আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
51 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (20 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার এক আত্মীয়, ৩বাচ্চার মা,বিয়ের ১৮বছর পার হয়েছে।খুবই স্বামীর প্রতি যত্নশীল ছিলেন,শারীরিক ভাবে স্ট্রং,সংসারের কাজকর্মে, বাচ্চাদের লালনপালন,স্বামীর সেবা সবদিক দিয়েই ভালো একজন স্ত্রী।কিন্তু গায়ের রঙ শ্যামবর্ন।আর কোন ত্রুটি নেই।তো উনার স্বামী সুন্দরী স্ত্রীর জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করতে মেয়ে খুঁজছে দীর্ঘদিন ধরে।একসময় উনার টাকাপয়সা কম ছিলো,তখন প্রথম স্ত্রী উনার পাশে ছিলো।কিন্তু এখন ব্যবসা বানিজ্য করে বিরাট টাকাপয়সার মালিক হয়েছেন,তো ২স্ত্রীকে নাকি ভরণপোষণ দিতে পারবেন।যদিও উনার প্রথম স্ত্রী রাজি ছিলেন না,খুবই ভালোবাসতেন স্বামীকে।তখন স্বামী তাকে কথা দিয়েছিলো উনাকে নিয়েই জীবন পার করে দিবে।কিন্তু কয়েক মাস পর হঠাৎ করে গোপনে সুন্দরী এক ডিভোর্সি মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করে নেয়।এটা জানাজানি হওয়ার  পর প্রথম স্ত্রী এতটাই ভেঙ্গে পড়ে যে খাওয়াদাওয়া ঘুম সব চলে যায়,কোনরকম বেঁচে আছে৷ জীবনে মানসিক শান্তি বলতে কিছুই দেখছেন না বর্তমানে।

উনার স্বামী দুই স্ত্রীকে দুই বাসায় রেখে একদিন এক স্ত্রীর বাসায় রাতযাপন করে।উনি যে খুব ধার্মিক মানুষ তা না,প্রথম স্ত্রী দেখতে কালো হওয়ায় এখন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সুন্দরী স্ত্রী বিয়ে করেছেন বলতে গেলে।


প্রশ্ন হচ্ছে,উনি কতটা ন্যায় কাজ করেছেন?১৮বছর যেই স্ত্রী পাশে ছিলো,৩টা সন্তান যে জন্ম দিলো,সেই স্ত্রীর কি এখন কষ্ট পাওয়া অন্যায়?উনার প্রথম স্ত্রী কিভাবে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে?উনি যদি আল্লাহর কাছে স্বামীর জন্য বদ দুয়া করে তা কি যায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://www.ifatwa.info/6683 নং ফাতওয়ায় বর্ণিত রয়েছে ,
শরীয়তের বিধান মতে একাধিক স্ত্রীর মাঝে যদি ইনছাফ করতে পারে,তাহলে প্রয়োজনের স্বার্থে একাধিক বিবাহ করতে পারবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন
فانكحوا ما طاب لكم من النساء مثنى وثلاث ورباع 
তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে—দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে (বিয়ে করো)।(সুরা : নিসা, আয়াত-৩)

দ্বিতীয় বিয়ে করার ইসলামী শর্ত বেশ কঠিন অনেক কড়া। আগের স্ত্রীর সব ধরনের হক আদায়ের পর নতুন বিয়ের পরেও সমান তালে সব অধিকার পালন করার আত্মবিশ্বাস থাকলেই কেবল যৌক্তিক কারণে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়।
قال اللہ تعالی:فإن خفتم ألا تعدلوا فواحدة الآیة (سورہ نسا، آیت:۳)
 আল্লাহতায়ালা বলেন, একাধিক বিয়ের সুবিধা যাদের আছে, তারা যদি সম অধিকার বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভীত হও, তাহলে এক বিয়ে পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাক। 
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ : «إِذَا كَانَتْ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّه سَاقِطٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُوْ دَاودَ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِىُّ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোনো পুরুষের দু’জন সহধর্মিণী থাকে আর সে তাদের মধ্যে যদি ন্যায়বিচার না করে, তবে সে কিয়ামতের দিন একপাশ ভঙ্গ (অঙ্গহীন) অবস্থায় উঠবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/6683

