আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
107 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম।
এমন একটা মেয়ে। আমি অবিবাহিত। আমার বয়স ২০+।
আমি মেয়ে হয়েও একজন বড় আপুকে অনেক ভালোবাসি। উনার বয়স ২৮+
উনি বিবাহিত, উনার ১ বছর বয়সী একটা বাচ্চাও আছে।
উনার সাথে আমার দ্বীনি বিষয়ে ২০২১ সাল থেকে অনেক কথা হতো। আগে দুজনেই ফ্রী থাকার কারণে মাত্রাতিরিক্ত কথা হতো।
তখন আস্তে আস্তে তার উপর আমার মায়া জন্মাতে থাকে। এখন তার উপর আমার অনেক মায়া।
আমাদের ফেসবুকে পরিচয়। দূরত্ব অনেক, যার কারণে এতদিনের মধ্যে দেখা ও হয়নি। হবেও না ইনশাআল্লাহ। শুধু মেসেজে কথা হয়। মাঝে মাঝে অডিও কলে ফোনেও কথা হতো। যেমনটা বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনের সাথে হয়।
আগে মাত্রাতিরিক্ত হলেও এখন মাসের পর মাস কথা বন্ধ থাকে। কোনো যোগাযোগ হয় না। যখন কথা হয়না তখন আমার অনেক কষ্ট হয়। আপুর সাথে কথা বলতে না পারলে আমার ভালো লাগে না। হাউমাউ করে কান্না আসে।
অনলাইনে যত মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। সবার থেকে আমি উনাকে বেশি ভালোবাসি। উনার উপর যেই টান, তা আর কারো উপর নেই।
উনাকে আমি অনেক ভালোবাসি। মনে হয় আপু যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতো তাহলে আপুর সাথে আমার বিয়ে হলে অনেক ভালো হতো। আমি সারাক্ষণ উনার সাথে থাকতে পারতাম। উনার মায়ায় আমি আর পুড়তাম না। চোখের সামনেই তো থাকতো। এগুলো ভাবি আমি। আমি মনে করি ইশ উনি যদি ছেলে হতো তাহলে যদি উনাকে লাইফ পার্টনার হিসাবে পেতাম, কতই না ভালো হতো। উনি বিবাহিত, একটা বাচ্চা আছে। তারপরও আমার এগুলো মনে হয়।
আমি সমকামীও না। উনার উপর আমার কোনো বাজে ফিলিংস ও নেই। আছে উনার উপর অনেক টান, অনেক মায়া। আমি উনাকে আমার নিজের বোনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। অনেক আপন মনে হয়। আমার মনে হয় কত মানুষ তো মেয়ে থেকে ছেলে হয়ে যাই। উনি যদি হতো তাহলে যদি উনাকে হালালভাবে পেতাম।

১)  কোনো হারামের সংস্পর্শে না গিয়ে উনার প্রতি আমার এই মায়া, টান, ভালোবাসা কি হারাম?

২) আমি সব সময় উনার বিপদ আপদে পাশে থাকতে চাই। উনার অনেক ভালো একজন বন্ধু হতে হয়ে থাকতে চাই। আমি কি উনার সাথে বন্ধুত্ব রাখতে পারবো? নাকি কথা না বলাই উত্তম?
৩) আমি যেহেতু আস্তাগফিরুল্লহ সমকামি ও না। আবার উনাকে নিয়ে বাজে কোনো ফিলিংস ও নেই। তবুও এই যে ভাবি উনি যদি ছেলে হতো ভালো হতো ইত্যাদি। এগুলো ভাবার কারণে কি আমার গুনাহ হবে?
৪) যদি পরকালে উনি এবং আমি দুজনেই জান্নাতি হই। তাহলে জান্নাতে গিয়ে উনাকে চাইবো। এমন মনোভাব কি পোষণ করা যাবে?

৫) উনি কি আমার উপর কোনো মায়া, টান, ভালোবাসা রাখতে পারেবে?
by (17 points)
মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম । 
আপনার উত্তরের ৪ নং পয়েন্টটি বুঝতে পারিনি ।  এর অর্থ কী হবে? জান্নাতেও কী শত্রুতা সম্ভব?

