেশুনে কোনো বেপর্দা নারীকে মেহেদি হাতে দিলে কিংবা এমনিতেই কোনো আত্মীয় যে পর্দা করেনা তাদেরকে সাজিয়ে দিলে আমার কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

গুনাহের কাজ যেমন নিজে করা জায়েজ নেই,গুনাহের কাজে সহযোগিতা করাও জায়েজ নেই।
গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা গুনাহ করারই নামান্তর। 
বিধায় তাহা জায়েজ নেই।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ دَاعٍ يَدْعُو إِلَى هُدًى إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ اتَّبَعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَا مِنْ دَاعٍ يَدْعُو إِلَى ضَلَالَةٍ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ أَوْزَارِهِمْ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا

মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ যেকোন আহবানকারী হিদায়াতের দিকে আহবান করিবে তবে তাহাকে তাহার অনুসরণকারীদের সমান পুণ্য দেওয়া হইবে। অনুসরণকারীদের পুণ্য হইতে বিন্দুমাত্র কম করা হইবে না। আর যেকোন আহবানকারী পথভ্রষ্টতার দিকে আহবান করিবে, তবে তাহার উপর অনুসরণকারীদের পাপসমূহের সমান পাপ বৰ্তাইবে। তাহাতে অনুসরণকারীদের পাপসমূহের এতটুকুও কম করা হইবে না।
(মুয়াত্তা মালিক ৪৯৬)

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)

মৌলিক ভাবে মেহেদী, কসমেটিকস,কাপড় ইত্যাদি বিক্রয় করা জায়েজ আছে। তবে যদি কারোর ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত ভাবে জানেন যে, সে এগুলো ক্রয় করে হারাম প্রদর্শনী করবে। তখন তার কাছে আপনি বিক্রয় করবেন না।


আর যদি এ ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে জানা না যায় যে, সে কী কাজে ব্যবহার করবে। তাহলেও তার কাছে বিক্রয় করা জায়েজ হবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এই ক্ষেত্রে হারাম প্রদর্শনীতে সে ব্যবহার করলে গোনাহ তার হবে। 


(০২)

সেই পা না ধুয়ে কুরআন তেলাওয়াত করলে এতে আপনার গুনাহ হবে না।


কুরআন কে কোন নাপাক বালিশের উপর রাখলে এতে কুরআনের সাথে বেয়াদবি হবে, তাই এমনটি করা যাবে না।


(০৩)

প্রশ্নের বিবরন মতে এতে আপনার গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...