আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
138 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আমি একটা ডিভোর্সি মেয়েকে তার একটা ছেলে সন্তানসহ বিবাহ করেছি। বিয়ের সময় ছেলের বয়স ছিল ৬ বছর, সে তার প্রকৃত পিতার কথা জানেনা, কেননা তার জন্মের ১.৫ বছরের সময় - দুই ফ্যামিলির সম্মতিতে তার বাবা - মার এর মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের পর ছেলেটির প্রকৃত পিতা কখনো আর খোঁজ খবর নেয়নি কিংবা এখনো নেয় না। ছেলেটির বয়স এখন ১২ বছর।

বিয়ের পর থেকে ছেলেটি জানে - আমি-ই তার বাবা। বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রী এবং ছেলে দু'জনের সমস্ত দায়িত্ব, আলহামদুলিল্লাহ্; আমি পালন করে আসছি।

স্কুল - মাদ্রাসায় ভর্তির জন্য ছেলের জন্মনিবন্ধন দরকার। আমি ইউনিয়ন অফিস থেকে জন্মনিব্ধন সার্টিফিকেট করে আনি - ছেলের বাবার নামের জায়গায় আমার নাম দেয়া হয়েছে - কেননা প্রচলিত আইনে বাবা, মা দু''জনের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ব্যতীত জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট করা সম্ভব নয়।

সমাজে চলাচল কিংবা কাগজে কলমে পিতার পরিচয় দিতে হলে - সেখানে আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সে ছোট মানুষ - বন্ধুদের সামনে বা তার উস্তাদ, শিক্ষকদের সামনে যদি তার পরিচয় প্রকাশ পায় যে - আমি তার প্রকৃত বাবা না , তাহলে পরিবেশটা অন্যরকম তৈরি হবে। ছেলেটাও তার স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবেনা।

এখন আমার কিছু প্রশ্ন হলোঃ

১. পিতার নামের জায়গায় আমার (সৎ পিতার) নাম দেয়াটা, ইসলাম এ সম্পর্কে কি বলে?

২. ছেলেকে বিয়ে দেয়ার পর, ছেলের স্ত্রী'র সাথে আমার (মানে শশুরের) পর্দার বিধান কি?

৩. ছেলের সাথে আমার মা, বোন অর্থাৎ ছেলের সৎ দাদী, ফুফু এনাদের সাথে পর্দার বিধান কি?

৪. ছেলের প্রকৃত পিতা তো কোন খোঁজ খবর নেয় না - ছেলে বড় হলে - তার প্রকৃত পিতা, দাদা, দাদী, ফুফু ইত্যাদি এনাদের দায়িত্ব / অধিকার পালনে ছেলেকে কি রকম বা কতটুকু ভূমিকা রাখতে হবে?

৫. সৎ পিতার দিক থেকে ছেলে উত্তরাধিকার সুত্রে কোন সম্পদ (জমি জমা) পাবে কি না?

৬. ছেলে বড় হলে তার প্রকৃত পিতার দিকের সম্পদ সে পাবে, এখন সে ক্ষেত্রে তার ন্যাশনাল আইডি অথবা অন্যান্য কাগজে যদি প্রকৃত পিতার নাম না থাকে, তাহলে সেটা কিভাবে কি হবে?

৭. ছেলেকে যেহেতু তার সৎ পিতা (আমি) লালন পালন করছে, এই মুহূর্তে ছেলে কিছুই জানেনা তার প্রকৃত পিতা কে - লেখা পড়ার ক্ষেত্রে, সমাজে চলার ক্ষেত্রে তার পিতার নাম হিসেবে আমার নাম যদি সে ব্যবহার না করে, তাহলে তো সব ক্ষেত্রে সে হীনমন্যতায় ভুগবে, সমাজে অন্যরা বাকা চোখে দেখবে, এ ক্ষেত্রে কি করণীয়?

৮. ছেলে বড় হওয়ার পর - সৎ পিতার (আমার) প্রতি তার দায়িত্ব কর্তব্য কেমন? সে যদি কোন কিছু পালন না করে, তাহলে সেক্ষেত্রে ইসলাম তাকে দোষী করবে কি না?

