ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের ভাই ও বন্ধু গ্রহণ করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে বলেন:
« الْمُؤْمِنُ آلِفٌ مَأْلُوفٌ ، وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ » . (رواه أحمد و الطبراني و الحاكم ).
“মুমিন ঘনিষ্ঠ ও বন্ধত্বপূর্ণ ব্যক্তি; আর সে ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।”
তিনি আরও বলেন:
« إنّ حولَ العرشِ مَنابِرُ من نورٍ، عليها قومٌ لباسُهم نورٌ ووجوهُهم نورٌ، ليسوا بأنبياءَ ولا شهداءَ ، يَغْبِطُهُمْ الأنبياءُ والشهداءُ ، فقالوا: يا رسولَ اللّهِ صِفْهُمْ لنا ، فقال: هم المُتَحَابُّونَ في اللّهِ عزّ وجلّ ، والمُتَجالِسُونَ في اللّهِ تعالى ، والمُتَزَاوِرُونَ في اللّهِ تعالى» . (رواه النسائي ).
“আরশের চারিপাশে কতগুলো নূরের মিম্বার রয়েছে, যেগুলোর উপর একদল লোক অবস্থান করবে, যাদের পোশাকে নূর এবং চেহারাতেও নূর, তারা নবী নন এবং শহীদও নন, তাদের প্রতি ঈর্ষা করবে নবী ও শহীদগণ; সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য তাদের একটা বর্ণনা পেশ করুন; তখন তিনি বললেন: তারা হলেন আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে একে অপরকে মহব্বতকারী, পরস্পর আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্য বন্ধুত্ব স্থাপনকারী এবং আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎকারী।” এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/92522
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কাউকে যদি তার তাকওয়া,দ্বীন পালন ইত্যাদির জন্য ভালো লাগে, তার প্রতি অন্তরে মায়া অনুভূত হয়, এবং তারা একই লিঙ্গের হয়, তাহলে এটাকে আল্লাহর জন্য মহব্বত বলা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যদি কারো প্রতি তার গোনাহের কারণে ঘৃণা জন্মে, তার প্রতি ঘৃণা হয়, ব্যক্তি হিসেবে নয় বরং গোনাহের কারণেই ঘৃণা হয়, তাহলে সেটাকে আল্লাহর জন্য শত্রুতা বলে।
বান্ধবীর প্রতি মহব্বত প্রশংসনীয়। মহব্বত এমন পর্যায়ের না হওয়াই উচিত যে, তার সাথে যোগাযোগ না হলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবেন। যেহেতু আল্লাহর জন্য তাকে ভালবাসছেন, তাই এখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরামর্শ মুতাবেক আর হুকুম পালনার্থে যোগাযোগের মাত্রা কমিয়ে দিন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবকিছুতেই মধ্যপন্থাকে ভালবাসতেন।
(১) কোনো হারামের সংস্পর্শে না গিয়ে উনার প্রতি আপনার এই মায়া, টান, ভালোবাসা হারাম হবে না। তবে সীমার বাহিরে যাওয়াও জায়েয হবে না।
২) সব সময় উনার বিপদ আপদে পাশে থাকতে পারবেন। উনার অনেক ভালো একজন বন্ধু হতে হয়ে থাকতে পারবেন।
৩) যদি ছেলে হতো ভালো হতো ইত্যাদি। এগুলো ভাবার কারণে আপনার গুনাহ হবে না।
৪) যদি পরকালে উনি এবং আমি দুজনেই জান্নাতি হই। তাহলে জান্নাতে গিয়ে উনাকে চাইবো। এমন মনোভাব পোষণ করা উচিত না। কেননা সেখানে চাইবেন নাকি তার শত্রু হইবেন? তা আল্লাহই ভলো জানেন।
৫) উনি আমার উপর মায়া, টান, ভালোবাসা রাখতে পারবে।