1 Answer

0 votes
by (809,370 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের ভাই ও বন্ধু গ্রহণ করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে বলেন:

« الْمُؤْمِنُ آلِفٌ مَأْلُوفٌ ، وَلَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ » . (رواه أحمد و الطبراني و الحاكم ).

“মুমিন ঘনিষ্ঠ ও বন্ধত্বপূর্ণ ব্যক্তি; আর সে ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।”

তিনি আরও বলেন:
« إنّ حولَ العرشِ مَنابِرُ من نورٍ، عليها قومٌ لباسُهم نورٌ ووجوهُهم نورٌ، ليسوا بأنبياءَ ولا شهداءَ ، يَغْبِطُهُمْ الأنبياءُ والشهداءُ ، فقالوا: يا رسولَ اللّهِ صِفْهُمْ لنا ، فقال: هم المُتَحَابُّونَ في اللّهِ عزّ وجلّ ، والمُتَجالِسُونَ في اللّهِ تعالى ، والمُتَزَاوِرُونَ في اللّهِ تعالى» . (رواه النسائي ).

“আরশের চারিপাশে কতগুলো নূরের মিম্বার রয়েছে, যেগুলোর উপর একদল লোক অবস্থান করবে, যাদের পোশাকে নূর এবং চেহারাতেও নূর, তারা নবী নন এবং শহীদও নন, তাদের প্রতি ঈর্ষা করবে নবী ও শহীদগণ; সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য তাদের একটা বর্ণনা পেশ করুন; তখন তিনি বললেন: তারা হলেন আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে একে অপরকে মহব্বতকারী, পরস্পর আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্য বন্ধুত্ব স্থাপনকারী এবং আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎকারী।” এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/92522

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কাউকে যদি তার তাকওয়া,দ্বীন পালন ইত্যাদির জন্য ভালো লাগে, তার প্রতি অন্তরে মায়া অনুভূত হয়, এবং তারা একই লিঙ্গের হয়, তাহলে এটাকে আল্লাহর জন্য মহব্বত বলা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যদি কারো প্রতি তার গোনাহের কারণে ঘৃণা জন্মে, তার প্রতি ঘৃণা হয়, ব্যক্তি হিসেবে নয় বরং গোনাহের কারণেই ঘৃণা হয়, তাহলে সেটাকে আল্লাহর জন্য শত্রুতা বলে।

বান্ধবীর প্রতি মহব্বত প্রশংসনীয়। মহব্বত এমন পর্যায়ের না হওয়াই উচিত যে, তার সাথে যোগাযোগ না হলে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবেন। যেহেতু আল্লাহর জন্য তাকে ভালবাসছেন, তাই এখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরামর্শ মুতাবেক আর  হুকুম পালনার্থে যোগাযোগের মাত্রা কমিয়ে দিন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবকিছুতেই মধ্যপন্থাকে ভালবাসতেন।

(১)  কোনো হারামের সংস্পর্শে না গিয়ে উনার প্রতি আপনার এই মায়া, টান, ভালোবাসা হারাম হবে না। তবে সীমার বাহিরে যাওয়াও জায়েয হবে না।

২)  সব সময় উনার বিপদ আপদে পাশে থাকতে পারবেন। উনার অনেক ভালো একজন বন্ধু হতে হয়ে থাকতে পারবেন।

৩) যদি ছেলে হতো ভালো হতো ইত্যাদি। এগুলো ভাবার কারণে আপনার গুনাহ হবে না।

৪) যদি পরকালে উনি এবং আমি দুজনেই জান্নাতি হই। তাহলে জান্নাতে গিয়ে উনাকে চাইবো। এমন মনোভাব পোষণ করা উচিত না। কেননা সেখানে চাইবেন নাকি তার শত্রু হইবেন?  তা আল্লাহই ভলো জানেন।

৫) উনি আমার উপর মায়া, টান, ভালোবাসা রাখতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...