৯. ছেলের জন্মনিবন্ধনে যদি প্রকৃত পিতার নাম লিখতেই হয় - এটা তো আরেক ঝামেলা হবে, সেই পিতার এনআইডি কার্ড ম্যানেজ করা, আবার সেই পুরনো গ্রামে যাওয়া ইত্যাদি। এতে করে ছেলের মানসিক অবস্থা, সৎ পিতার প্রতি তার চিন্তাভাবনা ইত্যাদি চেঞ্জ হয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। ছেলেকে শাসন করতে গেলেই মনে করবে, আমি সৎ পিতা তাই এরকম করছি, (শয়তান থাকে বিভিন্নভাবে ধোঁকা দিতে থাকবে)।

১০. সৎ পিতা (আমি) যদি মাসনা করে - তাহলে সৎ পিতার নতুন স্ত্রী এবং নতুন ঘরের ছেলে মেয়ে দের সাথে - ঐ ছেলের সম্পর্ক বা পর্দার বিধান কিভাবে কি হবে?

১১.  ছেলের মা তার হাজবেন্ডকে ডাকতেছে - সাবিকের আব্বু, এটা বলা ঠিক হচ্ছে কিনা, কেননা ছেলের প্রকৃত পিতা তো আমি না।

১২. ছেলেকে যদি সব ঘটনা খুলে বলতেই হয়; তাহলে সেটার সঠিক সময় কখন?

জাজাকাল্লাহু খাইরন

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সন্তানের পিতা মারা যাবার পর মা অন্য কোনো স্বামী গ্রহণ করলে তাকে কি পিতা বলে ডাকা যাবে?
প্রতিউত্তরে বলা যায় যে,
যখন মায়ের বর্তমান স্বামী সন্তানদেরকে আন্তরিকতার চোখে দেখবে।মহব্বত করবে।মমতা দেখাবে।তখন মায়ের ঐ স্বামীকে সন্তানরা বাবা বলে ডাকতে পারবে।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1778


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
১. পিতার নামের জায়গায় (সৎ পিতার) নাম দেয়া জায়েয হবে না।
২. ছেলেকে বিয়ে দেয়ার পর, ছেলের স্ত্রী'র সাথে আপনার পরিপূর্ণ পর্দা করতে হবে।
৩. ছেলের সাথে আপনার মা, বোন অর্থাৎ ছেলের সৎ দাদী, ফুফু তাদেরও পরিপূর্ণ পর্দা করতে হবে।
৪. ছেলের প্রকৃত পিতা খোঁজখবর না নিলে তাদের কিয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে।
৫. সৎ পিতার দিক থেকে ছেলে উত্তরাধিকার সুত্রে কোন সম্পদ (জমি জমা) পাবে না।
৬. ছেলে বড় হলে তার প্রকৃত পিতার দিকের সম্পদ সে পাবে, এজন্য তার ন্যাশনাল আইডি অথবা অন্যান্য কাগজে  প্রকৃত পিতার নাম থাকতে হবে।
৭. ছেলেকে যেহেতু তার সৎ পিতা (আমি) লালন পালন করছে, এই মুহূর্তে ছেলে কিছুই জানেনা তার প্রকৃত পিতা কে -। তার আসল পিতার নাম থাকলে হীনমন্যতায় ভুগবে না। আল্লাহ সেই ধৈর্য্য তাকে দিবেন।
৮. ছেলে বড় হওয়ার পর - সৎ পিতার (আমার) প্রতি তার দায়িত্ব কর্তব্য সাধারণ অনুগ্রহ কারীর মতই। সে কোন কিছু পালন না করলে সেক্ষেত্রে ইসলাম তাকে দোষী করবে না।
৯. ছেলে যাই মনে করুক, তার আসল পিতার নাম দিতে হবে।
১০. সৎ পিতা (আমি) যদি মাসনা করে - তাহলে সৎ পিতার নতুন স্ত্রী এবং নতুন ঘরের ছেলে মেয়ে দের সাথে - ঐ ছেলের সম্পর্ক বা পর্দার বিধান মাহরামের মতই। 
১১.  ছেলের মা তার হাজবেন্ডকে ডাকতেছে - সাবিকের আব্বু, এটা বলা ঠিক হচ্ছে না, কেননা ছেলের প্রকৃত পিতা তো আপনি না।
১২. ছেলেকে যদি সব ঘটনা খুলে বলতেই হয়; তাহলে তখনই বলবেন যখন তার জন্য কল্যাণকর হবে বলে আপনার মনে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...