আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
১.আমার হাই স্কুল থেকে একজন হিন্দু বান্ধবী আছে।  আমি সেইসময় জানতাম না যে তাদের অন্তরঙ্গ  বন্ধু বানানো যায় না। আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি জেনেছি অনেক পরে। তারপর আমার পক্ষ থেকে আমি আর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখি নি। মানে আমি যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সেই বান্ধবী এখনো আমাকে অন্তরঙ্গ বন্ধুই মনে করে। কোনো সমস্যা পড়লে আমার সাথে শেয়ার করে। তার সমস্যা শোনা বা পরামর্শের সময় বেশি কথা হয়। এখন এটা কি জায়েজ হচ্ছে?
২.আমি খুব করেই চাই যে সে ইসলাম গ্রহণ করুক। সে আমাকে অনেক কাজে সাহায্য করেছে। আমার খুব খারাপ সময়ে সাপোর্ট করেছে। আমি চাইলেও যোগাযোগ একদম কমাতে পারছি না। তবে আমি নিজে থেকে ওকে খুব কমই মেসেজ দেই। আমাদের বাসা কাছাকাছি। আমি তাও তেমন দেখা করি না। অন্য মুসলিম বান্ধবীরা আসলে তখন সবাই বাসায় এসে দেখা করে। তখন হিন্দু বান্ধবীও আসে। কিছুদিন আগে সে একটা সমস্যায় পড়ে। তখন আমি তাকে বাসায় আসতে বলি। এখন সে তো বেপর্দা হয়ে তার বাড়ি থেকে আমার বাড়িতে এসেছে। এখন এর জন্য কি আমার পাপ হয়েছে??

৩. কিভাবে আমি আন্তরিকতা কমাবো? আর এক্ষেত্রে কি কি করা যাবে না? আমি কি নিজে থেকে তার খোঁজ নিতে পারব?বিস্তারিত জানাবেন দয়া করে।
৪. আমি আগে জানতাম না জন্য এমন বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। ওকে তো বলতেও পারছিনা যে কেনো অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব রাখা যাবে না। সেজন্য যখন কথা হয় তখন আগে যেমন কথা হতো সেভাবেই হয়। এখন এর জন্য কি আমার পাপ হবে?
আমি আগে প্রবলেম ওর সাথে শেয়ার করতাম।এখন আলহামদুলিল্লাহ সেটা  করি না। নিজে থেকে আমি একটু একটু করে আন্তরিকতা কমিয়ে দিয়েছি। কিন্তু মুখের উপর বা সামনা সামনি তো সেটা দেখাতে পারছি না। এর জন্য কি পাপ হবে আমার??

৫. যখন বাসায় এসেছিল তখন আমি কথা বলার সময় এটা বলি যে আমি একটা শ্যাম্পু খুঁজছি।  ওই বলে যে ওটা অদের বাড়ির ওখানে পাওয়া যায়। এখন সে আজ আমাকে বলে যে,ও শ্যাম্পুটা কিনেছে। আজ টিউশনে যাওয়ার সময় আমাকে দিয়ে যাবে। আমি তাকে কিনতে বলিনি। এখন যেহেতু পর্দা করে না, সেহেতু আমি কি সেই শ্যাম্পুটা নিতে পারব? আর না নেয়া গেলে করণীয় সম্পর্কে জানাবেন।

ও যেন ইসলাম গ্রহণ করে তার জন্য দুয়ার দরখাস্ত।

1 Answer

0 votes
by (787,440 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহাম।
জবাবঃ-
অমুসলিমের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ককে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
لاَّ يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاء مِن دُوْنِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللّهِ فِي شَيْءٍ إِلاَّ أَن تَتَّقُواْ مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللّهِ الْمَصِيرُ
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।(সূরা আলে ইমরান-২৮)

কোনো অমুসলিমকে ইসলামের দিকে দীক্ষিত করতে,বা কোনো প্রভাবশালী অমুসলিমের ক্ষতি থেকে নিজেকে হেফাজত করতে তার সাথে বাহ্যিক বন্ধুত্ব রাখা যায়, তবে আন্তরিক বন্ধুত্ব স্থাপন কখনো জায়েয হবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2870


সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
(১)অমুসলিম বান্ধবী আমাকে অন্তরঙ্গ বন্ধুই মনে করলে এতে কোনো সমস্যা হবে না। সে কোনো সমস্যায় পড়লে তার সমস্যা শোনা বা পরামর্শের সময় বেশি কথা নাজায়েয হবে না।

(২) প্রশ্নের বিবরণমতে এজন্য আপনার কোনো পাপ হবে না।

(৩) আপনি নিজে থেকে তার খোঁজ নিবেন না। তাহলে দেখবেন, ধীরে ধীরে আন্তরিকতা কমে যাবে।

(৪) আপনি বাহিরে বাহিরে সম্পর্ক রাখবেন।তার হেদায়ত কমনা করবেন।

(৫) প্রশ্নের বিবরণমতে আপনার গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...