আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
56 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম

গত কয়েকদিন থেকে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সিজদাতে গেলে মনে হচ্ছে যেন ফোটা ফোটা পস্রাব হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে পায়জামা check করলে বুঝতে পারছি না যে আসলেও পস্রাব বের হয়েছে কিনা। কেননা ওযুর আগেও পস্রাব করে পানি নেয়ার কারণে পায়জামা ভেজাই থাকে, গন্ধ শুকেও বুঝতে পারি না। এসব কারণে নামাযে মনোযোগও থাকে না। কাপড় নাপাক হয়ে গেল কিনা? ওযু ভেংগে গেল কিনা? এসব চিন্তা আসতে থাকে।
আমার প্রশ্ন হলো:
১। এমতাবস্থায় আমি কিভাবে নামায শেষ করব? ওয়াসওয়াসা? নাকি আসলেও পস্রাব বের হয়েছে ধরে নেব?
২। সন্দেহ দূর করতে কি পায়জামার যে জায়গায় পস্রাব লাগতে পারে,শুধু সে জায়গা ধুয়ে নামায পড়লে হবে? কারণ প্রতি ওয়াক্তে  নতুন কাপড় পড়ে নামায পড়া সম্ভব না।
৩। আমি যদি মাটিতে মাথা না লাগিয়ে, অল্প ঝুকে সেজদা দেই তাহলে কি নামায হবে?

1 Answer

0 votes
by (805,200 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১+২)
ولو نزل البول الى قصبة الذكر لا ينقض، لأنه من الباطن، ولو خرج إلى القلفة او إلى اسكنى المرأة ينقض، لأنه من الظاهر (الفتاوى التاتارخانية-١/٢٤١، رقم- ١٨٥)
যদি প্রস্রাব লিঙ্গের ভিতরে থাকে,তবে ছিদ্রের বাহিরে না আসে, তাহলে নাজাসত প্রকাশ না হওয়ার কারণে অজু ভঙ্গ হবে না।তবে লিঙ্গের ভিতরে থেকে যদি ঐ চামড়ায় প্রস্রাব পৌছে যায়, যেই চামড়াকে খতনার সময়ে কর্তন করে নেয়া হয়, তাহলে অজু ভেঙ্গে যাবে।কেননা এটাকো লজ্জাস্থানের বাহির গণনা করা হয়।

البول المنتضح قدر رؤس الإبر معفو للضرورة وإن امتلأ الثوب كذا فى التبيين الخ، هذا إذا كان الانتضاح على الثياب والأبدان، أما إذا انتضح فى الماء فإنه ينجسه ولا يعفى عنه (الفتاوى الهندية-1/46) 
সূইয়ের আগা পরিমাণ প্রস্রাব জরুরতের দরুণ মাফ যদি এদ্বারা কাপড় ভড়ে যাকনা কেন? এই বিধান তখন যখন প্রস্রাব কাপড়ে বা শরীরে লাগবে।তবে যদি ঐ পরিমাণ প্রস্রাব পানিতে পড়ে,তাহলে পানি নাপাক হয়ে যাবে।এটাকে ক্ষমাযোগ্য মনে করা হবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4271

প্রস্রাব করার পর পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার সমস্যা যতোটা না মাসআলা কেন্দ্রীক। তার চেয়ে বেশি মানসিক। তাই প্রথমে নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস আনতে হবে। পেশাব করার পর স্বাভাবিকভাবে পেশাবের ফোটা বন্ধ হওয়া পরিমাণ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। লজ্জাস্থানে কিছুটা পানি ছিটিয়ে দিবেন।
তারপর আপনি পবিত্র হয়ে গেছেন, আপনার আর পেশাব বের হচ্ছে না বা বের হবে না এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে অজু করে নামায পড়তে চলে যাবেন। মনের মাঝে আর কোন সন্দেহ বা সংশয়কে প্রশ্রয় দিবেন না। তারপর যদি আবার পেশাব ঝরে বলে আপনি নিশ্চিত হন, তাহলে ঐ যায়গাটা পবিত্র করে আবার অজু করে নিবেন।
পেশাব ঝরা নিশ্চিত না হলে মনে মনে সন্দেহ সংশয়কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। যদি বারবার অহেতুক সন্দেহ হয়, ভিজা অনুভূত হয়, তাহলে উক্ত সিক্ততাকে পেশাবের পর পানি ব্যবহার করার পানিকে মনে করে মনকে শান্ত রাখবে। কেবল নিশ্চিত হলেই অজু করতে হবে। সন্দেহের কারণে অযু করার প্রয়োজন নেই।
এভাবে সন্দেহ করতে থাকলে তা আপনার জন্য মারাত্মক মানসিক রোগে পরিণত হবে।


(৩)
মাটিতে মাথা না লাগিয়ে, অল্প ঝুকে সেজদা দিলে, এতেকরে নামাযে কোনো সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...