একাধিক স্ত্রীর মাঝে দুই বিষয়ে সমতা রক্ষা করা অতীব প্রয়োজন। স্ত্রীদের সঙ্গে রাতযাপন ও ভরণ-পোষণ। 

এ দুই অধিকার সব স্ত্রীর ক্ষেত্রে সমানভাবে স্বামীকে পালন করে যেতে হবে। কোন স্ত্রী সুন্দর বা অসুন্দর, আর কোনটি কুমারী বা বিধবা তা পার্থক্য করা যাবে না। 

কিন্তু কোনো স্ত্রীর প্রতি মনের ভালোবাসা বেশি হওয়া, আবার অন্য স্ত্রীর প্রতি কম হওয়া তা সমতার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা, এটি মনের বিষয়, আর মনের ওপর কারও কোনো অধিকার নেই। একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে শুধু রাতযাপন ও খরচাপাতি এ দুই বিষয়ে সমতা ধর্তব্য। এটাই হলো একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা রক্ষার ইসলামি শরিয়তের বিধান। 

হাদিসে আছে, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) স্ত্রীদের মধ্যে পালাবণ্টন করতেন এবং ন্যায়বিচার করতেন। আর বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আমার শক্তি-সামর্থ্যানুযায়ী পালাবণ্টন করলাম। সুতরাং যাতে শুধু তোমার ক্ষমতা রয়েছে, তাতে আমার শক্তি নেই। কাজেই তাতে তুমি আমাকে ভর্ৎসনা করো না। (তিরমিজি : ১১৭০, আবু দাউদ : ২১৩৬)।

কোনো ব্যাক্তির যদি একাধিক বিবাহ বাস্তবেই খুবই প্রয়োজন হয়, বর্তমান স্ত্রী দ্বারা যদি তার শারিরীক চাহিদা ও অন্যান্য আবশ্যকীয় হক আদায় না হয়,আর সেই একাধিক স্ত্রীর চাহিদা পূরন করতেও সক্ষম হয়,তাদের ভরনপোষণ এর ব্যপারেও পূর্ণ সক্ষম হয়,আর একাধিক বিবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের শর্তাবলী পূর্ণ ভাবে মানার উপরেও সক্ষম হয়,তার জন্য একাধিক বিবাহ অনুৎসাহিত নয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত বোনের স্বামী যদি উভয় স্ত্রীর মাঝে ভরণপোষণ, রাত্রী যাপন এই দুটি বিষয়ে পুরোপুরি সমতা বজায় রেখে চলে, সেক্ষেত্রে ঐ স্বামীর জন্য দ্বিতীয় বিবাহ বৈধ ছিল।

এক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য স্বামীর বিরুদ্ধে বদ দোয়া করা বৈধ নয়। বদ দুয়া করলে সেই বদ দোয়া কবুল হবে না।

তবে যদি স্বামী এক্ষেত্রে সমতা বজায় না রেখে চলে, ভরণপোষণ এর ক্ষেত্রে সমতা বজায় না রাখে, রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় না রাখে, সেক্ষেত্রে স্বামী জালিম বলে সাব্যস্ত হবে।

এক্ষেত্রে স্ত্রী সেই স্বামীর বিরুদ্ধে বদ দোয়া করলে তাহা নাজায়েজ হবেনা।
সেই স্ত্রীর এখন কষ্ট পাওয়া অন্যায় নয়। 

এমতাবস্থায় সমাধানের জন্য পারিবারিক মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে স্বামীকে বুঝাতে পারে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...